জেনে রাখুন হজ্বের সফরে প্রয়োজনীয় কিছু উপদেশ ও পরামর্শ


admin প্রকাশের সময় : জুন ৫, ২০২২, ৬:৩৪ পূর্বাহ্ন /
জেনে রাখুন হজ্বের সফরে প্রয়োজনীয় কিছু উপদেশ ও পরামর্শ

॥ আলহাজ্ব আব্দুম মুনিব ॥
করোনা মহামারির কারনে গত ২ দছর নির্দিষ্ট অল্প সংখ্যক মানুষ হজ্ব করতে পেরেছিলো। আলহামদুলিল্লাহ, এবার লক্ষ লক্ষ মানুষ হজ্ব করার সুজোগ পেয়েছেন, আরাফার ময়দানে হাজির হবেন তারা, লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখোর হবে আরাফার মাঠ। আসুন জেনে রাখুন হজ্বের সফরে প্রয়োজনীয় কিছু উপদেশ ও পরামর্শ।
প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র ঃ হজ্বের উদ্যেশে সৌদিআরবে অবস্থানকালে প্রথমেই অর্থ্যাত জেদ্দা বিমানবন্দর হইতেই আপনার পাসপোর্ট সৌদী মোয়াল্লেমের হেফাজতে নিয়ে নেবে। মক্কা ও মদিনার যেকোন হোটেলেই থাকুন না কেন তাদের বিজনেস কার্ড এবং সৌদী মোয়াল্লেম কর্তৃক সরবরাহকৃত আইডি কার্ড সব সময় সাথে রাখবেন। যদি নিজেকে হারিয়ে ফেলেন সেক্ষেত্রে তাদেরকে আপনি জানাতে পারবেন যাতে তারা আপনাকে দিক নির্দেশনা দিতে পারেন। আপনার কাফেলার গাইড/দলনেতা/আমীর/মোয়াল্লিম-এর মোবাইল নম্বর লিখে/মোবাইলে সেভ করে সব সময় নিজের কাছে রাখুন। হজ্ব গাইড কর্তৃক প্রদত্ত মিনায় ক্যাম্পে অবস্থানের অনুমতিপত্র সাথে রাখুন (দিকনির্দেশনার জন্য জরুরী) প্রথমেই দেখে নিন আপনাকে হজ্ব-ভিসার (সৌদি আরবের মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইস্যুকৃত) মূল কপি দেয়া হয়েছে কী না। তা গলায় ঝুলিয়ে নেবেন। এ ছাড়াও আপনাকে বেশ কিছু ডিজিটযুক্ত একটি হ্যান্ড-ব্যান্ড দেয়া হবে (আপনার আইডি’র কম্পিউটার কোড); সেটি হাতে পরে নিন। গলায় সব সময় ঝুলিয়ে রাখার মতো একটি ট্রাভেল-ব্যাগ নিতে ভুলবেন না অথবা পকেটযুক্ত ইহরাম বাধার বেল্টও রাখতে পারেন।
যানবাহন ঃ আপনার হজ্ব গাইড/মোয়াল্লেম/এজেন্সী আপনাকে বিমানবন্দরে (বাংলাদেশ/সৌদীআরবে) যে সময় উপস্থিত হতে বলে ঠিক সেই সময়ের মধ্যেই উপস্থিত থাকুন। হজ্বের ফ্লাইটের প্রথম দিকে মক্কায় যেতে পারলে ভীড় কম থাকে, যার দরুন বেশি বেশি তাওয়াফসহ ওমরা, সায়ী, মাথা মুন্ডন এবং বিভিন্ন স্থানের জিয়ারত আপনি স্বাচ্ছন্দে করতে পারবেন। অন্যদিকে বাড়ী হইতে বিমানবন্দের যাবার পথে ইহরামের কাপড় হাত ব্যাগে রাখুন, কারন বিমানে ওঠার পূর্বেই সাধারনত ইহরাম বাধা হয় (যদি প্রথমে মক্কায় গমন করেন)। বিমানবন্দরে হজ্বযাত্রীদেরকে ফ্লাইটের জন্য কখনও কখনও দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়, ধৈর্য্য ধরুন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকুন ইনশাআল্লাহ আল্লাহপাক সহজ করে দেবেন। লাগেজ বুকিং-এর টোকেন সযতেœ রাখুন। জেদ্দা বিমানবন্দর হইতে মক্কা/মদিনা যাবার পথে অথবা জেদ্দা বিমানবন্দরে ফেরার পথে আপনি যে গাড়ীতে উঠেছেন আপনার লাগেজ সেই গাড়ীতে উঠল কিনা খেয়াল রাখুন। কোথায়ও ভ্রমনের সময় কিছু শুকনা খাবার, পানি, জুস, জায়নামাজ, তায়াম্মুমের মাটি সব সময় সংগে রাখুন। বিমানের ভিতরে চলাচলের পথে জায়নামাজ বিছিয়ে একা একা নামাজ আদায় করে নিতে পারেন। বিমানের ভিতরে টয়লেট ব্যবহার খুবই কষ্টকর, সুতরাং প্র¯্রাব ব্যতীত টয়লেট ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। এমতাবস্থায় ইহরামের কাপড় নাপাকি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সুতরাং আরেক সেট ইহরামের কাপড়ও হাত ব্যাগে রাখি। নমনীয় হোন, বিশেষ করে যানবাহনের বেলায়। দেখা গেলো আপনি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের জন্য অর্থ দিয়েছেন অথচ হজ্জের সময় আপনি পেলেন শীতাতপনিয়ন্ত্রণহীন বাস। সৌদী আরবে সাধারনত লাগেজ বা বড় ব্যাগগুলি বাসের ছাদে বা বক্সে দিয়ে দেয়, গাড়ীর ভিতরে সাধারনত বড় ব্যাগ অথবা লাগেজ রাখতে দেয় না। শুধুমাত্র হাত ব্যাগ কাছে রাখা যায়। হজ্বের সময় যানজট মারাত্বক আকার ধারণ করে। সময় সময় যান চলাচল একদম থেমে যায় তখন পায়ে হেঁটে বেশী দ্রুত অগ্রসর হওয়া যায়। ছোটখাট বিষয়ের চাইতে যথাসময়ে হজ্বের আরকান সমাপন করা অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। জেদ্দা-মক্কা-মদিনা-মিনা-আরাফা-মুজদালিফা এবং বিভিন্ন স্থান জিয়ারতের ক্ষেত্রে যানবাহন ভাড়া এজেন্সীর দায়িত্বে কিনা নিশ্চিত হন। এগুলো সাধারনত এজেন্সী বহন করে। এজেন্সী দায়িত্ব না নিলে নিজস্ব খরচে নিজ দায়িত্বে একা একা অথবা গ্রুপ আকারে বিভিন্ন স্থানের জিয়ারত করতে পারেন। নামাজের সময় হলে গাড়ী থামিয়ে নামাজ আদায় করে নিন। এমতাবস্থায়, নামাজের ব্যাপারে গাড়ীর অনেক ড্রাইভার, হজ্বযাত্রী এমনকি আমাদের দেশী অনেক হজ্জ গাইড/মোয়াল্লেমকেও উদাসীন দেখা যায়। গাড়ীতে আরোহনের পূর্বে গাড়ীর নাম্বার দেখে নিশ্চিত হউন যে, আপনি আপনার গাড়ীতেই উঠছেন কিনা? হজের আগে ও পরে আরও ওমরাহ করতে চাইলে ‘তানঈম মসজিদে আয়েশা’-এ (ওমরাহ মসজিদে) গিয়ে ওমরাহর নিয়ত করে আসা যায়। কাবা শরিফের বাইরে বাস অথবা ট্যাক্সিতে করে ওমরাহ মসজিদে যাওয়া যায়। হজ্বের সময় যানজট মারাত্মক আকার ধারণ করে। হাজিদের যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ইতিমধ্যে মক্কা, মিনা, মুযদালিফা, আরাফাত- এ বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দিক নির্দেশনার জন্য সবসময় বাস ড্রাইভারদের উপর নির্ভর করবেন না। তাদের বেশির ভাগই মিশর, তিউনিসিয়া এবং নাইজিরিয়া থেকে আগত এবং অনেক সময় জায়গাগুলো তাদের কাছে সুপরিচিত হয় না।
হারিয়ে গেলে ঃ হজ্জের দিনগুলিতে মক্কা, মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফার সারা এলাকা মানব সমুদ্রে পরিণত হয়। সবার পরিধানে থাকে ইহরামের পোষাক আর মিনাতে শুধু তাবু আর তাবু। কিছু মানুষ দিক হারিয়ে নিজেদের রাস্তা ভুল করে ফেলেন। হজ্বের দিনগুলোতে যদি নিজেকে হারিয়ে ফেলেন, তাহলে আপনি কাউকে খোজাখুজির জন্য সময় নষ্ট না করে সর্বপ্রথমে হজ্বের কার্যক্রম শেষ করুন, অতঃপর আপনার অন্য সাথী/তাবু/হোটেল খোঁজ করুন। একটি কথা স্মরন রাখবেন, আপনি হারিয়ে গেলেও দেশে ফেরার পূর্বেই আপনি আপনার সাথীদেরকে খুজে পাবেন ইনশাআল্লাহ, সুতরাং আপনি আপনার হজ্বের কার্যক্রম নিশ্চিন্ত মনে নির্ভয়ে আল্লাহতায়ালার উপর তাওয়াক্কুল করে শেষ করুন। দলভুক্ত লোকদের ক্ষেত্রে পরামর্শ হলো কেউ যদি হারিয়ে যান তবে সুপরিচিত কোন নির্ধারিত জায়গায় সমবেত হওয়ার জন্য পূর্ব থেকেই নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে রাখবেন। পূনর্মিলনের জন্য মক্কার হারাম শরীফের বাইরে একটি জায়গা নির্ধারণ করুন (দল থেকে কেউ হারিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে)। এধরনের লক্ষণীয় একটি জায়গা হতে পারে বাব আব্দুল আজিজ গেট। মিনা, জামরাত, আরাফাত ও মুজদালিফায় মিলনের জন্য একটি করে জায়গা নির্ধারণ করুন। চিহ্নিত জায়গাটি সুপরিচিত ও সহজে যাওয়া যেতে পারে এমন হওয়া উচিত। এসব জায়গায় অনেক মানুষ প্রচুর ভীড়ের কারনে নিজেকে হারিয়ে ফেলেন। মদিনায় মসজিদে নববীবের বাইরে মিলনের জন্য একটা জায়গা নির্ধারণ করুন। এখানেও একটা চিহ্নকে বেছে নিতে পারেন। হজ্জের সময় বিভিন্ন দরকারী জিনিস খুঁজতে গিয়ে বৃথা সময় নষ্ট যাতে না হয় তার জন্য বাড়ী/হেটেল থেকে বের হওয়ার সময় সেগুলি সাথে নেওয়া উচিত। হজ্জ ও ওমরাহর সময় যদি কোন জিনিস কেউ মদিনা, মক্কা, মিনা, আরাফাত, মুজদালিফায় ফেলে যান, যদি কিছু সময়ের জন্যও হয় তবে তা সরিয়ে ফেলা হয়। এটা আর পাওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং আপনার জিনিসপত্র, বিশেষ করে আল কুরআন, অন্যান্য বইপত্র, আইডি কার্ড, অর্থকড়ি, জায়নামাজ, টাকার থলে/ব্যাগ ইত্যাদি সবসময় নিজের সাথে রাখুন অথবা এমন কারও কাছে রাখুন যার কাছে নিরাপদে থাকবে।
হারামাঈন শরীফ ঃ আপনি যদি হারামাইন শরীফের সামনের কাতারে দাড়িয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন তাহলে তা বেশী ভাল। প্রত্যেক নামাযের আগেভাগেই নামাযের জন্য হাজির হোন যদি আপনি হারাম শরীফের ভিতরে কাবা শরীফের কাছাকাছি জায়গা থেকে নামাজ আদায় করতে চান অথবা মদিনায় মসজিদে নববীতে সবুজ ও সাদা গালিচায় ঢাকা রওজাতুল জান্নাত এবং নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর রওজা-ই-আকদাস (সমাধি) এর কাছাকাছি থেকে। হেরেম শরীফে নামাজের সময় মহিলাদের থেকে দুরত্ব বজায় রাখুন। নামাজের পূর্বে হারাম শরীফে প্রবেশ করে একটা জায়গা খুঁজে পেতে কোন কোন সময় এক ঘন্টা সময়ও লেগে যেতে পারে। জুমার দিনে হারাম শরীফে প্রবেশ করতে আরও বেশী সময় লাগে। হেরেম শরীফে ঢোকার পূর্বেই আপনার স্যান্ডেল/জুতা খুলে ব্যাগে ভরিয়া ফেলুন। হারাম শরীফের দরজা ও প্রবেশ পথে নামায আদায় করতে গিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা উচিত নয় এমনকি জামাতবদ্ধ হয়ে নামাজের আশায়ও নয়। নামাজের সময় কাছাকাছি আসলে হাজ্বীগণ সামনের সারিতে বসা শুরু করেন। মক্কায় অন্যরা যদিও তাওয়াফরত অবস্থায় থাকেন এমতাবস্থায় হারাম শরীফের সামনের সারিগুলি পূর্ণ হয়ে যেতে থাকে। নামাযের জন্য জায়গা পাওয়া কঠিনতর হয়ে পড়ে। একইভাবে তাওয়াফ করাও কঠিন হয়ে পড়ে যখন মানুষ বসা শুরু করে। কাবা শরীফের পাশে অথবা কাছাকাছি বসে নামায আদায় করতে গিয়ে কিংবা মাকামে ইব্রাহিম বা কালো পাথরের কাছে দাড়িয়ে কখনও তাওয়াফরতদের বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়। এখানে অতিরিক্ত ভীড় অন্যদের দারুন অসুবিধার সৃষ্টি করে। আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা অতি পবিত্র। হজ্জের সময় সারারাত হারাম শরীফ জীবন্ত হয়ে ওঠে। মানুষ তাওয়াফ ও সাঈ সম্পাদন করে থাকেন রাতভর। কাবা শরিফ ও মসজিদে নববীর ভেতরে কিছুদূর পরপর পবিত্র কোরআন মজিদ রাখা আছে আর পাশে জমজম পানি (স্বাভাবিক ও ঠান্ডা) পান করার ব্যবস্থা রয়েছে। মসজিদে নববীর মধ্যে সবুজ ও সাদা গালিচায় ঢাকা রওজাতুল জান্নাত বা বেহেশতের বাগান রয়েছে, সেখানে নামাজ পড়ার চেষ্টা করুন। সেখানে উসতুওয়ানা অথবা সুতুন (স্তম্ভ) রয়েছে, মসজিদে নববীর মধ্যে বিশেষ জায়গাগুলিতে বিশেষ নকশা রয়েছে। হজ্জ গাইড দেখে নিতে ভুল করবেন না। ফরজ, সুন্নাত ও নফল নামাজ আদায়ের জন্য আপনাকে অবশ্যই আগেভাগে মসজিদে নববীতে আসতে হবে। মক্কার হারাম শরীফের প্রত্যেক কোণাও মর্যাদাপূর্ণ তেমনি মসজিদে নববীর প্রত্যেক জায়গা ও কোণা পবিত্রতা ও মর্যাদাপূর্ণ। মদিনায় মসজিদে নববীতে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য নির্ধারিত নামাযের স্থান অবস্থিত। মহিলা হজযাত্রীদের জন্য রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর রওজা মোবারক পরিদর্শণের জন্য বিশেষ সময়ের ব্যবস্থা রয়েছে। মহিলাগন উক্ত সময়ে সুবিধা বুঝে রওজা মোবারকে আসতে পারেন।
তাওয়াফ / সায়ী ঃ এমন সময় তাওয়াফ ও সায়ী শুরু করুন নামাজের জামাত শুরু হওয়ার পূর্বেই যেন তাওয়াফ ও সায়ী শেষ হয়ে যায়।
হাতীম ঃ কাবা শরীফের হাতীমে (কাবা ঘরের সাথে লাগানো স্থান যা কাবা ঘরেরই অংশ ধরা হয়) নামাজ আদায় করতে চাইলে কিছু কিছু সময় মানুষের ভীড় কম থাকে সেই সময় নামাজ আদায় করার চেষ্টা করুন।
হাজরেআসওয়াদ (কালো পাথর) ঃ হাজরে আসওয়াদের কাছে পৌঁছানোর জন্য অন্য হাজীদের ধাক্কা দেওয়া বা ক্ষতি করা উচিত নয়। আল্লাহর সন্তষ্টির জন্য যদি এখানে আপনি এসে থাকেন অন্যের অসুবিধা সৃষ্টি না করেও আপনি হাজরে আসওয়াদের কাছে পৌঁছাতে পারবেন এবং সুজোগ বুঝে চুম্বন করবেন।
মাকামে ইব্রাহীম ঃ তাওয়াফের পরে দুই রাকাত সালাত আদায় করা ওয়াজিব আর এই নামাজ মাকামে ইব্রাহীমের পেছেন আদায় করা মুস্তাহাব। কিন্তু বিপুলসংখ্যক মানুষ তাওয়াফরত থাকা অবস্থায় নামাজ আদায় বিশেষতঃ সিজদার সময় মারাত্বক জখম হওয়ার আশংকা থাকে। আপনি অন্য হাজ্বীদের অনুরোধ জানাতে পারেন মানুষদের অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য যাতে আপনি নামাজ আদায় করতে পারেন অথবা আপনি কিছু দুরে যেখানে তাওয়াফকারীর সংখ্যা কম সেখানে নামাজ আদায় করতে পারেন। বিশেষ কিছু কিছু সময় তাওয়াফে মানুষের ভীড় কম থাকে নিজে খেয়াল করে সেই সময় তাওয়াফ করার চেষ্টা করুন।
টয়লেট ঃ মক্কা এবং মদিনাতে আন্ডারগ্রাউন্ডে পাবলিক টয়লেট ও অযুখানার ব্যবস্থা আছে যা চলমান সিঁড়ি দিয়ে নামতে হয়। আরাফায় এবং মিনাতে হাজীদের দীর্ঘ সারি প্রত্যেক টয়লেটের সামনে লেগে থাকে। এসব স্থানের টয়লেটে বিশেষ কিছু কিছু সময় মানুষের ভীড় কম থাকে নিজের মেধা খাটিয়ে সেই সময়গুলোতে পায়খানার কাজ শেষ করার চেষ্টা করুন।
প্রস্তুতি / সতর্কতা ঃ হজ্জের সময় নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই স্থান ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকুন। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার হজ্ব গাইড মিনায় যাওয়ার জন্য ৬ টার সময় প্রস্তুত থাকতে বলে, আপনি আরও আগেই যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবেন। যদি বাস আগেই এসে পড়ে আপনি আগেই স্থান ত্যাগ করতে পারবেন। বাস আগে আসবে কি পরে আসবে এসবই অনিশ্চিত বিষয়। কোন কিছুতে দেরী করবেন না। কেউ আপনার জন্য অপেক্ষা করবে না। হাজীদের যথাসময়ে হজ্বের আরকান সমাপন করতে হবে এবং অগ্রসর হতে হবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। হজ্জের দিনগুলিতে নিজে নিশ্চিত থাকবেন যে আপনি প্রত্যেক আনুষ্ঠানিকতার সময় সঠিক জায়গায় অবস্থান করছেন। মক্কা, মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফায় সীমানা চিহ্নের জন্য বিশাল বিশাল স্তম্ভ রয়েছে। জায়গাগুলি জ্যামিতিকভাবে সুনির্ধারিত নয়। যানবাহন ও মানুষের কারণে যে কেউ বিভ্রান্ত হতে পারে এবং উপলব্ধি করতে নাও পারে যে সে সঠিক অবস্থানে রয়েছে। সবসময় প্রস্তুতি নিয়ে থাকবেন এবং জায়গাগুলির মধ্যে হাটাহাটির অভ্যেস রাখবেন যাতে যানজটের কারণে বা দুর্ঘটনার কারণে যানবাহন পাওয়া না গেলে প্রয়োজনের সময় আপনি সঠিক জায়গায় অবস্থান করতে পারেন। যানবাহন পাওয়া গেলেও হেটেও দ্রুত পরবর্তী অবস্থানে দ্রুত যাওয়া সহজ হবে। নিজের অর্থকড়ি অথবা মানুষের সাথে লেনদেনের বেলায় সাবধান হোন। পকেটমারের উদাহরণও রয়েছে। সাধারণ কথায়, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও জিনিসপত্র রক্ষায় নিজের সাধারণ জ্ঞান প্রয়োগ করা উচিত। হারামাইন শরীফে প্রবেশের সময় নিরাপত্তা পুলিশ দ্বারা তল্লাশীর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। মহিলা রক্ষীগন মহিলা হাজীদের তল্লাশী করেন আর পুরুষ রক্ষীরা পুরুষদের। সৌদি পুলিশ ও অফিসারদের সাথে তর্কবিতর্কে জড়াবেন না। আল্লাহ তাদের ও আমাদের উপর দয়া করুন।
জামারায় পাথর নিক্ষেপ ঃ জামরায় পাথর নিক্ষেপের কিছু কিছু সময় মানুষের ভীড় কম থাকে সেই সময়গুলোতে পাথর নিক্ষেপ করার চেষ্টা করুন। পাথর নিক্ষেপ করতে যাবার সময় পাথর ছাড়া ব্যাগ, ছাতা, পানির বোতল, কোন কিছুই হাতে বহন করতে দেয় না, গেটে প্রবেশের পূর্বেই এগুলো কেড়ে নিয়ে রাখে, এগুলো পরে খুজে পাওয়া দুস্কর। গরমের সময় ভীড়ের মধ্যে পাথর নিক্ষেপ করতে যাওয়া শরীরের জন্য কষ্টদায়ক। তাই যাওয়ার সময় সাথে শুধু নুড়ি পাথর, আপতকালীন অল্প কিছু টাকা, আইডি কার্ড এবং আপনার মিনায় অবস্থানের তাবু কার্ড সাথে রাখবেন। এখানে লক্ষণীয় হুড়াহুড়ি হয় এবং আপনি অতিরিক্ত জিনিসের প্রতি খেয়াল রাখতে পারবেন না। পাথর নিক্ষেপ করার সময় খুব সাবধানে থাকবেন। পাথর নিক্ষেপ করতে মাত্র এক দুই মিনিট লাগে সুতরাং ঠেলাঠেলি ও ধাক্কাধাক্কির কোন প্রয়োজন নেই। এখানে সৌদি পুলিশের ট্রাফিক নির্দেশনা ও পরামর্শ মেনে চলুন। যদি আপনার কিছু পড়ে যায় বা হারিয়ে যায় তবে নিচু হয়ে তুলতে যাবেন না। আপনি পদদলিত হয়ে যেতে পারেন। সর্বোপরি ধৈর্য্য ধরুন। ধৈর্য্য থাকলে আপনি ইনশাআল্লাহ সঠিকভাবেই এটা করতে পারবেন। জমারাতের কিনারার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। যদি জমারাতের পার্শদেশে যেতে পারেন তাহলে আপনি জমারাতে পাথর মারতে পারবেন। পাথর গরাদের উপর বেশী ঝুঁকবেন না, ভীড়ের কারণে আপনি পড়ে যেতে পারেন। অনেক দুর থেকে আপনি জমারাতে পাথর মারতে চেষ্টা করবেন না। আপনি জমারাতে আঘাত করতে ব্যর্থ হতে পারেন এবং এতে অন্য হাজীর গায়ে সে পাথর লাগতে পারে। এতে পুন্যের চেয়ে গুনাহ হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। জামরাতে যাতায়াতের সময় রাস্তার দুপাশে ট্যাপে খাবার পানির সুন্দর ব্যবস্থা আছে।
ট্রাফিক আইন ঃ সৌদি আরবে অবস্থানকালে ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, সিগন্যাল পড়লে রাস্তা পার হোন। রাস্তা পার হওয়ার সময় অবশ্যই ডানে-বাঁয়ে দেখেশুনে সাবধানে পার হবেন। কখনো দৌড় দেবেন না। রাস্তায়, হেরেম শরীফদ্বয়ে, মিনাতে, মুজদালিফায়, আরাফাতে, জামরায়, রওজা শরীফে সব জায়গায়-সর্বদা সৌদি পুলিশের ট্রাফিক নির্দেশনা ও পরামর্শ মেনে চলুন।
স্বাস্থ্য পরামর্শ ঃ বাড়ী থেকে শুকনো খাবার, পুষ্টিকর বিস্কুট ইত্যাদি সাথে নিন । প্রচুর পানি ও ফলের রস পান করুন। সবসময় নিজের সাথে বোতল ভরা পানি রাখুন। এক্ষেত্রে স্যালাইন ও গ্লুকোজ রাখতে পারেন। হজ্জের দিনগুলিতে কার্বোনেটেড পানীয় ও শক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। মক্কা-মদিনায় প্রচুর বাংলাদেশি হোটেল আছে। এসব হোটেলে ভাত, মাছ, মাংস, সবজি, ডাল-সবই পাওয়া যায়। মক্কা-মদিনায় প্রচুর ফলমূল ও ফলের রস পাওয়া যায়। এগুলো কিনে খেতে পারেন। প্রচন্ড গরমের সময় প্রচুর পানি বা প্রচুর তরল পানীয় পান করুন। এনার্জি ড্রিঙ্ক, নানা রঙ বে-রঙের পানীয় ও শক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। প্রচুর হাটার জন্য প্রস্তুতি রাখুন সেইসাথে দুই জোড়া আরামদায়ক স্পঞ্জের স্যান্ডেল সাথে রাখুন। অধিকাংশ আধুনিক জুতা ও স্যান্ডেল ইহরামের সময় ব্যবহারের অনুমতি নাই । শরীরের কোনো স্থান কেটে গেলে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম ব্যবহার করুন এবং ক্ষতস্থানটি প্লাস্টার কিংবা ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে দিন। কোনো ধরনের অসুস্থতা কিংবা দুর্ঘটনায় পড়লে বাংলাদেশ হজ মিশনের মেডিকেল সদস্যদের (চিকিৎসক) সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এছাড়া আপনি পুরোটা সময় সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, রেড ক্রিসেন্টসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। সমস্যাটি হবে ভাষাগত। তাই আপনার চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপত্র সাথে রাখুন প্রয়োজনে দোভাষীর সহযোগীতা নিন। জরুরি প্রয়োজনে আপনার মোবাইল কিংবা ল্যান্ডলাইন থেকে ৯৯৭-এ ফোন করুন, এ্যাম্বুলেন্স হাজির হয়ে যাবে। ৯৯৯-এ পুলিশ কে পাবেন। হজ্জ্বের সময় এরা খুব সুন্দর সেবা দেবে। ফরজ হজ্জের পূর্বে বেশী বেশী ওমরা হজ্জ করে, নফল তাওয়াফ, ঠান্ডা পানি পান করে, অযথা হাটাহাটি করে, জিয়ারতে যেয়ে, অ-স্বাস্থ্যকর-অতিরিক্ত খাবার খেয়ে শরীর খারাপ করবেন না। নফল আদায় করতে গিয়ে ফরজে যেন কোন ত্রুটি না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে বেশ সতর্ক থাকুন, পেট খালি রেখে অপেক্ষাকৃত কম খাবার চেষ্টা করুন।
বাংলাদেশ হজ্ব মিশন ঃ হজযাত্রীদের যাবতীয় তথ্য, দেশের পরিবার-পরিজনের কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে সংবাদ পৌঁছানো যায়। হারানো হজযাত্রীদের খুঁজে পাওয়া ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশ হজ মিশনে বিজনেস অটোমেশন লি. আইটি হেল্প ডেস্ক সাহায্য করে। যাতে করে হজের সময় হজযাত্রীদের যেন কোনো রকম কষ্ট না হয়। আপনার ট্রাভেল এজেন্সি আপনাকে যথাযথ সুবিধাদি (দেশ থেকে আপনাকে থাকা, খাওয়াসহ অন্য যেসব সুবিধার কথা বলেছিল) না দিলে আপনি মক্কা ও মদিনার বাংলাদেশ হজ মিশনকে জানাতে পারেন। এতেও আপনি সন্তুষ্ট না থাকলে সৌদির ওয়াজারাতুল হজকে (হজ মন্ত্রণালয়) লিখিত অভিযোগ করতে পারেন। হজ মন্ত্রণালয় মিনার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে (যেখানে হজযাত্রীদের সহজে চোখে পড়ে) কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত ইলেকট্রনিক বিলবোর্ডে পৃথিবীর প্রায় ১৮টি ভাষায় বিভিন্ন জরুরি দিকনির্দেশনা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রচার করে। মক্কা-মদিনায় অনেক বাংলাদেশি কাজ করেন, তাই ভাষাগত কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। হাজ্বীগণকে সহায়তার জন্য সর্বত্র স্থাপিত হজ্জ সহায়তা বুথ আপনাকে হোটেল, তাবু, জমারাত, মসজিদ খুঁজে পেতে সহায়তা করবে।
আরাফাতের ময়দান ঃ আরাফাতের ময়দানে অনেক প্রতিষ্ঠান বিনা মূল্যে খাবার, জুস, ফল ইত্যাদি দিয়ে থাকে। ওই সব খাবার আনতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কি হয়, তাই সাবধান থাকবেন। মুজদালিফায় রাতে থাকার জন্য প্লাস্টিকের পাটি পাওয়া যায়। মক্কায়ও কিনতে পারবেন। আরাফাতের ময়দান থেকে যদি হেঁটে মুজদালিফায় আসেন, পথে টয়লেট সেরে নেবেন। কেননা মুজদালিফার টয়লেটে অনেক ভিড় লেগে যায়। আরাফাত থেকে মুযদালিফায় ফিরে খোলা আকাশের নিচে রাত্রি যাপন করতে হয়; অনেকে আরাফাতের সীমানায় থেকে যান। এটি মনে রাখা খুবই জরুরি। হজ্বের আহ্কাম ভুল করা যাবে না। আবার অনেকে আগেভাগে মিনা’য় চলে যান তাদের তাবুতে এটা করা ঠিক নয়। মাগরীবের পর আরাফাত এর সীমানা পেরিয়ে মুযদালিফায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করবেন।
মিনা ঃ হজ্বের দিনগুলোতে বেশির ভাগ সময় হজযাত্রীদের মিনায় তাঁবুতে অবস্থান করতে হয়। তাই মিনাকে এক হিসেবে তাঁবুর শহর বলা যায়। চারদিকে তাঁবু আর তাঁবু-সব তাঁবু দেখতে একই রকম। মোয়াল্লিম নম্বর বা তাঁবু নম্বর জানা না থাকলে যে কেউই হারিয়ে যেতে পারেন। বিশেষ করে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের বড় অংশ বৃদ্ধ বয়সে হজ করতে আসেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখেন না। অনেকে হারিয়ে ফেলেন গন্তব্য। বাংলাদেশি হজযাত্রী কিছু আছেন সচেতন, তাঁরা বাদে বাকিরা তাঁবু নম্বর মনে রাখতে পারেন না। সব তাঁবু দেখতে একই রকম হওয়াতে পথ হারিয়ে ফেলেন। বাংলাদেশের পতাকা বা বাংলায় কথা বলা শুনে প্রবাসী বাংলাদেশি হজকর্মীরা তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছে দেন। এ সমস্যা এড়ানোর জন্য যে তাঁবুতে অবস্থান করেন, সেসব তাঁবু চিহ্নিত করে নিন। মোয়াল্লিম অফিস থেকে তাঁবুর নম্বরসহ কার্ড দেওয়া হয়; তা যতেœ রাখুন। বাইরে বের হওয়ার সময় সঙ্গে রাখুন। হজযাত্রী সচেতন থাকলে হারিয়ে যাওয়ার কোনো ভয় নেন। অনেক বাংলাদেশি হারিয়ে যাওয়ার কারণে হজের আহকাম বা নিয়ম-কানুন ঠিকমতো পালন করতে পারেন না। মিনা ও মক্কায় চুল কাটার লোক পাওয়া যায় নিজেরা নিজেদের চুল কাটবেন না, এতে মাথা কেটে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে, তবে আভিজ্ঞতা থাকলে একে অপরের চুল কাটতে পারেন। মিনায় কোনো সমস্যা হলে হজযাত্রীদের সেবা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ হজ মিশনের তাঁবুতে যোগাযোগ করবেন।
দেশরখবর ঃ মক্কা-মদিনা থেকে বাংলাদেশে কম খরচে ফোন করা যায় (কোনো বাংলাদেশিকে বললে দেখিয়ে দেবেন)। সৌদি আরবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে চাইলে সঙ্গে সেট নিয়ে যাবেন, ওখানে হজ্জ প্যাকেজ মোবাইল সীম কিনতে পাওয়া যায়।
হোটেল/বাড়ী ঃ হোটেল থেকে বেরুবার আগে পবিত্র হয়ে নিন,অজু সেরে নিন ;যদিও হেরেম শরীফ ও মসজিদে নববীর চারপাশ জুড়ে অসংখ্য টয়লেট রয়েছে।
কোরবানী ঃ পশু কোরবানি দেয়া অনেক পরিশ্রমের কাজ। পশু কোরবানীর জন্য মোয়াল্লেম/এজেন্সী/গাইড এর সহযোগীতা নিন। আপনার মোয়াল্লেম/এজেন্সি/গাইড পশু ক্রয় ও কোরবানীর জন্য নির্ধারিত টাকা জমা নেবে। পশু কোরবানীর সময় ইচ্ছা করলে আপনাদের মধ্য হইতে দুই-চারজন তাদের সঙ্গে থাকতে পারেন। এছাড়া মক্কায় হারামাইন শরীফের সামনে অবস্থিত আল রাজী ব্যাংকে কোরবানীর টাকা জমা দিতে পারেন।
কেনাকাটা ঃ হজ্জের সময় সব দোকানগুলিতে প্রচুর ভীড় থাকে। ইসলামী স্মৃতিচিহ্ন সম্বলিত জিনিস কেনাকাটার জন্য হজ্জ পরবর্তী সময়কে বেছে নেয়া উচিত(যদি ফ্লাইট হজ্জের পর থাকে) সে সময় মক্কা ও মদিনায় মূল্য কম থাকে। খেজুর মদিনা হইতে ক্রয় করাই ভাল। এর চেয়ে বেশি কিছু আনতে চাইলে কোনো দ্বীনী কিতাব, কোরআন তেলাওয়াতের সিডি-ইসলামী গান (ছবি/বাজনা ছাড়া), আতর, টুপি, তাসবীর দানা, মেসওয়াক, বোরখা, হিজাব, স্কার্ফ কিংবা জায়নামায। যদি হজ্ব শেষ হবার এক সপ্তাহের মধ্যেই ফ্লাইট থাকে তাহলে কেনাকাটা হজ্বের পূর্বেই শেষ করুন। কেনাকাটার সময় দরদাম করে কিনবেন। নির্ধারিত ওজনের বাইরে মালামাল কিনে থাকলে বিমানে উচ্চহারে ওয়েট চার্জ দিতে প্রস্তুত থাকুন।
বিবিধ ঃ জেদ্দা-মক্কা-মদিনা-মিনা-আরাফা-মুজদালিফা-মিনা-মক্কা-জেদ্দা ভ্রমনের সময় হাত ব্যাগে বিশেষ করে জায়নামাজ, হালকা খাবার, টয়লেট পেপার, তায়াম্মুমের মাটি, ওজু ও খাবারের পানি সঙ্গে রাখুন। এই সকল জায়গায় ভ্রমনের পথে যে সমস্ত হোটেল/মসজিদে নামাজ ও খাবারের জন্য গাড়ী বিরতি দেয় সেই সকল জায়গায় অনেক সময় পানির খুবই সঙ্কট দেখা দেয়। সব সময় ওজু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করুন। হাটার সময় পিঠে ঝোলানো ব্যাগ নিয়ে হাটা বেশ সুবিধাজনক। হজ্জের পূর্বে মদিনা হইতে মক্কায় ফেরার পথে ইহরামের কাপড় হাত ব্যাগে রাখুন । হজ্জের সফরে কোনক্রমেই যেন নামাজ কাজা না করি। নিজের মাল-সামানা, ব্যাগ ইত্যাদি নিজ হেফাজতে ও নিজ দায়িত্বে রাখুন। অযথা হাট-বাজারে ঘুরাঘুরি করে বৃথা সময় নষ্ট করিবেন না। জমজমের পানি দামী-মজবুত প্লাস্টিকের কন্টেনারে ভরে র‌্যাপিন করুন,কারন পানি বাংলাদেশে পৌছানোর পূর্বেই অনেক কন্টেনার ফেটে সব পানি বের হয়ে যেতে পারে। চুক্তি মোতাবেক হয়তো এজেন্সি/গাইড/মোয়াল্লেম আপনাকে হারাম শরীফের ৫০০ মিটারের মধ্যে আবাসিক হোটেল দেবে বলেছিল, আপনি পেলেন ২ কিলোমিটার দূরে, আপনাকে আসতে যেতে হবে এজেন্সীগুলোর নিজস্ব পরিবহন কিংবা ব্যক্তিগত ব্যবস্থায়। এ সময় চাই অফুরন্ত প্রাণশক্তি আর উদ্দাম। অতএব প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন, চুপ থাকুন, সেটিই বোধহয় ভাল। সৌদি আরবে অবস্থানকালে কোনো চাঁদা ওঠানো, সাহায্য চাওয়া, ভিক্ষা করা দন্ডনীয় অপরাধ। সুতরাং এগুলো থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, মসজিদে নববী ও মসজিদুল হারামের সীমানার মধ্যে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা আপনার হজ্জ্ব কবুল করুন, হজ্জ্বের পরিপূর্ণ সওয়াব আপনাকে দান করুন এবং হজ্জব্রত পালন আপনার জন্য সহজ করুন। আমিন। বিভিন্ন তথ্য- নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও অনলাইন। লেখক-মাস্টার্স, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং এবং কামিল (অধ্যায়নরত) হাদিস বিভাগ-সঁহরনশংঃ@মসধরষ.পড়স