চীনা টিকার গণ-প্রয়োগ শুরু



এনএনবি

চীনের উপহার হিসেবে আসা সিনোফার্মের টিকার প্রয়োগ শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে গণটিকাদান শুরুর প্রথম দিন শুধু বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া হচ্ছে।
শনিবার টিকা দেয়া হয়েছে সারাদেশের ৬৭টি কেন্দ্রে। এরমধ্যে চারটি ঢাকা মহানগরসহ ঢাকা জেলায়, বাকি ৬৩ জেলায় একটি করে কেন্দ্র।
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. খলিলুর রহমান সকালে গণমাধ্যমকে জানান, এদিন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ এবং বেসরকারি ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আজ শুধু এই দুটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের টিকা দিচ্ছি। আমাদের দুটি বুথে চারশ’র মতো শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হবে।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কেন্দ্রে ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ আর দুটি বেসরকারি মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে যে তালিকা এসেছে সে অনুযায়ী প্রায় ৩০০ জনের মতো মেডিকেল স্টুডেন্টকে টিকা দেয়া হচ্ছে। আমরা তালিকা অনুযায়ী টিকা দিচ্ছি, সাধারণ মানুষ যারা তাদের তালিকা এখনও আসে নাই। আসলে আমরা দিয়ে দেব।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমএনসিঅ্যান্ডএইচের লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক শনিবার গণমাধ্যমকে বলেন, টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন এমন নাগরিকদের বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রাথমিকভাবে সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা মেডিকেল শিক্ষার্থীরা টিকা পাচ্ছেন। যেসব জেলায় মেডিকেল কলেজ নেই সেখানে নার্সিং বা মিডওয়াইফারি বা হেলথ টেকনোলজিস্টরা টিকা নেবেন। কিন্তু আগামী ৩-৪দিন আমরা শুধু স্বাস্থ্যখাতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদেরই টিকা দেব।
পরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যদের টিকা দেয়া শুরু করলে একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ কারণে আগে তাদের দিয়ে শেষ করে দেব, তিন-চার দিন পর সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার চিন্তাভাবনা করছি আমরা।’
সিনোফার্মের মোট ১১ লাখ ডোজ টিকা দেশে পৌঁছেছে। তা দিয়ে সাড়ে ৫ লাখ ব্যক্তিকে টিকা দেয়া যাবে।
সিনোফার্মের প্রথম চালান আসার পর ২৫ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী অনন্যা সালাম সমতাকে টিকা দেয়ার মধ্য দিয়ে দেশে দ্বিতীয় ধরনের টিকা প্রয়োগ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। পরে আরও ছয় লাখ ডোজ টিকা আসে।
দেশে ৭ ফেব্রুয়ারি গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয় ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়ার মধ্য দিয়ে।
প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ৩ কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তির পর দুই চালানে ৭০ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া যায়।
এরপর ভারত সরকার রপ্তানি বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশ বেকায়দায় পড়ে। ফলে টিকাদান কর্মসূচিতে প্রথম ডোজ দেওয়া ২৫ এপ্রিল থেকে বন্ধ করে দিতে হয়। এখন শুধু দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হলেও তাও ফুরিয়ে গেছে প্রায়।
এর মধ্যে সিনোফার্মের টিকা পাওয়ার পর দেশজুড়ে আবার টিকাদান শুরুর ঘোষণা দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এছাড়া কোভ্যাক্স থেকে পাওয়া ফাইজারের ১ লাখ টিকাও সরকারের হাতে রয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *