কাছের বন্ধু গ্রাম-পুলিশ (পর্ব-৪)


admin প্রকাশের সময় : মে ২৯, ২০২২, ৫:২৪ পূর্বাহ্ন /
কাছের বন্ধু গ্রাম-পুলিশ (পর্ব-৪)

মো. শহিদুল্লাহ
১৯১৯ সালের গ্রাম স্বায়ত্ত শাসন আইনের ২৩(১) ধারার অধীন প্রত্যেক চৌকিদার প্রতিটি অস্বাভাবিক সন্দেহযুক্ত অথবা আকস্মিক মৃত্যু এবং এই আইনের তফসিল ২ এ বর্ণিত যে কোন সংঘটিত অপরাধের তথ্য থানার ওসি এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হবে। চৌকিদার দফাদারদের দায়িত্বাধীন এলাকায় যে কোনো ধরনের বিবাদ-বিসংবাদ যা মারাত্মক দাঙ্গা-হাঙ্গামা বা সাংঘাতিক কলহে রূপ নিতে পারে সে সম্পর্কে পুলিশকে অবহিত করতে হবে। প্রথমে চেয়ারম্যানকে সংবাদ দিতে যেয়ে যদি যদি মনে হয় থানায় যেতে বিলম্ব হচ্ছে তাহলে চেয়ারম্যানকে সংবাদ প্রদানের জন্য অন্যলোককে দায়িত্ব দিয়ে নিজে সরাসরি থানায় গিয়ে ওসিকে সংবাদ দিতে হবে৷ দ্রুত সংবাদ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কোনো চৌকিদার গাফিলতি করলে তা তার বরখাস্ত হওয়ার অপরাধের শামিল হিসেবে গণ্য হবে, এবং এটা হবে ফৌজদারি অপরাধ যা পেনাল কোডের ১১৮ (মৃত্যু বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধ অনুষ্ঠানের ষড়যন্ত্র গোপনকরণ, যার শাস্তি যে কোনো বর্ণনার কারাদন্ড যার মেয়াদ সাত বছর পর্যন্ত হতে পারে এবং অর্থদন্ডে দন্ডিত হতে পারে) ১৭৬ ধারা (সরকারি কর্মচারীর নিকট নোটিশ দান বা তথ্য সরবরাহ করবার জন্য আইনগত বাধ্য ব্যক্তি কর্তৃক তা দান বা সরবরাহ না করা, যার শাস্তি বিনাশ্রম কারাদন্ড যার মেয়াদ ছয় মাস পর্যন্ত হতে পারে এবং অর্থদন্ড যার পরিমাণ ১০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বা উভয় দন্ড হতে পারে) ও ২০২ (তথ্য প্রদানে বাধ্য ব্যক্তি কর্তৃক অপরাধের তথ্য প্রদানের ব্যাপারে ইচ্ছাকৃত ত্রুটি করা যার শাস্তি যে কোনো বর্ণনার কারাদন্ড যার মেয়াদ ছয় মাস পর্যন্ত হতে পারে বা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ড হতে পারে) ধারানুযায়ী তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে পরিগণিত হয়ে উপরোক্ত ধারামতে শাস্তিযোগ্য হবে। যদি পরবর্তীতে প্রকাশ পায় যে কোনো মারাত্মক ঘটনা অথবা শান্তিভঙ্গের সম্ভাবনা সম্পর্কে রিপোর্ট করতে বিলম্ব ঘটানো হয়েছে অথবা কোন ঘটনা সত্যিকারভাবে গোপন রাখা হয়েছে তাহলে পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট চৌকিদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারবেন এবং কোট অফিসারকে নির্দেশ দিতে পারবেন তিনি যেন দায়ী চৌকিদারের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানান। একজন চৌকিদার দফাদার যখন স্থলপথে ভ্রমণ করবেন তখন তার চলার গতিবেগ ঘন্টায় আড়াই মাইল এর কম হবে না পুলিশ প্রবিধান ৩৬৪ বিধি)। প্রত্যেক দফাদার এবং চৌকিদার প্রাপ্য দ্রুততম পদ্ধতি ব্যবহার করে থানায় দাঙ্গার সম্ভাবনা, মারাত্মক অপরাধমূলক কাজ সংগঠনের অভিপ্রায়, সন্দেহযুক্ত চরিত্রের লোকের উপস্থিতি, মারাত্মক অপরাধ সংঘটন যেমন খুন, ডাকাতি, ঔষধের চোরাচালান, দাঙ্গা এবং অনুরূপ অপরাধ যা অবিলম্বে থানায় রিপোর্ট করা উচিত মর্মে প্রতীয়মান হয় সেই সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করবেন। ফেরারি আসামিদের পলায়ন বন্ধের জন্য স্বাধীনভাবে টেলিফোন বা মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন। চৌকিদার দফাদার প্রেরিত সংবাদ পাওয়ার পর থানার ওসি নিজে অথবা ওসি কর্তৃক মনোনীত পুলিশ অফিসার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাবেন এবং দাঙ্গা, মারাত্মক অপরাধ মূলক কাজ দমনের ক্ষেত্রে কাজ করবেন। সন্দেহজনক চরিত্রের লোকদের দমন এর সুযোগ গ্রহণ করবেন অপরাধী যদি পলাতক আসামি বলে জানা যায় এবং চৌকিদার ও দফাদার যদি এই মর্মে একমত হন যে অপরাধী একটি নির্দিষ্ট দিকে পলায়ন করেছে তাহলে খানা রেলওয়ে স্টেশন বা ঘাটের পুলিশ কর্মকর্তার নিকট পলাতক ব্যক্তির বর্ণনা এবং যে অপরাধের সাথে সে জড়িত তা ফোন বা মোবাইলের মাধ্যমে দ্রুত জানিয়ে দিলে অপরাধীর পলায়ন এর উদ্দেশ্য নস্যাৎ হতে পারে। যদি মনে হয় নিকটবর্তী চৌকিদার দফাদারকে এ বিষয়ে ফোনে বা মোবাইলে সংবাদ পাঠিয়ে দিলে আসামিকে প্রেপ্তার করা সম্ভব তাহলে টেলিফোন বা মোবাইলে এ সংবাদ পাঠিয়ে দেয়া যেতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একাধিক টেলিফোনিক সংবাদ প্রেরণও দরকার হতে পারে। যদি কোন হত্যাকান্ড সংঘটিত হয় তাহলে চৌকিদার বা দফাদার শুধু সংঘটিত এলাকার ওসিকে মোবাইলে সংবাদ পাঠাবেন না হত্যাকারী যে এলাকার দিকে পালিয়ে গিয়েছে বলে তার সন্দেহ হয় সেই এলাকার ওসিন নিকট তারা সংবাদটি পাঠাবেন, এর ফলে সম্ভব হলে সংবাদ প্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা হত্যাকারীকে ধরার চেষ্টা করবেন। যে এলাকায় হত্যাকারী পালিয়ে গিয়েছে সেই এলাকায় কোন থানা আছে কিনা জানা না থাকলে চৌকিদার বা দফাদার জেলা রেলওয়ে পুলিশ এর পুলিশ সুপার সহ জেলা পুলিশ সুপারকে মোবাইল বা প্রাপ্ত যোগাযোগের মাধ্যমে সংবাদটি পাঠাবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত চৌকিদার দফাদার অর্থপ্রদান ব্যতিরেকেই পুলিশ কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত সংবাদ প্রেরণের ক্ষেত্রে সরকারি ও রেলওয়ে সংবাদ প্রধান মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন। সংক্ষিপ্ত কথায় সংবাদ প্রদান করতে হবে। ফেরারি আসামী গ্রেফতারের ক্ষেত্র ব্যতীত আসামির নাম ঠিকানা ইত্যাদির বিস্তারিত বিবরণ না দিলেও চলবে। সংবাদ প্রদানের সময় চৌকিদার বা দফাদারকে চেনার সুবিধার জন্য তাদের ইউনিফর্ম পরিধান অবস্থায় থাকতে হবে, ইউনিফর্ম পরিধানের সুযোগ না থাকলে তাদের নিয়োগ পত্র সাথে রাখতে হবে। সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে চৌকিদার দফাদার উপরোক্ত মাধ্যম স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারবেন, তবে মনে রাখতে হবে শুধুমাত্র উপরোক্ত ক্ষেত্রেই তারা এটা ব্যবহার করতে পারবেন কোন ব্যক্তিগত কাজে নয় পুলিশ প্রবিধান ৩৬৫ বিধি) চৌকিদার চেয়ারম্যান বা জরুরী পরিস্থিতিতে আনার ওসির নির্দেশ ব্যতীত নিজ দায়িত্বাধীন এলাকা ত্যাগ করতে পারবেন না। ইউনিয়নের অধিবাসীদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তার জন্য চৌকিদার বা দফাদাররা যেন রাত্রিতে এলাকা পাহারা দেন সে সম্পর্কে নির্দেশ আছে। এই উদ্দেশ্যে নিজের দায়িত্বাধীন এলাকা থেকে কোনো চৌকিদারকে দূরে নিয়ে যাওয়া কোনো পুলিশ কর্মকর্তার উচিত নয়। বিশেষ জরুরী পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান-এর সাথে আলাপ না করে পুলিশ কর্মকর্তা কখনোই কোন গ্রাম পুলিশকে তার নিজ দায়িত্বাধীন এলাকার বাইরে ডিউটির জন্য নিয়ে যাবেন না। পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে চেয়ারম্যানের সাথে আলাপ করার মত সময় নেই তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব এই বিষয়ে চেয়ারম্যানকে অবহিত করানো। কোন অপরাধ এলাকার সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো চৌকিদার দফাদারকে নিয়োগের প্রয়োজন হলে থানার ওসি ইউনিয়নবোর্ড সদস্যদের নিকট গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিয়ে বুঝাবেন যে ইউনিয়নের অধিবাসীদের স্বার্থেই অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। গর্ভনর ভাইসরয় বা রাজকীয় পরিবারের সদস্যদের ভ্রমণের সময় রেলওয়ে লাইন পাহারা দেয়ার জন্য দফাদার ও চৌকিদারদের ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে শর্ত এই যে যে অফিসার তাদের ওই কাজে নিয়োগ করবেন তাকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট সময়মতো সংবাদ দিতে হবে। ইউনিয়নবোর্ড ম্যানুয়েল ভলিউম-২ বিধি ৪৫, (পুলিশ প্রবিধান ৩৬৭ বিধি) থানার কোনো পুলিশ অফিসার দফাদার বা চৌকিদারদের ব্যক্তিগত বা কোন দৈহিক অসম্মানজনক কাজে নিয়োগ করতে পারবেন না। এই নিষেধাজ্ঞা পালিত হচ্ছে কি-না তা পুলিশ সুপারগন দেখবেন এবং থানা পরিদর্শনকালে তিনি বিশেষভাবে এই সম্পর্কে অনুসন্ধান করবেন এবং অফিসারদের বার্ষিক রিপোর্টে তা উল্লেখ করবেন (পুলিশ প্রবিধান ৩৬৮ বিধি)