কুষ্টিয়ায় গুলিতে নিহত তিনজনের লাশ দাফন সম্পন্ন,সৌমেনের শাস্তির দাবি


হত্যাস্থলের রক্ত ধুয়ে দিয়েছে পুলিশ

কুমারখালী প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কাস্টমমোড়ে পরকীয় প্রেমের ঘটনায় নিহত নারী,শিশুসহ তিনজনের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে দাফন সম্পন্ন করেছে তাদের স্বজনরা। নিহতদের পারিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, সোমবার বাদ জোহর নিহত আসমা খাতুন ও তাঁর শিশু পুত্র রবিনের জানাজা শেষে নিজ গ্রাম কুমারখালীর বাগুলাট ইউনিয়নের নাতুড়িয়া কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

অন্যদিকে নিহত শাকিল খানের নিজ গ্রাম একই উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের সাঁওতা কারিগর পাড়া গ্রামের মেছের উদ্দিন দারুল উলুম কওমীয়া মাদ্রাসায় জানাজা শেষে সোমবার দুপুর ১২ টায় সাঁওতা কারিগর পাড়া গোরস্থানে দাফন করা হয়।

লাশ দাফন শেষে নিহত আসমার ভাই বাবুল শেখ বলেন, সরকার আর্মস (অস্ত্র) দিয়েছে জনগণের নিরাপত্তার জন্য। সেই আর্মস যদি জনগণকে হত্যায় ব্যবহত হয়। তাহলে জনগণ কি করবে? তিনি আরো বলেন, সৌমেন আমার বোন ও ভাগ্নেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। প্রচলিত আইনে সুষ্ঠু বিচার চাই।

পরিচয় প্রকাশে অনুচ্ছুক মাওলানা তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, দেশে আইন আছে প্রয়োগ নেই। আইনের সুশাষন না থাকায় এমন হত্যাকান্ড। চাপড়া ইউনিয়নের কবুরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ইসলামে পরকীয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সমাজে ধর্মীয় অনুশাষণ না থাকায় পরকীয়া বাড়ছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে অনাকাঙ্খিত ঘটনা।

তিনি আরো বলেন, সরকারের বিচক্ষণ বাহিনীর সদস্য প্রকাশ্যে দিবালোকে এমন হত্যাকান্ড ঘটাতে পারেনা। আইন সবার প্রতি সমান হওয়া উচিৎ। নাতুরিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, একজন মানুষ অপরাধ করতে পারে। তাই বলে নির্মমভাবে হত্যা করা ঠিক নয়। তিনি আরো বলেন, নিষ্পাপ শিশুটির কি অপরাধ ছিল? তাকে কেন এমন হত্যা? অবশ্যয় এমন হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।

আসবার বাবা আমির শেখ বলেন, সৌমেন পরিচয় গোপন করে তিন বছর আগে আমার মেয়েকে বিয়ে করেছে। হত্যার পর জানলাম সৌমেন হিন্দু। তিনি আরো বলেন, এমন হত্যা কোন ভাবেই বাবা হিসেবে মানতে পারছিনা। সৌমেনের ফাঁসি চাই। অপরদিকে নিহত শাকিলের বাবা মিজবার বলেন, আমার ছেলের কোন দোষ ছিলোনা। কেন তাকে হত্যা করা হল? দেশের পুলিশ মাজায় অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসীর মত আচরণ করে। এমন আচরণ বন্ধ করতে হবে এবং শাকিল হত্যার সুষ্ঠ বিচার করতে হবে।

চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হাসান রিন্টু বলেন, পুলিশের গুলিতে জনগণ মারা যাবে, তা কোন ভাবেই কাম্য নয়। পুলিশ বাহিনীকে আরো সচেতন হতে হবে। তিনি আরো বলেন, ট্রিপল মার্ডার ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার প্রত্যাশা করি।

কুমারখালী নাগরিক কমিটির সভাপতি আকরাম হোসেন বলেন, পুলিশ হোক আর পাবলিক হোক, কেউ এভাবে অস্ত্র নিয়ে এসে দিনদুপুরে কাউকে হত্যা করতে পারেনা। তিনি বলেন, একজন পুলিশ এভাবে অস্ত্র ব্যবহার করতে পারেনা। কারো সাথে ব্যক্তিগত সমস্যা থাকতে পারে। তাই বলে একটা শিশুকে এমন হত্যা কোনভাবেই কাম্য নয়। তিনি আরো বলেন, কোন হত্যায় আমরা কাম্য করিনা। এটাও নয়, যদিও তাকে (সৌমেন) বরখস্ত করা হয়েছে। তবে সুষ্ঠ তদন্ত হওয়া দরকার।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, কুষ্টিয়ায় আলোচিত ট্রিপল হত্যার নিহতদের বাড়ি কুমারখালীতে। সকালে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবার লাশ দাফনের বিষয় নিশ্চিত করেছেন। দেশে পুলিশ এখন বড় সন্ত্রাসী বাহিনী, নিহতের ভাইয়ের এমন বক্তব্যের বিষয়ে ওসি বলেন, হয়তো ক্ষোভে নিহতে ভাই এমন কথা বলতে পারেন। তবে প্রকৃতপক্ষে পুলিশ জনকল্যাণ ও জনগণের নিরাপত্তায় কাজ করছে।

এদিকে তিন খুনের ঘটনাস্থল কাস্টমসমোড়ে, গভীর রাতে পুলিশের গাড়ি গিয়ে পানি দিয়ে রক্ত ধুয়ে দিয়েছে। ঘটনাস্থলের পাশের ভবন ও আশপাশের দোকানের নিরাপত্তায় থাকা নিরাপত্তাকর্মী খন্দকার রেজাউল হক প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে এমন তথ্য দিয়েছেন। ঘটনাস্থলের তিনতলা ভবনের নিচতলায় কলাপসিবল গেটের ভেতরে আসমা ও শাকিলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ভবনের সামনে বাইরে রবিনকে হত্যা করা হয়। দুটি জায়গা পানি দিয়ে ধুয়ে দিয়েছে পুলিশ। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল আলম বলেন, ‘ঘটনাস্থলের সব আলামত জব্দ করা হয়েছে। যেহেতু সেখানে রক্ত রয়েছে, এতে মানুষ ভয় বা আতঙ্কিত হতে পারে, এ জন্য রক্ত পরিষ্কার করা হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *