কুষ্টিয়ায় একদিনে করোনায় মৃত্যুর রেকর্ড


ক‌রোনায় ১৫ ও উপসর্গ নি‌য়ে ৬ জনের মৃত্যু,নতুন আক্রান্ত ২৯২

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা সংক্রমণের দিক থেকে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেলার তালিকায় প্রথম কুষ্টিয়া। জুন মাসে পুরোটাই কুষ্টিয়ায় করোনা দাপট ছিল। অস্বাভাবিক হারে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ার কারণে কুষ্টিয়ায় আশঙ্কাজনক হারে করোনা সংক্রমণের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু। বিশেষ করে ঈদের পর থেকে এই সংক্রমণের হার বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৯২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। একদিনে করোনায় সর্বোচ্চ ১৫ জন মারা গেছেন। এবং উপসর্গ নি‌য়ে মারা গে‌ছেন আ‌রো ৬ জন।

৮৮৫ টি নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩০.৩০ শতাংশ। আক্রান্তের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ রোগী শহরকেন্দ্রিক। রবিবার রাত ১০টায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও কুষ্টিয়া জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলায় করোনা সংক্রমিত হয়ে মোট মারা গেছেন ২৪৫ জন। এ নিয়ে কুষ্টিয়ায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৭৬৬ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৮২৩ জন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তাপস কুমার সরকার বলেন, প্রতিদিন অন্তত ৫০০ অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রয়োজন হচ্ছে। সেখানে আছে ৫৪৭টি সিলিন্ডার। রিফিল করতে দেওয়া হলে তখন একটু সমস্যায় পড়তে হয়। এ ছাড়া ছয় হাজার লিটারের সেন্ট্রাল অক্সিজেন রয়েছে। সেটা দিয়ে ১০ জনকে ২৪ ঘণ্টা অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হয়। রোগী বেড়ে যাওয়ায় মাঝেমধ্যে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তিনি আরও জানান, জুনের তুলনায় চলতি জুলাই মাসে রোগীদের চাপ আরও বাড়তে পারে।


এদিকে চলমান ৭ দিনের লকডাউনে মানুষকে ঘরে রাখতে মাঠে তৎপর রয়েছেন জেলা প্রশাসন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
রবিবারে বর্ধিত লকডাউনে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন প্রবেশমুখে, সেনাবাহিনী,র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যদের কড়া পাহারা দিতে দেখা যায়।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের নিয়মিত করোনা আপডেট তথ্যনুযায়ী,গতকাল রবিবার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব ও এন্টিজেন টেস্ট মোট ৮৮৫ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরমধ্যে ২৯২ জনের নমুনা পজিটিভ হয়। নতুন শনাক্ত হওয়ার রোগীর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৫৩ জন, কুমারখালী উপজেলায় ২৪ জন, মিরপুর উপজেলায় ২৯ জন, দৌলতপুরে ৪৪ জন, ভেড়ামারায় ৩৪ জন ও খোকসায় ০৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা ওয়ার্ডগুলোতে রোগীতে টইটম্বুর। দোতলার অস্ত্রোপচারকক্ষের সামনে মানুষ এদিক-ওদিক বসে আছেন। তাঁদের স্বজনেরা দোতলার করোনা ওয়ার্ডগুলোয় ভর্তি। হাসপাতালের আইসোলেশনে ২৫৯ জন ও হোম আইসোলেশনে দুই হাজার ৪৩৯ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিনে হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন ৮-১০ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে বর্তমান সময়ে সর্বোচ্চ শনাক্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড হচ্ছে। এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, জুনে করোনার দাপট বাড়বে, এমন একটা ধারণা পাওয়া গিয়েছিল। তবে এতটা হবে, সেটা কল্পনার বাইরে ছিল। মানুষকে সচেতন করা ছাড়া আর করোনা মোকাবিলার কোনো পথ নেই।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *