কুষ্টিয়ায় একদিনে আরো ১৫ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ২৯১



করোনায় ৯ ও উপসর্গ নিয়ে ৬ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুষ্টিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৯ জন ও উপসর্গ নিয়ে ৬ জন মারা গেছেন। করোনা সংক্রমণের দিক থেকে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেলার তালিকায় প্রথম কুষ্টিয়া। জুন থেকে শুরু হয়েছে কুষ্টিয়ায় করোনা দাপট। অস্বাভাবিক হারে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় কুষ্টিয়ায় আশঙ্কাজনক হারে করোনা সংক্রমণের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আরো ২৯১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ৯৯০ টি নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৯.৩৯ শতাংশ। আক্রান্তের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ রোগী সদর উপজেলার।
গতকাল সোমবার রাত ১০টায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও কুষ্টিয়া জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জেলায় করোনা সংক্রমিত হয়ে মোট মারা গেছেন ৩৫০ জন। এ নিয়ে কুষ্টিয়ায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৮৭৩ জনের।
এদিকে চলমান লকডাউন আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ সময় মানুষকে ঘরে রাখতে মাঠে তৎপর রয়েছেন জেলা প্রশাসন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
গতকাল সোমবারে বর্ধিত লকডাউনে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন প্রবেশমুখে, সেনাবাহিনী,র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যদের কড়া পাহারা দিতে দেখা যায়।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের নিয়মিত করোনা আপডেট তথ্যনুযায়ী,গতকাল কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব ও এন্টিজেন টেস্ট মোট ৯৯০ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরমধ্যে ২৯১ জনের নমুনা পজিটিভ হয়। নতুন শনাক্ত হওয়ার রোগীর মধ্যে সদর উপজেলায় ১১৯ জন, কুমারখালী উপজেলায় ৩১ জন, মিরপুর উপজেলায় ৩৮ জন, দৌলতপুরে ৫৮ জন, ভেড়ামারায় ৪১ জন ও খোকসায় ০৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে কুষ্টিয়া করোনা হাসপাতালে ৩০০ জন ভর্তি আছেন। তাঁদের মধ্যে করোনায় ২০০ জন ও উপসর্গ নিয়ে ১০০ চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ছাড়া জেলার পাঁচটি উপজেলায় আরও ১০০ রোগী ভর্তি আছেন। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিনে হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন ১৫ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে বর্তমান সময়ে সর্বোচ্চ শনাক্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড হচ্ছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *