অক্সিজেন প্রয়োজন দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে



সংশ্লিষ্টরা বলছেন আরো অন্তত ১শ’ সিলিন্ডার জরুরি

দৌলতপুর প্রতিনিধি

আরো অক্সিজেনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে ৩০ জনের মতো রোগীর নিয়মিত চিকিৎসা চলছে, করোনা আক্রান্ত অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে ভর্তি আছেন ১৬ জন।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, ৪৮ টি সিলিন্ডার দিয়ে সেবা দেয়া হচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও অন্তত ১শ’ সিলিন্ডারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরঞ্জাম প্রয়োজন। অবস্থা খুবই খারাপ। রোগী যেভাবে বাড়ছে, আমরা হিমশিম খাচ্ছি। এভাবে সম্ভব না। পরিস্থিতি ভয়াবহ। চোখের সামনেই অক্সিজেনের অভাবে রোগী মারা গেলে কিছু করার থাকবেনা বলে উল্লেখ করে এই স্বাস্থ্য কমকর্তা বলেন, আপনারা দয়া করে পদক্ষেপ নেন, মিডিয়া এবং বিত্তবানদের সহায়তা প্রয়োজন। এখানে মেডিসিন কনসালটেন্ট নেই। চিকিৎসকেরা পজেটিভ হচ্ছে, তারা সবাই আক্রান্ত হয়ে গেলে হাসপাতাল লকডাউন দিতে হবে।

মোবাইল ফোনে দেয়া এক অফিসিয়াল বক্তব্যে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমরা গণমাধ্যমে ইন্টারভিউ দিয়ে যাচ্ছি কিন্তু এখনও একটা সিলিন্ডারও আসেনি। এদিকে, উপজেলাটিতে এপর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৭শো ছাড়িছে। করোনা আক্রান্ত অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২৪ জনের। বর্তমানে আক্রান্তদের অধিকাংশই নিজ নিজ বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাড়িতে থেকে চিকিৎসারত অবস্থায় শুক্রবার বড়গাংদিয়া এলাকায় রেকাত আলী নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু ঘটেছে।

সম্প্রতি কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য, উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আঃকাঃমঃ সরওয়ার জাহান বাদশাহ্ এবং দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিন আহমেদ করোনা আক্রান্ত অবস্থায় রাজধানীর হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধ বাবা মায়ের চিকিৎসায় ব্যস্ত সময় পার করছেন আফাজ উদ্দিন আহমেদের ছেলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ মামুন। জেলায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক থেকে অন্যতম আলোচনায় থাকা দৌলতপুর উপজেলায় করোনা চিকিৎসায় চিকিৎসক ও সরঞ্জামের ব্যপক সংকট বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *