কুষ্টিয়ায় দীর্ঘ হচ্ছে স্বজনহারা মানুষের আর্তনাদ !


একদিনে আরো ২১ জনের মৃত্যু,নতুন আক্রান্ত ২৪৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুষ্টিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৮ জন ও উপসর্গ নিয়ে ৩ জন মারা গেছেন। এদের মধ্যে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে করোনায় ১৫ জন এবং করোনা আক্রান্ত কুমারখালীর দুইজন ও ভেড়ামারা হাসপাতালে মারা গেছেন একজন।
করোনা সংক্রমণের দিক থেকে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেলার তালিকায় প্রথম কুষ্টিয়া। জুন থেকে শুরু হয়েছে কুষ্টিয়ায় করোনা দাপট। অস্বাভাবিক হারে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় কুষ্টিয়ায় আশঙ্কাজনক হারে করোনা সংক্রমণের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আরো ২৪৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ৮৯২ টি নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩৬.০৪ শতাংশ। আক্রান্তের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ রোগী সদর উপজেলার।
গতকাল শনিবার রাত ১০টায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও কুষ্টিয়া জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জেলায় করোনা সংক্রমিত হয়ে মোট মারা গেছেন ৩২৮ জন। এ নিয়ে কুষ্টিয়ায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৩০৫ জনের।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র বলছে, জেলায় গত ২৯ মে থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত এক মাসে করোনায় মারা গেছেন ৯০ জন। এর আগের ১৪ মাসে মারা গেছেন ১১২ জন। আর সর্বশেষ মাত্র ১১ দিনে মারা গেছেন ১২৬ জন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এ এস এম মুসা কবির বলেন, জুলাই মাসজুড়ে করোনা শনাক্ত ও মৃতের হার ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। তবে সচেতন হলে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। গ্রামের মানুষকে বেশি সচেতন হতে হবে। কেননা, ভর্তি রোগীর বেশির ভাগই গ্রাম থেকে আসছে। মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যেও গ্রামেরই বেশি এদিকে চলমান লকডাউন আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ সময় মানুষকে ঘরে রাখতে মাঠে তৎপর রয়েছেন জেলা প্রশাসন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
গতকাল শনিবারে বর্ধিত লকডাউনে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন প্রবেশমুখে, সেনাবাহিনী,র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যদের কড়া পাহারা দিতে দেখা যায়।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের নিয়মিত করোনা আপডেট তথ্যনুযায়ী,গতকাল কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব ও এন্টিজেন টেস্ট মোট ৮৯২ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরমধ্যে ২৪৫ জনের নমুনা পজিটিভ হয়। নতুন শনাক্ত হওয়ার রোগীর মধ্যে সদর উপজেলায় ১০৪ জন, কুমারখালী উপজেলায় ১৬ জন, মিরপুর উপজেলায় ১৯ জন, দৌলতপুরে ৫৩ জন, ভেড়ামারায় ৩৬ জন ও খোকসায় ১৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে কুষ্টিয়া করোনা হাসপাতালে ২৯২ জন ভর্তি আছেন। তাঁদের মধ্যে করোনায় ১৯২ জন ও উপসর্গ নিয়ে ১০০ চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ছাড়া জেলার পাঁচটি উপজেলায় আরও ১০০ রোগী ভর্তি আছেন। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিনে হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন ১৫ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে বর্তমান সময়ে সর্বোচ্চ শনাক্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড হচ্ছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *