করোনায় কুষ্টিয়ার মানবিক ছাত্রলীগ


উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার পৃষ্ঠপোষকতায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

বয়স কুড়ি থেকে ২৫ এর মধ্যে। কুষ্টিয়া শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে এমন এক ঝাঁক তরুণের নিরন্তর ছোটাছুটি। কেউ করোনা আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন, কেউ আক্রান্ত পরিবারের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার বয়ে নিয়ে যাচ্ছে, কেউ পরিবারকে বাজার পাঠাচ্ছেন,কেউ রোগীর ওষুধ কিনে পৌছে দিচ্ছেন, কেউ পালস মাপছেন আবার কেউ রোগীর নাকে অক্সিজেনের নল লাগাচ্ছেন। এখানেই শেষ নয়, করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির দাফনের দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিচ্ছেন তারা। সেখানে নেই কোন জাতি,ধর্ম কিংবা বর্ণ। তাদের কাছে সবাই মানুষ।


যেকোনো সময় শহরের ২১ টি ওয়ার্ডের কোথাও না কোথাও দেখা মিলবে তাদের। না এই যুবকদের কেউ হাসপাতালের কর্মী নন। তবুও গত দেড় বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা ডাক্তার নার্সদের পাশাপাশি এভাবেই করোনা রোগীদের সামলাচ্ছেন। এরা আসলে কুষ্টিয়া শহর ছাত্রলীগের এক ঝাঁক সাহসী কর্মী। করোনায় বিপর্যস্ত কুষ্টিয়া জেলার শহর থেকে গ্রাম। এমন সংকটকালে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে ছাত্রলীগ। তাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাতদিন সমানে কাজ করে চলেছেন এক ঝাঁক ছাত্রলীগ কর্মী। তাদের এই অনন্য দৃষ্টান্ত প্রশংসা কুড়াচ্ছে সব মহলের। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যার আতাউর রহমান আতার পৃষ্ঠপোষকতায় ছাত্রলীগের এক ঝাঁক সাহসী কর্মীকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন শহর ছাত্রলীগের আহবায়ক হাসিব কোরাইশী।

করোনা রোগীর চাপ বিবেচনায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালকে ইতিমধ্যে করোনা ডেডিকেটেড ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ। তবে তাতেও স্থান সংকুলান হচ্ছে না রোগীর। হাসপাতলের করোনা ওয়ার্ডে শয্যার পাশাপাশি রোগীদের ঠাঁই হয়েছে বারান্দা আর করিডোরে। তাদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও ডাক্তাররা। এই দুঃসময়ে এগিয়ে এসেছেন ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা। জীবন বাজি রেখে এক ঝাঁক ছাত্রলীগকর্মী রোগীর জন্য ওষুধ পথ্য কেনায় সহায়তা, অক্সিজেন সরবরাহ, খাবার সরবরাহ, প্রশাসনের কাজে সহায়তা, দাফনসহ নানা কাজ করে চলেছেন নিরলসভাবে। একদিন দুদিন নয়, এক বছরের বেশি সময় ধরে শহর ছাত্রলীগের আহবায়কের নেতৃত্বে ৪২ জনের ছাত্রলীগকর্মী পালা করে এসব কাজ করে চলেছেন।

রাতদিন করোনা ওয়ার্ডে সেবা দিতে গিয়ে অনেকেই এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন এ মারণ ভাইরাসে, আবার বাধা আছে পরিবার থেকেও। তাতে মনোবল হারাননি এই তরুন দল। ইতিমধ্যে শহর ছাত্রলীগের দুইজন করোনা স্বেচ্ছাসেবক সর্দ্দার মোঃ পাভেল ও শোয়েব সৈনিক করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।
শুধু তাই নয়, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার নির্দেশে শহর ছাত্রলীগের কর্মীরা শহরের সেভ ডায়াগনস্টিক এন্ড মেডিকেল সার্ভিসেস এ সকল করোনা রোগীর জন্য সব ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষায় ৫০% ছাড় এবং বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছে।

এই তরুণদের দলনেতা কুষ্টিয়া শহর ছাত্রলীগের আহবায়ক হাসিব কোরাইশী জানান, মানবতার সেবায় সবার আগে থাকতে চাই আমরা কুষ্টিয়া শহর ছাত্রলীগ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার নির্দেশে অসহায় করোনা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ছাত্রলীগ সব সময় মানুষের পাশে থেকেছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকে এই সংকটে মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি।

তিনি বলেন, এতে আমাদের জীবনের ঝুঁকি আছে। এরইমধ্যে বেশ কিছু কর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তারপরেও কেউ দায়িত্ব থেকে সরে যাননি। শুধু এটুকু বলতে চাই আপনাদের পাশে আছি আমরা। ভয় নেই,সচেতন হোন। ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন। ছাত্রলীগ কর্মীদের এই দৃষ্টান্তমূলক কাজে খুশি শহরবাসী ও রোগীর স্বজনরা। করোনায় আক্রান্ত রোগীর পরিবারের সদস্যরা বলেন, যে স্বেচ্ছাসেবকরা সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর নিচ্ছে তারা মূহুর্তের মধ্যেই তাদের বাড়ির বাজার, খাবারের প্রয়োজন হলে বাইরে থেকে খাবার এনে দেওয়া, ময়লা-আবর্জনা ফেলানো, ঔষধ এনে দেওয়া, রোগীর অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়া আরো বিভিন্ন ভাবে সেবা দিচ্ছে। এছাড়াও করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ মৃত্যুবরণ করলে লাশ দাফন ও দাহ কাজও সম্পন্ন করছেন এই শহর ছাত্রলীগের করোনা স্বেচ্ছাসেবক দল।

১১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এজে সুজন বলেন, শহর ছাত্রলীগ কর্মীরা যেভাবে করোনার আক্রান্ত মানুষকে বাঁচাতে লড়াই করে চলেছেন তা নজিরবিহীন। আমিও একজন উপকারভোগী। সেই সংকটকালে তারা আমাকে সার্বিক সহায়তা করেছে। করোনাকালে ছাত্রলীগ কর্মীদের এই মানবিক দৃষ্টান্ত ইতিহাস হয়ে থাকবে।
এদিকে গত দেড় বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তার নার্সদের পাশাপাশি করোনা রোগীদের সামলাচ্ছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের এক ঝাঁক সাহসী কর্মী। এই তরুণদের দলনেতা কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, মানবসেবার থেকে আর কোনো ভালো কাজ হতে পারে না। সেই দায়বদ্ধতা থেকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে লোকবল সংকটে ভোগা ডাক্তার-নার্সের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, যখন কোনো রোগী করোনা কে জয় করে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন তখন তার মুখে থাকে এক চিলতে তৃপ্তির হাসি। সে হাসি টুকু এই করোনা যোদ্ধা ছাত্রলীগ কর্মীদের সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. তাপস কুমার সরকার বলেন, ছাত্রলীগের এই দামাল ছেলেগুলো যদি সময়মতো না এগিয়ে আসতো তাহলে করোনা রোগ চিকিৎসায অনেক সংকট তৈরি হতে পারত। তিনি বলেন, করোনাকালে দেশের সব জায়াগায় ছাত্রলীগ কর্মীরা এমন ভুমিকা রাখলে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সংকট কমে আসবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *