করোনা ওয়ার্ডে ২০০ অক্সিজেন সিলিন্ডার দিলেন সাংসদ মাহবুবউল আলম হানিফ



মানবতার দৃষ্টান্ত রেখেছেন আ.লীগ নেতা অজয় সুরেকা ও ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম


নিজস্ব প্রতিবেদক

কুষ্টিয়ায় সাংসদ মাহবুব উল আলম হানিফের একটি উদ্যোগই বদলে দিল করোনা ওয়ার্ডে অক্সিজেন সরবরাহ চিত্র। তাঁর উদ্যোগে এক দিনের মধ্যে সরকারি অক্সিজেন সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত হলো অক্সিজেনসহ ২০০টি সিলিন্ডার। সাংসদের এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন চিকিৎসক, রোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তিনটি ওয়ার্ড করোনা রোগীতে ঠাসা। সেখানে ১০০ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে ১১৭ জন রোগী ভর্তি আছেন। কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা আছে ১০ জনের জন্য। এ ছাড়া ৩৪৭টি ছোটবড় সিলিন্ডার আছে। কিন্তু রোগীদের চাপে হাসপাতালে থাকা সরকারি অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা যেন কোনোভাবেই চাহিদা মেটাতে পারছিল না। গত রোববার রাতে অক্সিজেনের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেয়। এমন খবর জানার পরপরই কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাংসদ মাহবুব উল আলম হানিফ এক ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে অক্সিজেনসহ ১০০ সিলিন্ডার সরবরাহের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও ব্যবসায়ী নেতা অজয় সুরেকাকে নির্দেশ দেন। অজয় সুরেকা দ্রুত শহরের মনির অক্সিজেন ডিপোতে গিয়ে সিলিন্ডার নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দেন। অজয় সুরেকা বলেন, গত ঈদুল ফিতরের আগে সাংসদ হানিফ জেলার ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন। করোনাকালে অসহায়দের খাদ্যসহায়তার জন্য তিনি করোনা তহবিল গঠন করেন। সেখানে যে পরিমাণ টাকা ওঠে, সেখান থেকে কিছু টাকা ভবিষ্যতের জন্য বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। সেই টাকাই কাজে লাগল। ১০০ সিলিন্ডার গতকাল সোমবার রাতের মধ্যেই হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অজয় সুরেকা আরও বলেন, আরও খুশির খবর হলো, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে আরও ১০০ সিলিন্ডার (বড় আকার) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই সিলিন্ডারগুলোও সাংসদ হানিফের অনুরোধে মনির অক্সিজেন ডিপোর মালিক মনিরুল ইসলাম কোনো টাকা ছাড়াই সরবরাহ করেছেন। যোগাযোগ করা হলে মনিরুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শহরের মোল্লা তেঘরিয়া এলাকায় অক্সিজেন ডিপোটা শুরু করেন। সেটিও সাংসদ হানিফের সহযোগিতায় করতে পেরেছেন। চীন ও ভারত থেকে তিনি সবকিছু সরবরাহ করছেন। বর্তমানে স্পার্ক কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে রিফিল করছেন। তিন দিন আগে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে অক্সিজেন ঘাটতি দেখা দেওয়ার বিষয়টি জানার পর সাংসদ হানিফের নির্দেশে নিজের যতটুকু আছে, তার সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রয়োজনে আরও দেবেন বলে জানান এই ব্যবসায়ী। মনিরুল বলেন, তিনি সিলিন্ডারের কোনো দাম নিচ্ছেন না। অক্সিজেন রিফিল করতে নামমাত্র একটা দাম নিচ্ছেন, যা খুবই সামান্য। এর একটা সিলিন্ডার দিয়ে একজন রোগীকে অন্তত পাঁচ দিন অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব। এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা অজয় সুরেকা করোনা ওয়ার্ডে রোগীদের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করেছেন। করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের স্বজনদের নিরাপত্তার স্বার্থে হাসপাতালে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। সেখানে জেলা ছাত্রলীগের কর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন। গতকাল দুপুর থেকে অজয় সুরেকা ২৫টি পানির জার সরবরাহ শুরু করেছেন। রোগীদের বিছানায় পানি পৌঁছে দিতে ছাত্রলীগের কর্মীরা কাজ করবেন। রোগী ভর্তির হার না কমা পর্যন্ত এ সেবা অব্যাহত রাখা হবে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তাপস কুমার সরকার বলেন, করোনার এই মুহূর্তে সাংসদ হানিফ ও আওয়ামী লীগ নেতা অজয় সুরেকা যে মহতী কাজ করছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। চিকিৎসক হিসেবে তাঁরা রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন এবং হাসপাতাল থেকে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অনেক জেলায় অক্সিজেন–সংকটে রোগী মারা যাচ্ছেন। এটা যাতে কুষ্টিয়ায় না হয়, সে জন্য যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা খুবই ভালো। যার যেটুকু সম্ভব, এভাবে জেলার বিত্তবানেরা এগিয়ে এলে করোনা নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *