আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদককে পিটিয়ে জখম, ভাঙচুর ও লুটপাট


=কুমারখালীর জগন্নাথপুর=

কুমারখালী প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক আওয়ামীলীগ নেতাকে ইট দিয়ে রক্তাক্ত জখম করার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চর মহেন্দ্রপুর এলাকায় এঘটনা ঘটে। ওই নেতার নাম ফারুক আজম হান্নান। তিনি জগন্নাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক। এঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি হলে পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় কয়েকটি দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিয়দের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ খান গ্রুপের সাথে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফারুক আজম হান্নান গ্রুপের বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে সোমবার সকালে হাসিমপুর বাঁধে জমিমাপাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বাকবিতন্ডা হয়। এরপর দুপুরে চর মহেন্দ্রপুর গ্রামের সোপায় মন্ডলের বাড়ির পাশে সভাপতি ফারুক ও তার লোকজন সাধারণ সম্পাদক হান্নানকে হাতুরী ও ইট দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে দুইপক্ষের সমর্থকরা মহেন্দ্রপুর বাজারে মুখোমুখি হলে পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

আরো জানা গেছে, ঘটনার ঘণ্টাখানেক পরে সাধারণ সম্পাদকের সমর্থক ও তার ভাইয়েরা হাসিম বাজারে কয়েকটি দোকানে ভাংচুর ও লুটপাট করে। এতে সভাপতি ফারুক সমর্থিত নুর আলম জিকুর দুইটি মোবাইল ও ফ্রিজের শোরুম এবং একটি ডেকোরেটর দোকানে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদকের সমর্থক আব্দুল্লাহ আল বাকি বাদশা বলেন, ফারুখ আজম হান্নানের সাথে চড় মহেন্দ্রপুর থেকে শালিসি বৈঠক করে ফিরছিলাম। পথিমধ্যে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে সভাপতি ফারুক খান, সাবেক ছাত্রনেতা জাকারিয়া খান জেমস, মৃদুল খান, রায়হান খান ও মজিদ মেম্বারসহ প্রায় ২০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পথ অবরোধ করে। এরপর সভাপতি হান্নানের মাথায় হাতুরী ও ইট দিয়ে আঘাত করে। এতে হান্নান গুরুতর আহত হলে ওরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে হান্নান কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এবিষয়ে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ খান মুঠোফোনে বলেন, দীর্ঘদিন দুইপক্ষের বিরোধ চলে আসছে। আজ সকালে জমিমাপা কেন্দ্র করে বকাবকি হয়। এরজেরে আমার আত্মীয় স্বজন ওদের উপর হামলা চালায়। তিনি আরো বলেন, ওরা আমার সমর্থকদের দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাট করে। এবিষয়ে ভুক্তভোগী নুর আলম জিকু’র মা বলেন, হান্নানের লোকজন চোখের সামনে দোকানে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। এতে নগদ টাকাসহ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামীলীগের দু’পক্ষের বিরোধ চলে আসছে। সকালে জমি মাপাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষ উত্তেজিত হয়। এরপর দুপুরে পথ অবরোধ করে সম্পাদককে রক্তার করার খবর শুনেছি। তিনি আরো বলেন, এসময় কয়েকটি দোকান ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *