কুষ্টিয়ায় হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ



নিজস্ব প্রতিনিধি

করোনা ভাইরাসে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিপর্যস্ত অসহায় মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে পাশে দাঁড়ানোর লক্ষে দেড়শো হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে সদর উপজেলার ঝাউদিয়া এলাকায় ক্লিন এন্ড গ্রিন ফাউন্ডেশনের পরিবেশ আন্দোলন “ক্লিন গ্রিন বাংলাদেশ (সিজিবি)” কুষ্টিয়া ইউনিটের উদ্যোগে এবং সামাজিক সংগঠন ‘গরিব ফাউন্ডেশন’ এর আর্থিক সহযোগিতায় এসব বিতরণ করা হয়। ঈদ উপহার ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিজিবি কুষ্টিয়া ইউনিটের প্রধান উপদেষ্টা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম।

এ সময় সিজিবির উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সদস্য উত্তম কুমার বিশ্বাস, সিজিবি কুষ্টিয়া ইউনিট প্রধান সমন্বয়ক মিরাজুল ইসলাম সহ সকল সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে সমাজের গরিব , অসহায় , অসচ্ছল ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খাদ্য সামগ্রী হিসেবে চাল, ডাল, আটা, সেমাই, চিনি, সয়াবিন তৈল, লাইফবয় সাবান ও মাস্ক প্রদান করা হয়। খাদ্য সামগ্রী নিতে আসা এক বৃদ্ধা জানান, ‘আমার কোন ছেলেপেলে না থাকায় অনেকটা সময় অর্ধাহারে অনাহারে থাকতে হয়। স্বামীও মারা গেছে অনেক আগে। আজকের কিছু পোলাপান এসে ব্যাগ ভরে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে গেছে। আমি এতে অনেক খুশী। চা দোকানদার বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দোকান বন্ধ। কোন অর্থ উপার্জন হচ্ছে না। এতে সংসার চালাতে পারছি না। আজকে এই খাদ্যসামগ্রী পেয়ে অনেক উপকার হয়েছে। প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের এই দুঃসময়ে নিজেদের সমর্থ অনুযায়ী নিম্ন আয় ও দিনমজুরদের পাশে দাড়াচ্ছে। আমি আমাদের এই সংগঠনের প্রচেষ্টায় এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।

গরিব ফাউন্ডেশন ও ক্লিন এন্ড গ্রিন ফাউন্ডেশন সারাদেশে যেভাবে পরিবেশ ও মানবতার কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে তা নিঃসন্দেহ প্রশংসার দাবী রাখে। আমি সিজিবি কুষ্টিয়া ইউনিটের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে এরূপ মহৎ ও ভালো কাজের অংশিদার হতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। এমন অবস্থায় আমরা ঝাউদিয় এলাকার দেড়শ পরিবারের জন্য খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করেছি। মানবিক কারণে সমাজের বিত্তবানদেরও নি¤œ আয়ের মানুষদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়ানো উচিৎ। সিজিবি কুষ্টিয়া ইউনিট প্রধান সমন্বয়ক মিরাজুল ইসলাম বলেন, মানুষ মানুষের জন্য- অসহায় মানুষগুলোর পাশে আমরা না দাঁড়ালে কারা দাঁড়াবে। একজনের দেখাদেখি আরেকজন নামছে সামাজিককাজে। লক্ষ্য একটাই; অসহায় মানুষগুলো যেন খাবার পায়। তারা যেন অভুক্ত না থাকেন। আমরা অনহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *