কুমারখালীর সেই সেতুর কাজ শুরু, উৎসুক জনতার ভিড়


admin প্রকাশের সময় : মে ২৮, ২০২২, ৭:৪৪ পূর্বাহ্ন /
কুমারখালীর সেই সেতুর কাজ শুরু, উৎসুক জনতার ভিড়

কুমারখালী প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলাধীন লালন বাজার-পান্টি বাজার সড়কের ডাকুয়া নদীর উপর গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণাধীন সেই সেতুর কাজ শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী, প্রকৌশলী কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ও স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে সেতুর প্রথম পাইলিংয়ের কাজ শুরু করে ঠিকাদারের শ্রমিকরা। খুব অচিরেই সেতুর কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে আশা করছেন কর্তৃপক্ষ। এদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা ভিড় করেন। সুষ্ঠ, সুন্দর ও সঠিক নিয়মে দ্রুততম সময়ের মধ্যের বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করছেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার (২৬ মে) বিকেলে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পান্টি বাজারের ডাকুয়া নদীর উপরের সেতু নির্মাণের জন্য পাইলিংয়ের কাজ করছে শ্রমিকরা। কাজের পাশের বিকল্প সড়কে কয়েক শত উৎসুক জনতা ভিড় জমিয়ে কাজ দেখছে। সেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী সহ ঠিকাদারের লোকজন। এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, ডাকুয়া নদীর দুইপার ঘেষে ঐতিহ্যবাহী পান্টি বাজার। উপজেলার দ্বিতীয় শহর বলা হয় পান্টিকে। উপজেলার চাদপুর, বাগুলাট, পান্টি ও যদুবয়রা ইউনিয়নের প্রায় লাখো মানুষ চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। এছাড়াও পার্শ্ববর্তি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার একাংশ কুষ্টিয়া শহরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে এই সড়ক। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য গত ১৫ এপ্রিল দুপাড়ের সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন করে। আর চলাচলের জন্য জরাজীর্ণ বিকল্প মাটির সড়ক নির্মাণ করেছিল। এতে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছিল। সেই জরাজীর্ণ সড়কটি মোটামোটি চলাচল উপযোগী করে মূল সেতুর কাজ শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, পান্টি বাজার এলাকায় ডাকুয়া নদীর ওপর প্রায় ৮১ মিটার পিএসসি গার্ডার ব্রিজের অনুমোদন দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর। যার চুক্তিমূল্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৭২ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা। ইটেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি করার অনুমোদন পাই কুষ্টিয়ার ত্রিমোহনীর ডন- রুমানা- জেভি। চুক্তি অনুয়ায়ী ২০২১ সালের ১৭ আগষ্ট কাজ শুরু হয়ে শেষ করা কথা রয়েছে চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর। এবিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পান্টি ডিগ্রি কলেজের সভাপতি আ ক ম মামুনুর রহমান বলেন, যোগাযোগ সড়ক নিশ্চিত না করেই সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন ছিল। জনগণের চরম ভোগান্তি হচ্ছিল। বর্তমানে চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। তবে বিকল্প সড়কটি মজবুত হওয়া দরকার। এবং দ্রুত সেতুর কাজ শেষ হওয়া দরকার। বাজারের আরেক ব্যবসায়ী আলিমুজ্জামান আজম বলেন, সেতুর মূলকাজ শুরু হয়েছে। কাজ দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় করেছে। সবার মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। সঠিক নিয়মে সেতুর বাস্তবায়ন চাই জনগণ। পান্টি পিঁয়াজ হাটের ইজারাদার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ড্রাইভেশন (বিকল্প) সড়কটি শক্ত করে নির্মাণ করা দরকার। ভাঙা সেতুর কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট প্রকৌশলী জাহিদ হাসান বলেন, গত ১৫ এপ্রিল সেতু নির্মাণের জন্য সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল এবং বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে বিকল্প সড়কে চলাচলে ভোগান্তি ছিল। তবে বর্তমান সড়কটি চলাচলের উপযোগী। চলাচলের উপযোগী রাখতে সার্বক্ষণিক কাজ করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সেতুর মূলকাজের অংশ হিসেবে পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে অচিরেই সেতুর কাজ শেষ হবে। পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামিউর রহমান সুমন বলেন, কর্তৃপক্ষের ভুলের কারণে সেতু এলাকায় চরম জনদুর্ভোগ ছিল। এতে সরকারের বদনাম হচ্ছিল। এখন দুর্ভোগ কমেছে, সেতুর কাজও শুরু হয়েছে। আশা করছি দ্রুততম সময়ে সেতুর কাজ শেষ করবে কর্তৃপক্ষ। এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহিম বলেন, সেতুর মূল কাজ শুরু হয়েছে। বিকল্প সড়কটিতেও নজর দেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে দ্রুত সেতু বাস্তবায়ন হবে।