কল আছে, জল নেই



কুমারখালী প্রতিনিধি

কয়েকমাস আগেও একমিনিট কল (টিউবওয়েল) চাপলেই কলসি বা বালতি ভরে যেত। কিন্তু এখন আধাঁঘণ্টা ধরে কল চাপলেও কলস ভরেনা । টিউবওয়েলে পানি না থাকায় এ দুঃখ – দুর্দশা এখন কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভাবাসীর। প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় ৯ টি ওয়ার্ডে প্রায় ৬০ হাজারের মত মানুষের বসবাস। জানা গেছে, উপজেলার মাঝে প্রবাহিত অপরূপ প্রমত্ত গড়াই নদী। বসন্ত শেষ হতে না হতেই পানির খুব একটা অস্তিত্ব নেই নদীতে। প্রমত্তা গড়াই এখন ছোট খালে রূপান্তরিত। নেমে গেছে পানির ন্তরও। এর প্রভাবে পৌর এলাকার কলে উঠছে না পানি। এমনকি পৌরসভার সাপ্লাই পানিরও উৎপাদন কমে গেছে। ফলে মানুষসহ জীব-বৈচিত্র পড়েছে হুমকীর মুখে। পানির জন্য চলছে হাহাকার। পৌরসভা সুত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকাদ্বয়ের ৯টি ওয়ার্ডে হোল্ডিং সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই নিজস্ব কল (টিউবওয়েল) আছে। এছাড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় দেয়া হয়েছে আরো প্রায় ৬টি গভীর নলকুপ। পানির স্তর নেমে যাওয়ার কারনে এসব এলাকার প্রায় সব কলই হয়ে পড়েছে অকেজো। যেগুলো কাজ করছে, সেগুলোতে পানি উঠছে অতি সামান্য। পঞ্চাশ বার কল (টিউবওয়েল) চাপলেও এক বালতি পানি উঠছে না। পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এম এ উল্লাস বলেন, পানির সংকট এতটাই প্রকট, যে খাবার পানির পাশাপাশি গোসল, এবং গবাদি পশুর জন্য পানির ব্যবস্থাও নেই। জীবন বাঁচাতে হিমশিম খাওয়া লাগছে। ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মালারানী বলেন, পানির জন্য নদীর চরের প্রায় দেড় দুই কিলোমিটার হেটে যেতে হচ্ছে তাদের। এমন সংকটে আগে কখনো পরেননি। ৫ নং ওয়ার্ড কমিশনার এস এম রফিক বলেন, পানির জন্য পৌরবাসীর হাহাকার। পঞ্চাশ বার কল চাপলেও কলস ভরেনা। এবারই প্রথম এত পানির সমস্যা। উপজেলা জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলী আল আলামিন বলেন, যত্রতত্র সাবমারসেবল (গভীর নলকুপ) পাম্প স্থাপন ও ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এমন দুর্ভোগ। কুমারখালী পৌরসভা মেয়র সামছুজ্জামান অরুন বলেন, নদী গুলোর নাব্যতা না থাকায় পানির স্তর নেমে গেছে। বিগত বছর গুলোর তুলনায় ২৫ থেকে ৩০ফিট নিচে নামায় হস্ত চালিত নলকুপে উঠছে না পানি। তিনি আরো বলেন, এটি একটি প্রাকৃতিক সমস্যা। শুস্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নামার সাথে সাথে নদীর পানিওয়াদি শুকিয়ে যায়। একারনে যেসব নলকুপের লেয়ারকম দেয়া, সেসব নলকুপে পানি না ওঠারই কথা। সেক্ষেত্রে নতুন নলকুপ স্থাপনের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা মাফিক আরো গভিরে লেয়ার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উৎসগুলো থেকে আসা পানি নদীতে সংরক্ষন করা গেলে অনাবৃষ্টি বা শুস্ক মৌসুমে যেমন মিটবে পানির চাহিদা, অন্যদিকে বাড়বে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। আর এভাবেই সম্ভব এই সমস্যা থেকে বেড়িয়ে আসার। এমনটায় মতামত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *