গাংনীতে ব্লাষ্ট ভাইরাসে ধানক্ষেত



মেহেরপুর প্রতিনিধি

মেহেরপুরের গাংনীতে উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এবছর ধানের বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা থাকলেও। ব্লাষ্ট ভাইরাসের কারণে শেষ মুহুর্তে কোন কোন ধান চাষীর মাথায় হাত উঠেছে। গাংনী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে ধানক্ষেতে অজ্ঞাত রোগ বা হিটশক ব্লাষ্ট রোগে ধানক্ষেত বিনষ্ট হয়ে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও বাজার মূল্য ভাল থাকায় কৃষকের মুখে হাসি দেখা দিলেও। উপজেলার ধানখোলা,খড়মপুর, মহিষাখোলা,পাকুড়িয়া, নিত্যানন্দপুর, চিৎলা গ্রামের শতাধিক ধান চাষীর মুখে হাসি ম্লান হয়ে গেছে। গাংনী উপজেলায় প্রায় ৪৫ ভাগ আবাদি জমিতে বোরো জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। গাংনী এক সময় খাদ্য উদ্বৃত্ত উপজেলার স্বীকৃতি ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছিল। ফলে মারাত্মক ভাবে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছিল। বর্তমানে সেই অবস্থা কেটে গেছে। গাংনী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে ২০২০-২১ ইং অর্থ বছরে গাংনীতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ১ শ’হেক্টর। অর্জন হয়েছে ৭ হাজার ২৫০ হেক্টর। হেক্টর প্রতি ফলনের সম্ভাবনা ৭ টন। ধানখোলা উত্তরপাড়া গ্রামের ধান চাষি ও সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিন অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে সরেজমিনে ধান ক্ষেত পরিদর্শন করে সত্যতা পাওয়া গেছে। আর মাত্র কয়েক দিন পরেই সোনালী ধানের গন্ধে ধানের খোলা, বাড়ির আঙ্গিনা ধানের মিষ্টি মৌ-মৌ গন্ধে ভরে উঠার কথা । কিন্তু কোন কোন মাঠে ধান ক্ষেতে গেলে বুকের মধ্যে চাপা কষ্ট পরিলক্ষিত হয়। ধানখোলা উত্তরপাড়া গ্রামের রুহল আমিন মেম্বরের ৩ বিঘা, আসাদুল ইসলামের দেড় বিঘা, জিবরাইল ইসলামের ১ বিঘা, দবির উদ্দীনের দেড় বিঘা জমির ধানসহ ধানখোলা বয়রাগাড়ি, নলগাড়ি ও কিনিখালি মাঠ, শিশিরপাড়া মাদিয়ার মাঠের অনেকের ধান ক্ষেতে অজ্ঞাত ভাইরাস রোগে ধানের শীষ প্রথমতঃ সাদা ও চিটা পড়ে গেছে। ধান চাষীরা জানান, আমরা অনেকেই কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে নতুন জাত বারি-৬৩, বারি-২৮সহ বিভিন্ন প্রজাতির ধান চাষ করেছিলাম। কিন্তু ভাগ্য বিমুখ। এতাে টাকা খরচ করে ধান চাষ করে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছি। ধানখোলা উত্তরপাড়ার ক্ষতিগ্রস্থ চাষি আসাদুল ইসলাম জানান,জমিতে ধান দেখে কান্না আসছে। বিঘা প্রতি ২ মণ ধানও হবে না। এবছর ধান না হলে, ছেলে মেয়ে নিয়ে কি খেয়ে বাঁচবো। ধানের ক্ষেতে অজ্ঞাত রোগে বা ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্থ জমি দেখতে একদিনও কৃষি অফিসের কোন মাঠকর্মি দেখা পায়নি। কোন দিক নির্দেশনা বা পরামর্শ দিতে কেউ আসেনি। মেহেরপুর জেলা কৃষি উপ-পরিচালক জানান, ২০০১ ইং সালের কৃষি শুমারী অনুযায়ী গাংনী উপজেলায় আবাদি জমির পরিমাণ ২৮ হাজার ৫শ’ হেক্টর । তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছে উপজেলার সব মাঠে ধানের ক্ষেতে অজ্ঞাত রোগ বা হিটশক ভাইরাস আক্রান্ত হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, কোন কোন নিচু জমিতে যেখানে সব সময় পানি জমে থাকে, নিষ্কাশনের ব্যবস্থা তেমন নেই। সেখানেই এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম শাহাবুদ্দীন জানান, বর্তমানে ধানের বাজার মূল্য বেশী হওয়ায় চাষীরা বোরো চাষে এগিয়ে আসছে। পাশাপাশি ইতোমধ্যেই অনেক চাষি সবজি চাষে লাভবান হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধান চাষীরা লাভবান হয়েছে। কয়েকটি মাঠে কিছু জমিতে হিটশক ব্লাস্ট রোগে কিছুটা ক্ষতি হলেও লাইন লোগো বা সারি পদ্ধতিতে ধান চাষ করে চাষীরা লাভবান হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আর কৃষকরা যে অভিযোগ করেছেন যে, কৃষি অফিসের মাঠকর্মীরা যদি চাষীদের সাথে পরামর্শ করে না থাকে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমি সরেজমিনে ধানক্ষেত পরিদর্শনে যাবো।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *