আগুনে ১৩ করোনা রোগীর মৃত্যু



আলো ডেস্ক

ভারতের মহারাষ্ট্রে একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন করোনায় আক্রান্ত রোগীরা। এর আগে হাসপাতালের বাইরে অক্সিজেন ট্যাঙ্কার লিক হয়ে অক্সিজেনের অভাবে ২৪ করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এবার একটি হাসপাতালে অগ্নিকা-ের ঘটনায় কমপক্ষে ১৩ করোনা রোগীর মৃত্যু হলো। মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাই থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরের ভিরার এলাকার একটি হাসপাতালে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা সবাই ইন্টেন্সিভ কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিজয় বল্লভ হাসপাতালে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। হাসপাতালে আগুন লাগার পর লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিজয় বল্লভ হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী দিলিপ শাহ শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, অগ্নিকা-ের সময় হাসপাতালে প্রায় ৯০ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত মহারাষ্ট্র। এর মধ্যেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। দেশটিতে বৃহস্পতিবার নতুন সংক্রমণ ছিল ৬৭ হাজারের বেশি।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, তিনি দুর্ঘটনার সময় হাসপাতালে দু’জন নার্সকে দেখতে পেয়েছেন কিন্তু সে সময় কোনো চিকিৎসক সেখানে ছিলেন না।
তবে দিলিপ শাহ এ বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, সে সময় চিকিৎসকরা সেখানে ছিলেন। তিনি এটাও জোর দিয়ে বলেছেন যে, হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপক নিয়ম-নীতি সঠিকভাবে পালন করা হয়। দুর্ঘটনার পর বেশ কয়েকজন রোগীকে অন্যান্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
গত ২১ এপ্রিল মহারাষ্ট্রের নাশিক জেলায় একটি হাসপাতালে অক্সিজেন ট্যাঙ্কার লিক হয়ে যাওয়ার কারণে অক্সিজেনের অভাবে ২৪ করোনা রোগীর মৃত্যু হয়।
২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৪ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৮০টি। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হয়েছে ১৩ লাখ ৭০ হাজার ৯২৮ টি।
গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৬২ জন পুরুষ আর নারী ২৬ জন। তাদের ৬৩ জন সরকারি হাসপাতালে ৩৪ জন বেসরকারি হাসপাতালে এবং একজনকে হাসপাতালে মৃৎ আনা হয়েছে।
তাদের মধ্যে ৬০ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ১৫ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর, ৬ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর, ৬ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছর এবং ১ জনের বয়স ১০ বছরের কম ছিল।
মৃতদের মধ্যে ৫৩ জন ঢাকা বিভাগের, ১৮ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩ জন রাজশাহী বিভাগের, ৩ জন খুলনা বিভাগের, ৩ জন সিলেট বিভাগের, ৩ জন রংপুর বিভাগের এবং ৫ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *