কঠোর লকডাউনে জমজমাট পিঁয়াজের হাট!



কুমারখালী প্রতিনিধি

সংক্রমণ প্রতিরোধে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে চলছে সাতদিনের কঠোর লকডাউন। সেই লকডাউন পালনে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করেই উপজেলার পান্টি কলেজমাঠে বসানো হয় জমজমাট পিঁয়াজের হাট। এতে স্থানীয়রা তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসী, হাট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার পান্টি ইউনিয়ের পান্টি কলেজ মাঠে বসানো হয় সাপ্তাহিক পিঁয়াজের হাট। হাটে স্থানীয়া, উপজেলা, জেলা ও পাশ্ববর্তী জেলা গুলো থেকে কয়েক হাজার ক্রেতা ও বিক্রেতার আগমণ ঘটে। উপজেলার পিঁয়াজের বড় হাটের দ্বিতীয় এটি। বেঁচাকেনাও ভাল হয় হাটে। প্রতি সপ্তাহের মত গতকাল শুক্রবার স্বাভাবিক নিয়মেই বসানো হয় এ হাট। চলমান কঠোর লকডাউন উপেক্ষা করে খুব ভোর থেকেই হাটে আসে ক্রেতা, বিক্রেতা ও হাট কর্তৃপক্ষ। চলে সকাল সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত। প্রতি সপ্তাহের মত আজও জমজমাট হাট বসেছিল। পিঁয়াজের পরিমান ছিল চোখে পড়ার মত। বেঁচাকেনাও ভাল হয়েছে। আরো জানা গেছে, লকডাউন উপেক্ষা হাট বসানোর খবর পান স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্প। খবর পেয়ে হাট ভেঙে দেয় পুলিশ। হাট বসানো সত্যতা নিশ্চিত করে হাটের ক্যাশিয়ার আব্দুল মতিন বলেন, কৃষকদের অনুরোধে হাট বসানো হয়েছিল। প্রায় দুই – তিন শত মণ পিঁয়াজের আমদানি হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, আগে পাঁচ থেকে ছয় শত মণ পিঁয়াজের আমদানি হত। লকডাউনে আজ কম হয়েছে। এবিষয়ে পান্টি ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ড সদস্য তাইজাল বলেন, কয়েকদিনের লকডাউনের কারনে আজ পিঁয়াজের ও মানুষের পরিমাণ বেশি ছিল। ১২ টি ট্রাক লোড করার হয়েছিল। প্রতি ট্রাকে ১৩ টণ করে মাল ধরে। তিনি আরো বলেন, রাতেই স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। পান্টি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ সাখাওয়াত বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেই হাটের ইজারাদারকে ফোনে নিষেধ করেছিলাম হাট বসানো যাবেনা। তবুও সকালে খবর পায় হাট বসানো হয়েছে। পরে হাট ভেঙে দেওয়া হয়। পান্টি পিঁয়াজ হাটের ইজারাদার ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এ এইচ এম আব্দুল্লাহ টিপু মুঠোফোনে বলেন, হাট লাগাতে কমিটিকে নিষেধ করেছিলাম। তবুও হাট লেগেছিল। লকডাউনে হাট বসানো ঠিক হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীবুল ইসলাম খান বলেন, সকাল ১০ টার দিকে হাট বসানোর খবর পেয়েছি। হাট কমিটিকে কারন দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *