গ্রীষ্মকালীন শসা চাষে লাভের মুখ দেখেছেন কৃষক আব্দুল হক



ইজাবুল হক

এবছর গ্রীষ্মকালীন রসালো সবজি শসার চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন কৃষক আব্দুল হক। জানা যায়, গতবছর করোনার প্রাদুর্ভাবে সঠিক সময়ে ও বিভিন্ন এলাকার বাজারে শসা বিক্রি করতে না পারায়, লোকসানের মুখে পড়ে এবছর অনেক কৃষক শসা চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও হাল ছাড়েননি কৃষক আব্দুল হক। গতবছরের তুলনায় এবছর শসা চাষ করেছেন দ্বিগুণ। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মনোহরদিয়া ইউনিয়নের কন্দর্পুরদিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হক গতবছর ৩৩ শতাংশ জমিতে গ্রীষ্মকালীন শসার চাষ করেছিলেন। গতবছর এই সময়ে করোনা মহামারির প্রকোপে অধিকাংশ মানুষ রসালো শসা খাওয়া ত্যাগ করেছিলেন করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে। তাই শহর বাজারে শসার তেমন একটা চাহিদা না থাকায় কৃষক আব্দুল হক সহ অসংখ্য শসা চাষীরা লোকসানের মুখে পড়ে পুঁজি হারিয়ে সার কীটনাশকের দোকানে দেনা হয়ে পড়েছিলেন। গতবছরের জমির খাজনা ও দোকানের দেনা পরিশোধ করতে না পারায় এবছর অধিকাংশ কৃষকেরাই শসা চাষে ঝুঁকি নিতে সাহস পায়নি বলে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে। কৃষক আব্দুল হক বলেন, গতবছর আমি ৩৩ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে শসার চাষ করে প্রায় ৪০ হাজার টাকার মত লোকসান খেয়েছিলাম। গতবছর লোকসানের মুখে পড়েও এবছর কেন শসার চাষ বাড়িয়েছেন জানতে চাইলে। কৃষক আব্দুল হক বলেন, সত্যি বলতে আমাদের মত বর্গা চাষীদের পুঁজি খুবই কম। আর বর্তমানে সবজি চাষে যেমন রয়েছে মোটা অংকের খরচ তেমনই রয়েছে প্রাকৃতিক ঝুঁকিও। তাই একবার যদি একটি ফসলে কেউ লোকসান খায় (মুখে পড়ে) তাহলে ঐ ফসলের চাষ করতে পরের বছর অধিকাংশ কৃষকেরাই আর সাহস পাইনা। জমির খাজনা (লিজ বা ভাড়া), সার কীটনাশকের দোকানের বকেয়া পরিশোধ করতেই হিমশিম খেতে হয়। যখন আগের বাকী টাকা পরিশোধ করতে পারেনা, তখন নতুন করে দোকানদারেরাও বাকী দিতে সাহস পাইনা। আর বিষেশ করে সবজি চাষ করে থাকেন অধিকাংশ বর্গা চাষীরাই। যখন দেখলাম আমাদের গ্রাম ও আশেপাশের গ্রামের মাঠে এবছর শসার চাষ খুব কম হচ্ছে, তখন এবছর গরু বিক্রি করে ৫৬ শতাংশ জমি লিজ (ভাড়া) নিয়ে শসার চাষ করেছি। এবছর শসার দাম ও ফলন ভালো হওয়ায় আমার ৫৬ শতাংশ জমি থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকার শসা বিক্রি হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, নতুন করে এই জমিতে শসা ও চালকুমড়ার চাষ করবো। শসা চালকুমড়া শেষ হলে এই একই মাচায় শীতকালিন আগাম জাতের শীমের চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *