ছাতিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন সভাপতি মতিয়ার রহমান


আমলা প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের ছাতিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন ছাতিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বিশ্বাস। একটানা দীর্ঘ মেয়াদে থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়টিতে তেমন কোন উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। একজন ব্যক্তি পর পর দুইবার কোন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি থাকার পরে তৃতীয় মেয়াদে তিনি সভাপতি থাকতে পারবে না এমন নির্দেশনা থাকায় এবার সভাপতি হতে পারেনি জসিম উদ্দিন বিশ্বাস। সভাপতির প্রার্থী হিসাবে জসিম উদ্দিন বিশ্বাসের কাছের একজন মানুষ তোড়জোড় করে ও সভাপতি হতে পারেনি। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারী এবং অভিভাবকদের আশা ছিলো পরিবর্তন। বিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে সভাপতি নির্বাচিত হন ছাতিয়ানের মহনপুর এলাকার মতিয়ার রহমান। তবে এই সভাপতির পদ নিয়ে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব করছে ছাতিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং তার অনুসারীরা। জানা যায়, চলতি বছরের ১০ মার্চ ছাতিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পান মতিয়ার রহমান। ইতিপূর্বে মতিয়ার রহমান দীর্ঘদিন প্রবাসে জীবনযাপন করেছেন। এলাকার অনেক মসজিদ, মাদ্রাসা, গরীব ও অসহায়দের মাঝে অর্থ দিয়ে এলাকায় বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। এলাকার মানুষ তাকে দানবীর মতিয়ার বলেই বেশি চেনে।
বিদ্যালয়টির অবকাঠামো উন্নয়ন এবং লেখাপড়ার মানউন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় গ্রহণ করেছেন তিনি। ইতিমধ্যে বিদ্যালয় ফান্ডে ২ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের জন্য পোশাকের ব্যবস্থা করেছেন নিজের অর্থে।
অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবী, ইতিপূর্বে বিদ্যালয়ের কোন উন্নয়ন হয়নি। তবে মতিয়ার রহমান সভাপতি হওয়ায় সাধারন মানুষ বেশ খুশি।
এদিকে সভাপতি না হতে পেরে জসিম চেয়ারম্যানের লোকজন একাধিকবার মতিয়ার রহমানের লোকজনের উপর হামলা চালিয়েছে।
সরোজমিনে ঘুরে দেখা যায়, আশে পাশের গ্রামের মানুষও মতিয়ার রহমানকে ভাল মানুষ হিসেবে এক নামেই চেনে।
ছাতিয়ান দুর্গাপুর এলাকার অভিভাবক লুৎফর রহমান ও শাজাহান আলী বলেন, “ছাতিয়ান স্কুলটা শেষ হয়ে গেছে। স্কুল আর স্কুল নেই। বর্তমানে মতিয়ার তো সভাপতি হয়েছে, সে তো মানুষ ভালো। দেখি স্কুলের উন্নয়ন হয় কিনা।”
ভারল গ্রামের সাইদুল ইসলাম বলেন, “মতিয়ার রহমান এলাকার মসজিদ-মাদ্রাসায় অনেক দান করেন। মানুষ হিসাবে তিনি খুবই ভালো। তার মতো মানুষ ছাতিয়ান স্কুলের সভাপতি হলে উন্নয়ন তো হবেই।”
দুর্গাপুরের রবিউল ও মাসুদ বলেন, এলাকায় এমন কোন মসজিদ কিংবা মাদ্রাসা নেই সেখানে মতিয়ার রহমান সহযোগিতা করেনি। গবীর ও অসহায় কোন মানুষ তার কাছে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসেনি।”
মহনপুর এলাকার আব্দুর রহমান, শুকনাল আলী, বাবুল বিশ্বাসও একই রকম কথা উল্লেখ করে বলেন, মতিয়ার রহমান কিছুদিন আগে আমাদের এলাকায় একটি নতুন মসজিদ তৈরী করে দিয়েছেন। আমরায় তাকে ভালোবেসে স্কুলের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব নেওয়া কথা বলেছিলাম যাতে স্কুলের উন্নয়ন হয়।
কচুয়াদহ এলাকার গোলাম মস্তফা ও আমিরুল ইসলাম বলেন, মতিয়ার রহমানের মতো মানুষ খুবই কম হয়। এলাকার মানুষের জন্য এত কিছু কেউ করে না। তার এমন দান দেখে কিছু লোকের হিংসা হচ্ছে।
ছাতিয়ান কালিতলা এলাকার ওহাব মল্লিক ও হাসান আলী জানান, ইতিপূর্বে ছাতিয়ান স্কুলের টাকা আত্মস্যাৎ, নিয়োগ বানিজ্য, জমি দখলের মতো ঘটনা ঘটেছে। আমরা চাই একজন সৎ মানুষ সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে স্কুলটাকে আরো ভালো করুক।
তারা দাবী করেন মতিয়ার রহমানের স্বদিচ্ছায় একটি মডেল স্কুল হবে ছাতিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
ছাতিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহাদ আলী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তি পরপর দুইবারের বেশি সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। তাই চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বিশ্বাস সভাপতির পদ ছেড়ে দেন। সকলের সম্মতিক্রমে বিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে আমরা মতিয়ার রহমানকে সভাপতি করেছি। ইতিমধ্যে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মান উন্নয়নে শিক্ষা উপকরণ ক্রয় করেছেন।
তিনি বলেন, আশা করছি ছাতিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি আগামীতে একটি মডেল বিদ্যালয় হিসাবে পরিচিত পাবে।
ছাতিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, আমি একটানা দুইবার ঐ বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। বেশ সুনাম ও দক্ষতার সাথে আমি দায়িত্ব পালন করেছি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *