আজ হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম লাইলাতুল কদর


আহলান সাহলান মাহে রমজান-২৬

আলহাজ্ব আব্দুম মুনিব
২৬ রমজান আজ। সন্ধ্যা থেকেই ২৭ রমজান শুরু হবে। আজকের রাতটি রমজনের শেষ দশ দিনের বিজোড় রাত লাইলাতুল কদর। গোটা দুনিয়ার মুমিন মুসলমান এ রাতে জেগে থেকে নামাজ, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, কুরআন তেলাওয়াতসহ যাবতীয় ইবাদত-বন্দেগিতে সারারাত কাটিয়ে দেন। মুসলিম উম্মাহর জন্য এ রাতের কিছু করণীয় উল্লেখ করা হলো- ১/কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণ ঃ মানুষের জীবন পরিচালনা গাইড ও সংবিধান পবিত্র কুরআনুল কারিম আজকের রাতেই নাজিল হয়েছে। আর তা ছিল ২৬ রমজান দিবাগত রাত তথা ২৭তম রাত। এ কারণে লাইলাতুল কদরের মর্যাদা এত বেশি। এ রাতে কুরআন নাজিলের সম্মানার্থে আল্লাহ ঘোষণা দিলেন- ‘লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।

সুতরাং কুরআন নাজিলের রাতে কুরআনকে বাস্তবজীবনে বাস্তবায়ন করার অঙ্গীকার গ্রহণের পাশাপাশি বিশ্বনবীর সুন্নতের পরিপূর্ণ অনুসরণের চুরান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করাই হবে লাইলাতুল কদরের সেরা প্রাপ্তি। ২/ গোনাহ মাফ চাওয়া ঃ এ রাতে রাসুল (সাঃ) হজরত আয়েশা (রাঃ) কে আল্লাহর নিকট গোনাহ মাফের দোয়া শিখিয়েছিলেন। তাই উম্মতে মুহাম্মাদির উচিত প্রিয়নবী (সাঃ) শেখানো দোয়ার মাধ্যমে গোনাহ মাফের জন্য তাওবা করা।

দোয়াটির বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালো বাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত) ৩/ কল্যাণের আবেদন ঃ লাইলাতুল কদর যেহেতু হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম রাত। তাই বান্দার জন্য এ রাতের হক বা অধিকার হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভের পাশাপাশি মানুষের দুনিয়ার জীবনে সুখ-শান্তির আবেদন-নিবেদন আল্লাহর দরবারে পেশ করা। যাতে এ রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য সর্বোত্তম ভাগ্য নির্ধারণ করেন। দুনিয়ার যাবতীয় কল্যাণ দান করেন। ৪/ কাযা নামাজ পড়া ঃ মানুষের জীবনে কারণে অকারণে অসংখ্য ওয়াক্ত নামাজ ছুটে যায়। তাদের জন্য নামাজ কাযার সূবর্ণ সময় পবিত্র লাইলাতুল কদর।’ কারণ আল্লাহ তাআলার ঘোষণা, লাইলাতুল কদর হাজার মাসে চেয়ে উত্তম। এ রাতে যদি কেউ এক ওয়াক্ত নামাজ কাযা আদায় করে তবে আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী হাজার ওই ওয়াক্তের নামাজের কাযা আদায় হওয়ার কথা। আর এমনটি আশা করে কাযা আদায় করা মুসলিম উম্মাহর জন্য জরুরি।

সুতরাং এ রাতে কমপক্ষে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ একবার করে কাযা আদায় করা উচিত। আল্লাহ ইচ্ছা করলে এ ওসিলায় বিগত জীবনে ছুটে যাওয়া নামাজগুলোর কাযা আদায়কে কবুল করে ওই বান্দাকে মাফ করে দিতে পারেন। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নামাজ, জিকির-আজকার, কুরআন তেলাওয়াত, হাদিস অধ্যয়ন, দান-খয়রাত, মা-বাবার খেদমতসহ ভালো কাজের মাধ্যমে পবিত্র লাইলাতুল কদর আতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন। আমরা যেন এই মহিমান্বিত বরকতময় রাত কে মহান আল্লাহর ইবাদত বন্দেগির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করতে পারি। আমিন। তথ্য-সংগ্রহ। লেখক- কামিল (আল হাদিস) মাস্টার্স (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।-সঁহরনশংঃ@মসধরষ.পড়স


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *