কুষ্টিয়ায় চাহিদার বিপরীতে টিকার পরিমাণ একেবারেই কম !



নিজস্ব প্রতিবেদক

চাহিদার বিপরীতে টিকার পরিমাণ কম থাকায় কুষ্টিয়ায় টিকাদান কেন্দ্রে পুলিশি পাহারায় টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার কলকাকলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার জন্য অবশিষ্ট ২২ হাজার জনের মধ্যে মাত্র ১ হাজার জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। আরও ১ হাজার জন পরবর্তী দুই-একদিনের মধ্যে টিকা পাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সিভিল সার্জন জানান, প্রথম ডোজের ৫৬ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু টিকার মজুদ শেষ হলেও নির্ধারিত দিনে অনেকেই কুষ্টিয়া কলকাকলী স্কুলের টিকা দান কেন্দ্রে টিকা নিতে আসেন। টিকা দিতে এসে তারা টিকা শেষ হওয়ায় কার্যক্রম স্থগিত থাকার নোটিশ দেখে ফেরত যান।

সূত্র জানায়, কুষ্টিয়ায় করোনার টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৬৭ হাজার ৪৮৬ জন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৪৫ হাজার ৫১ জন, বাকি রয়েছেন ২২ হাজার ৪৩৫ জন। ভায়াল শেষ হয়ে যাওয়ায় কুষ্টিয়ায় ১১ মে করোনার টিকাদান বন্ধ হয়ে যায়। ওই দিন ৮২৭ জনকে টিকা দেয়ার পরই কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সে সময় অন্য জেলা থেকে আরও ৭ হাজার টিকার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেলেও পাওয়া যায় মাত্র ৫ হাজার ডোজ। ১১ মে সকালে শেষ পর্যন্ত টিকা দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, নতুন করে টিকা এসেছে মাত্র ২০০ ভায়াল। ঢাকা থেকে খুলনা বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কাছে আসে ৯০০ ভায়াল। সেখান থেকে কুষ্টিয়ার জন্য পাওয়া গেছে মাত্র ২০০ ভায়াল। এ দিয়ে ২০০০ জনকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া যাবে। এরই মধ্যে কুষ্টিয়া সদরে শনিবার ১০০০ জনকে টিকা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সিরিয়ালে যারা আগের দিকে আছেন তারাই পাবেন। যারা এই টিকা পাবেন, তাদের নতুন করে মেসেজ দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ডোজ পাননি এমন মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। কেন্দ্রে পুলিশের সহায়তা নিয়েই টিকা দেওয়া হবে।

এদিকে কুমারখালী উপজেলায় অবশিষ্ট ৪ হাজার ৩৬১ জনের বিপরীতে মাত্র ১৮০ জনকে করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবদ্ধ বারান্দায় টিকা প্রদান শুরু হয়। চাহিদার বিপরীতে টিকার পরিমাণ অনেক কম হওয়ায় বিশৃঙ্খলা হতে পারে এমন আশঙ্খায় টিকাদান চত্ত্বরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আকুল উদ্দিন বলেন, উপজেলায় প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন ৯ হাজার ৯৩৬ জন। গত ২৬ এপ্রিল প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ হয়। এরপর দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৫ হাজার ৫৭২ জন। বাকী আছেন এখনও ৪ হাজার ৩৬১ জন। তিনি আরো বলেন, চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১৮০ টি নতুন টিকা পেয়েছি। যা শনিবার সকালেই শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে মানুষ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *