এবার মিরপুর পৌর এলাকায় ৭ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ, শহরের ৬ষ্ঠ দিন চলছে


২৪ ঘন্টায় মৃত ১, নতুন শনাক্ত ৭৩

নিজস্ব প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া জেলায় উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমণ। বিশেষ করে ঈদের পর থেকেই এই সংক্রমণের হার বাড়তে শুরু করেছে। সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গতকাল বুধবার কুষ্টিয়া জেলায় নতুন করে ৭৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়। আর মৃত্যু হয় এক জনের। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে তিল ধারণের জায়গা নেই। ওয়ার্ডে বেড না থাকায় বরান্দায় রাখা হচ্ছে রোগীদের। ভিড় বাড়ায় দখল হয়ে গেছে চিকিৎসক ও নার্সদের বসার জায়গায়ও। কুষ্টিয়া শহর এলাকায় দোকান-পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধসহ নানাবিধি নিষেধ আরোপ করার পরও জেলায় প্রতিদিনই আক্রান্ত রোগীর সংখ্য বেড়েই চলেছে। জনসাধারণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। সীমান্তবর্তী জেলা কুষ্টিয়ার পৌর এলাকায় ৭দিনের কঠোর বিধি-নিষেধের আজ ৬ষ্ঠ দিন চলছে। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ১৮ জুন’২১ মধ্যরাত পর্যন্ত ৭দিনের কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করে গণবিজ্ঞপ্তি দেয় জেলা প্রশাসন। এদিকে করোনা সংক্রমণের হার পর্যালোচনা করে মিরপুর পৌরসভা এলাকায় সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলা সভাকক্ষে করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভায় উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস জানান, আজ বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) ভোর ৬টা থেকে পৌর এলাকায় সর্বাত্মক কঠোর বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করে মাইকিং করা হয়েছে। এতে বলা আছে, করোনা ভাইরাসজনিত রোগে সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনায় বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) ভোর ৬টা থেকে বুধবার (২৩ জুন) রাত ১২টা পর্যন্ত মিরপুর পৌরসভা এলাকা ও আশেপাশের বাজার সমূহ সর্বাত্মক কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়। বিধিনিষেধগুলো হলো সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট, দোকান বন্ধ থাকবে। তবে ওষুধ, কাঁচামাল, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন বা সৎকারের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান এর আওতা বহির্ভূত থাকবে। জরুরী প্রয়োজনে কেউ ঘরের বাহিরে গেলে অবশ্যই তাকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত সংখ্যক যাত্রী নিয়ে ইজিবাইক ও ভ্যান রিক্সা চলাচল করতে পারবে। কৃষিপণ্য, খাদ্যসামগ্রী, রোগী পরিবহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবাদানকারী পরিবহন বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে। এদিকে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার তাপস কুমার সরকার। এ অবস্থায় করোনা রোগীর ভিড় সামাল দিতে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি নেয়াকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তিনি জানান,পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোগীদের ভিড় সামাল দিতে আজ বৃহস্পতিবার একশো বেডের নতুন একটি করোনা ওয়ার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন অনুযায়ী গতকাল ১৬ জুন পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলায় ৫৯০৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *