কুষ্টিয়ায় ভরা মৌসুমেও বেড়েছে চালের দাম


admin প্রকাশের সময় : মে ৩০, ২০২২, ৬:২৭ পূর্বাহ্ন /
কুষ্টিয়ায় ভরা মৌসুমেও বেড়েছে চালের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক : বোরো ধানের ভরা মৌসুমেও কুষ্টিয়ায় চালের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। চালভেদে এক লাফে তিন থেকে চার টাকা দাম বেড়েছে। এ নিয়ে একমাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে ছয় দফায় কুষ্টিয়ায় চালের দাম কেজিপ্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।
দফায় দফায় চালের দাম বৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠেছে ক্রেতাদের। সবার এখন একটায় প্রশ্নচালের দাম শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে সব ধরনের চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব জায়গায় এর প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিন কুষ্টিয়া শহরের পৌর বাজার ও বড় বাজার ঘুরে চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের এক-দুদিন আগে থেকেই কুষ্টিয়ায় চালের দাম বৃদ্ধি শুরু হয়। ঈদের পর থেকে যেন পাগলা ঘোড়ার মতো লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে চালের দাম। সর্বশেষ শনিবার (২৮ মে) থেকে কুষ্টিয়ায় চালের দাম এক লাফে কেজিতে চার টাকা বেড়েছে। শনিবার থেকে কুষ্টিয়ার চালের বাজারে অটো রাইচ মিলে ভাঙানো মিনিকেট চাল ৬৬-৬৭ টাকা কেজি (২৩ মে ছিল ৬৪ টাকা), সাধারণ মিনিকেট ৬৪ টাকা, অটো রাইচ মিলে ভাঙানো কাজললতা ৫৭ টাকা, কাজললতা সাধারণ ৫২ টাকা, অটো রাইচ মিলে ভাঙানো বাসমতি ৭৬ টাকা থেকে কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ টাকায়, সাধারণ বাসমতি ৭৬ টাকা, অটো রাইচ মিলে ভাঙানো কাটারীভোগ ৭২ টাকা, নাজিরশাইল ৭৮ টাকা ও অটো রাইচ মিলে ভাঙানো পাইজাম ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কুষ্টিয়া পৌর বাজারের চাল ব্যবসায়ী আনিস জানান, দুদিন আগে মিল গেটে যে দামে তারা চাল কিনছেন, পরের দিন সে দামে আর চাল কিনতে পারছেন না। বেশি দামে চাল কিনে আনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘মিল গেটে চালের দাম বেশি থাকলে আমরা কম দামে কীভাবে বিক্রি করবো?’ মে মাসজুড়ে বৃষ্টিপাত এবং ঘূর্ণিঝড় আশানির প্রভাবে ধানের বাজার চড়া বলে তিনি মন্তব্য করেন।এদিকে চালের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হিসেবে খাজানগরের এক শ্রেণীর মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ী এবং সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন সাধারণ ক্রেতারা।
কুষ্টিয়া পৌর বাজারে চাল কিনতে আসা স্কুলশিক্ষক সোলাইমান হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কুষ্টিয়ায় চালের বাজারে প্রশাসনের কোনো তদারকি নেই। এ সুযোগে মিলাররা এবং খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীরা খেয়ালখুশি মতো চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। মানুষজনের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তবে বর্তমান সময়ে সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেন বাংলাদেশ অটো মেজর হাসকিং রাইচ মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রশীদ। তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে মাঠের অনেক ধান নষ্ট হয়ে গেছে। যে কারণে ধানের বাজার চড়া থাকছে। বেশি দামে ধান কেনার কারণে চালের দামও বেড়ে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এবার জেলার ছয়টি উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ধানের উচ্চফলন হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ৩৫ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেখানে আবাদ হয়েছে ৩৫ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪৭৮ মেট্রিক টন। এ বছর ফলন বেশ ভালো হওয়ার আশা করছে কৃষি বিভাগ।