কাছের বন্ধু গ্রাম পুলিশ পর্ব-৩


admin প্রকাশের সময় : মে ২৮, ২০২২, ৭:৫৮ পূর্বাহ্ন /
কাছের বন্ধু গ্রাম পুলিশ পর্ব-৩

: মো.শহিদুল্লাহ :
গ্রাম পুলিশের দফাদার ও চৌকিদার ১৮৭০সালের গ্রাম চৌকিদারী আইন (১৮৭০ সালের ৬ নম্বর আইন) ১৯১৯ সালের স্বায়ত্তশাসিত সরকার আইন (১৯১৯ সালের ৫ নম্বর) আইন-এর অধীন নিয়োগ লাভ করেন। তারা কথিত দুই আইন সহ চৌকিদারি ম্যানুয়েল ইউনিয়ন পরিষদ ম্যানুয়েল খন্ড ১ এবং ২ এ প্রদত্ত বিধির অধিন। সাব ইন্সপেক্টর এবং তদুর্ধ পুলিশ অফিসারকে উক্ত দুটি খন্ডে বর্ণিত বিধি সম্পর্কে বাধ্যতামূলকভাবে অবহিত থাকতে হবে। ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের অধীন গ্রাম পুলিশ সদস্যরা নিয়োগ লাভ করেন না। শুধুমাত্র ১৮৬১ সালের গবাদিপশু অনধিকার প্রবেশ আইনের ৩ ধারানুযায়ী ক্ষেত্রে তারা পুলিশ। পেনাল কোডের ২১ ধারা মোতাবেক তারা সরকারি কর্মচারী। অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্ন উত্থাপিত হয় চৌকিদার দফাদারদের গ্রামপুলিশ বলা হলেও তারা কি পুলিশ অফিসার? পুলিশ প্রবিধান অনুযায়ী চৌকিদার রা গ্রামপুলিশের সদস্য হিসেবে পরিচিত। ১৮৬১ সালের ৫ নম্বর আইনের ১২ নম্বর সেকশনের আলোকে স্বতন্ত্রভাবে পুলিশ প্রবিধান ৩৬২ ধারার সৃষ্টি৷ ৯৪১১ অর্ডার পি ওয়ানে যে নোটিফিকেশন জারি করা হয় তার পরিশিষ্ট পুলিশ আইনের ১২ নম্বর সেকশন অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই। তা ব্যতীত ৩৬২ প্রবিধানের সর্বশেষ সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই পরিচ্ছেদে বর্ণিত প্রবধান সমূহ ব্যাখ্যা বা পরামর্শমূলক কোন ক্ষেত্রে উহা যারা মেনুয়াল আইনে অগ্রাহ্য করা যাবে না উপরোক্ত বাক্যের অর্থ হলো ম্যানুয়েল ও আইনের যেখানে বিধান রয়েছে সেখানে প্রবিধান গ্রাহ্য হবে না, প্রবিধানে উল্লেখ রয়েছে যে গ্রাম পুলিশের সদস্যরা পুলিশ অফিসার নহেন। কুইন এমপ্রেস বনাম সলিমুদ্দিন শেখের মামলায় (কলি ডব্লিউ এন ডব্লিউ ৩) মহামান্য আদালত ই ভি অ্যাক্টের ২৫ নম্বর সেকশন এর আওতা বিবেচনা করে এই প্রশ্নের ইতিবাচক জবাব দেন। ১৮৭৩ সালের ১৬ নম্বর আইন অনুযায়ী চৌকিদার একজন পুলিশ অফিসার। (দেবকী নন্দন বনাম আর ১৯৩৬ এ এল এল ৮৫, এ আই আর ১৯৩০ এ এল এল ৭৫১)। দফাদার একজন পুলিশ অফিসার (কুরু বনাম আর এ আই আর ১৯৪০ পাটনা ৪১০)১৮৭২ সালের গ্রাম প্রশাসন আইন অনুসারে গ্রামপুলিশ অফিসার বলতে একজন চৌকিদারকেও বুঝায়। পুলিশের কাজে সহায়তা প্রদানের জন্য চৌকিদার দফাদারদের গুরুত্ব অপরিসীম৷ তাদের সহায়তা ব্যতীত একজন কর্মঠ কর্মকৌশল পুলিশ অফিসার থানা এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামে কী ঘটছে তা জানতে পারেন না৷ একজন চৌকিদার বা দফাদার উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বা অতি প্রত্যুৎপন্নমতি এজেন্ট নাও হতে পারেন, কিন্তু তার পরেও তারা ভাল কাজ করতে সক্ষম। থানার অফিসার ইনচার্জ-এর কর্মকুশলতা চৌকিদার দফাদারদের প্রতি মনোযোগ এবং যতœ নেয়ার উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। ১৮৭০ সালের গ্রাম চৌকিদারী আইনের ৩৯ এবং ৪০ ধারা, চৌকিদারি ম্যানুয়েল এর ৬ নম্বর সেকশনের রুল, ১৯১৯ সালের গ্রাম শ্বায়ত্ত শাসন আইন এর ২৩ ধার এবং উক্ত আইনের অধীনে প্রণীত চৌকিদারী বিধির ৩৬ এবং ৩৮ নম্বর বিধি এবং ইউনিয়ন পরিষদ ম্যানুযয়েল তৃতীয় খন্ড বর্ণিত রুল দারা চৌকিদার দফাদারদের কর্তব্য কর্ম নির্ধারিত হয়েছে (পুলিশ প্রবিধান ৩৬২ বিধি)। চৌকিদার দফাদার গ্রামে সংঘটিত কোনো অগ্নিকান্ড, ঝড়, বন্যা, টেলিফোন ও টেলিফোনের খুঁটি বা তারের ক্ষতি সম্পর্কে অনতিবিলম্বে থানায় রিপোর্ট করবেন৷ কোনো নদী রাস্তা বা শস্যের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশংকা দেখা দিলে কিংম্বা মানুষ বা পশুর মহামারী দেখা দেওয়া-সহ স্হায়ী ফসলের বর্তমান অবস্হা সম্পর্কে থানাকে অবহিত করবেন। দফাদারগন তাদের অধীনস্থ চৌকিদারদের সঠিকভাবে পরিচালনা করছে কি-না তা কর্মকর্তাগন সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখবেন৷ কোনো ইউনিয়নে দুই বা ততোধিক দফাদার থাকলে থানার ওসি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করবেন তাদের দায়িত্ব নির্ধারণ করে দেওয়ার জন্য। কোনো চৌকিদার কর্তব্যে অবহেলা করে তার কারণ প্রদর্শন করলে তা সংশ্লিষ্ট দফাদার বা থানার কোনো অফিসার প্রদর্শিত কারণ সম্পর্কে নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করবেন। গ্রামের সীমানা-চিহ্ন ক্ষতিগ্রস্ত বা নিশ্চিহ্ন হলে চৌকিদার দফাদার থানায় ওসিকে রিপোর্ট করবেন, বিষয়টি থানায় জিডি করতে হবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট থেকে নির্দিষ্ট নির্দেশ না পেলে সীমানা চিহ্নের কোনো ক্ষতির অভিযোগ পুলিশ তদন্ত করবে না,কিন্তু গ্রামের অভ্যন্তরে যাতায়াতের সময় সীমানা চিহ্ন সঠিক স্থানে আছে কিনা তা দেখবেন। কোনো ত্রুটি লক্ষ্য করলে তা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট-এর কাছে রিপোর্ট করবেন (পুলিশ প্রবিধান ৩৬৩ বিধি)(চলবে)