ইবি শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার আকুতি


অপেক্ষায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী

ইবি প্রতিনিধি

কঠোর লকডাউনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের বিভিন্ন মেসে আটকে পড়া ৫শতাধিকেরও বেশি শিক্ষার্থী গত এক সপ্তাহ ধরে বাড়ি ফেরার আকুতি জানাচ্ছে। করোনায় এ দুই জেলায় শনাক্ত ও মৃত্যুর হার প্রতিদিন বেড়ে চলছে। এমতাবস্থায় মেসে প্রতিনিয়তই আতঙ্কে কাটছে তাদের দিন। করোনা থেকে বাচঁতে তারা যেকোনো মুল্যে বাড়ি যেতে চাইছে। কিন্তু লকডাউনের কারণে যান চলাচল বন্ধ থাকায় তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দিকেই তাকিয়ে আছে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা আগামী ১২জুলাই শিক্ষার্থীদের গুগল ফরমে তথ্য পূরণের সময় শেষ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থী বান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। বাড়ি যাওয়ার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহনে তাদের বিভাগীয় শহরে পৌঁছে দিবে এমনটাই প্রত্যাশা তাদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী শেখপাড়া এলাকায় অবস্থানরত লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহিম মোর্শেদ হিমু বাংলানিউজকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে কোরবানীর ঈদের পর হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে আমি রংপুর থেকে চলে আসি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের মেস গুলো শিক্ষার্থীদের তুলনায় অনেক কম। ঈদের পরে আসলে থাকার জায়গা পাওয়াটা মুশকিল হয়ে যাবে। সেটা ভেবে আমিসহ আমার বন্ধুবান্ধবরা মেসে চলে আসি। তাছাড়া বাড়ি থেকেও তেমন পড়াশোনা হয় না। কিন্তু হঠাৎ করো দুই জেলায় করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় দুই জেলাতেই লকডাউনের ঘোষনা চলে আসে। দিনে দিনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আমরা খুব ই আতঙ্কের মধ্যে আছি। দাওয়াহ বিভাগের আল মামুন নামে অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে করোনার উপসর্গ। যেকোনো সময় আমরা নিজেরাই আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারি। তাছাড়া শেখ পাড়া এলাকায় বেশিরভাগ সময়ই প্রয়োজনীয় ঔষধ পাওয়া যায়না। এমতবস্থায় এখানে অবস্থান করাটা আমাদের জীবন ঝুঁকিসম্পন্ন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি সিদ্ধান্তই পারে আমাদেরকে এ অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে। আমরা প্রশাসনের কাছে জোড় দাবি জানাচ্ছি প্রশাসন যেনো নিজস্ব পরিবহনে আমাদের বিভাগীয় শহরে পৌঁছে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে এখনো পজেটিভ আছি। আগামীকাল ১১টার পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের গুগল ফরমে তথ্য পুরণের সময় শেষ হবে। এরপর এটা নিয়ে বসবো। শিক্ষার্থীদের তালিকা দেখে আমরা পরবর্তী পরিকল্পনা গ্রহণ করবো। আগামী ১৪ তারিখ পর্যন্ত লকডাউন আছে। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে কি সিদ্ধান্ত সেটাও আমাদের দেখতে হবে। জানা যায়, গত ৭জুন আটকে পরা এসব শিক্ষার্থীদের বাড়ি যাওয়ার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহনে বিভাগীয় শহরে পৌছে দেয়ার দাবি জানিয়েছে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রমৈত্রী। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুস সালাম শিক্ষার্থীদের তালিকা করে পরবর্তী পরিকল্পনা নেয়ার কথা বলেন। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের তালিকা চেয়ে বৃহস্পতিবার আগামী ১২জুলাইয়ের মধ্যে গুগল ফরমে শিক্ষার্থীদের আবেদন করার নির্দেশ দেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ১২ তারিখে গুগল ফরমে আবেদনকৃত শিক্ষার্থীদের পরিসংখ্যান করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবে বলে জানা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ও কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ শহরের বিভিন্ন মেসে ৫শতাধিকেরও বেশি শিক্ষার্থী অবস্থান করছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *