কুমারখালীতে প্রতিপক্ষের হামলায় আ.লীগ সম্পাদক আহত,থানায় মামলা



কুমারখালী প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর জগন্নাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আজম হান্নান আহতের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আহত সম্পাদক নিজেই বাদী হয়ে গত সোমবার (১৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টার পরে ১২জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৩০। আসামীরা হলেন – জগন্নাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ খান, কুমারখালী পৌর আওয়ামীলীগের সদস্য জাকারিয়া খান জেমস, কুন্ডুপাড়ার মৃত আব্দুল আজিজ খানের ছেলে ফরিদ খান, মহেন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল খালেক খানের ছেলে মৃদুল খান, কুদ্দুসের ছেলে সেলিম হোসেন, মৃত তিছা মোল্লার ছেলে জব্বার মোল্লা, মৃত কাদের মোল্লার ছেলে জালাল মোল্লা, হরিয়াগাছির ইমান মন্ডলের ছেলে আতিয়ার রহমান, দয়রামপুর গ্রামের ইয়াকুব মোল্লার ছেলে নুর আলম জিকু, মৃত আফতাব শেখের ছেলে আতারুল, লিয়াকতের ছেলে মিরাজ হোসেন, কল্যানপুর গ্রামের নবির আলীর ছেলে সেলিম হোসেন। এছাড়াও অজ্ঞাত আরো ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। এবিষয়ে আহত সম্পাদক ফারুক আজম হান্নান বলেন, সোমবার দুপুরে সালিস শেষে ফিরছিলাম। পথিমধ্যে সভাপতি ফারুক, জেমসসহ ১৫/২০ জন আসামী প্রথমে পথ অবরোধ করে। এরপর পূর্বশত্রুতার জেরে হাতুরী, হাসুয়াসহ নানাবিধ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতারি মাথায় কোঁপ দেয়। এতে গুরুতর আহত হলে আসামীরা পালিয়ে যায়। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে আমাকে। জগন্নাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ খান মুঠোফোনে বলেন, দীর্ঘদিন দুইপক্ষের বিরোধ চলে আসছে। সোমবার সকালে জমিমাপাকে কেন্দ্র করে বকাবকি হয়। এর জেরে আমার আত্মীয় স্বজন ওদের উপর হামলা চালায়। তিনি আরো বলেন, ওরা আমার সমর্থকদের দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাট করে। মামলার ১ নং আসামী ও পৌর আওয়ামীলীগের সদস্য জাকারিয়া খান জেমস বলেন, দুইপক্ষের নেতাকর্মীদের তর্কবিতর্ক হচ্ছিল। আমি শুধু বাদশার হাত থেকে মোবাইল ফোন ছুড়ে ফেলে দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথা মামলা হয়েছে। এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমান বলেন, এঘটনায় ভিকটিম নিজেই বাদী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। উল্লেখ্য যে, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের সভাপতি ও পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ খান গ্রুপের সঙ্গে একই ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আজম হান্নান গ্রুপের বিরোধ চলছে। এরই জেরে সোমবার সকালে হাসিমপুর বাঁধে জমিমাপাকে কেন্দ্র দুপক্ষের বাগবিতন্ডা হয়। পরে ওই দিন দুপুরে চর মহেন্দ্র্রপুর গ্রামের সোপায় মন্ডলের বাড়ির পাশে সভাপতি ফারুক ও তার লোকজন হাতুরী ও ইট দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে সম্পাদক হান্নানকে। পরে দুইপক্ষের সমর্থকরা মহেন্দ্রপুর বাজারে মুখোমুখি হলে পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর ঘটনার ঘণ্টাখানেক পরে সাধারণ সম্পাদকের সমর্থক ও তার ভাইয়েরা হাসিম বাজারে কয়েকটি দোকানে ভাংচুর ও লুটপাট করে। এতে সভাপতি ফারুক সমর্থিত নুর আলম জিকুর দুইটি মোবাইল ও ফ্রিজের শোরুম এবং একটি ডেকোরেটর দোকানে মোবাইল, ফ্রিজ, টিভি,সাউন্ডবক্স ও সেটসহ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *