দুর্ভোগ বাড়িয়েছে ভাঙা বাঁশের ব্রিজ



কুমারখালী প্রতিনিধি

ব্রিজটি আকারে ছোট ও বাঁশের তৈরি হলেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। দুইটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ের শতশত শিক্ষার্থী আর কয়েক হাজার গ্রামবাসীর নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতে দিনরাত চলাচলে ব্যন্ত থাকে এটি। কিন্তু সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্থায়ী ও টেকসই মেরামত না হওয়ায় বছরে কয়েকবার ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে ব্রিজটি। তখন ভিক্ষাবৃত্তি করে স্থানীয়দের সহযোগীতায় স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করিয়ে কোনো রকমে কাজ চালিয়ে নেই ভুক্তভোগীরা। এভাবেই যুগ যুগ ধরে এক ভাঙা গড়ার খেলায় মেতে চলে আসছে কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলাধীন দক্ষিন অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাংস্কৃতির ধারক – বাহক ও সেরা বিদ্যাপীঠ যদুবয়রা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই বাঁশের ব্রিজটি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিকের ক্যানালের উপর নির্মিত অস্থায়ী ব্রিজটির দৈর্ঘ প্রায় ৭০ ফিট এবং প্রস্থ ৩ ফিট। তবে স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিবছর ভেঙে পড়ার সাথে সাথেই ব্রিজটি মেরামত করা হলেও এবার আর হয়নি। করোনা ভাইরাসের কারনে দীর্ঘদিন স্কুল গুলো বন্ধ এবং মহামারীতে মানুষের কাছে অর্থ সংকট থাকায় প্রায় এক বছরের অধিক সময় ব্রিজটি ভেঙে ভোগান্তির কারন হয়ে আছে। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বাঁশের এই গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি ভেঙে সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবুও প্রয়োজনের তাগিদে জীবনের ঝুকি নিয়ে একজন আরেক জনের হাত ধরে ও ঝুলাঝুলি করে ব্রিজের নিচে ক্যানালের ভিতর দিয়ে চলাচল করছে। ক্যানালে পানি দেওয়া হলে দুর্ভোগ বেড়ে যায় অনেক গুণ। অনেকে আবার ব্রিজ ভাঙা থাকায় আধা কিলোমিটার দুরে গিয়ে ঘুরে এসে প্রয়োজন মেটাচ্ছে। এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, ব্রিজটি বাঁশের হলেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যদুবয়রা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধান রাস্তা জয়বাংলা বাজার ও ছাতিয়ান বাজার। প্রধান রান্তা দুইটি বাজার কেন্দ্রীক ও দুরবর্তী হওয়াই ছাত্রদের জন্য তেমন অসুবিধা না হলেও ছাত্রীদেন নানাবিধ সমস্যা ও ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়। সংগত কারনেই শিক্ষার্থীরা সহজ, ঝামেলামুক্ত ও শর্টকার্ট জিকে ক্যানালের উপর নির্মিত এই বাঁশের ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করে। এছাড়াও ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পুলিশ ক্যাম্প, যদুবয়রা পশুহাটে চলাচলেরও শর্টকাট রাস্তা এটি। প্রতিদিন শতশত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দিনরাত চলাচলের রাস্তা ব্রিজটি। এবিষয়ে ভুক্তভোগী যদুবয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মিনা খাতুন বলেন, জিকে ক্যানালের এপারে (পশ্চিম) আমার বাড়ি। এই বাঁশের ব্রিজ পার হয়েই আমার স্কুলে যেতে হয়। কিন্তু প্রতিবছরে কয়েকবার ব্রিজটি ভেঙে ভোগান্তিতে পরিনিত হয়। ওই স্কুলের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী মারিয়া বলেন, প্রতি বছরই শিক্ষার্থীরা ব্রিজ ভেঙে পানিতে পরে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। মারাত্মক দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও ব্রিজ ভাঙলে আবার শিক্ষার্থীদের বাজার দিয়ে চলাফেরা করতে হয়। এতে সমস্যার অন্ত নেই। ব্রিজ দিয়ে চলাচলকারী কলেজ ছাত্র রাসেল হোসেন বলেন, প্রতিবার ভাঙার পরপরই মেরামত করা হয়। কিন্তু এবার এক বছরেও মেরামত হয়। শুনেছি স্কুল বন্ধ ও করোনায় মানুষের টাকা না থাকায় এমন ভগ্নোদশা। জোতমোড়া বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ইসমাতারা বলেন, প্রাইভেট পড়ার জন্য এই ব্রিজ দিয়ে যদুবয়রা স্কুল এলাকায় যেতে হয়। ব্রিজটি ভাঙা থাকায় এখন বাজার ঘরে পড়তে যায়। বাজার ঘুরে যেতে অনেক সমস্যা ও দুর হয়। সে আরো বলেন, প্রতি রোববার সপ্তাহিক হাট বসে। হাটে অনেক ভীড় থাকে। সেদিন বাজার ঘুরে যেতে অনেক সময় লাগে, দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান এবং কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় যুগ যুগ ধরে ভোগান্তিতে শত শত শিক্ষার্থী ও কয়েক হাজার জন সাধারন। একটি টেকসই ব্রিজ নির্মাণ করা হলে এলাকাবাসীর উপকারে আসে। এই বাঁশের ব্রিজটির গুরুত্ব সম্পর্কে যদুবয়রা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, শুধু হাই স্কুল বা প্রাইমারী নয়, যদুবয়রা ভুমি অফিস ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের চলাচলের প্রধান শর্টকার্ট সড়ক এটি। প্রতিদিনই প্রায় কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের সড়ক এটি। এতদিনেও কোন ফুট ওভার ব্রীজ তৈরি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। যদুবয়রা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী ৫৭০ জন এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৯৫০ জন। বাঁশের সেতুটি ভেঙে গেলে ঐ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের উপস্থিতির হার কমে যায় ‘ এতথ্য নিশ্চিত করেছেন যদুবয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুন্সী বজলুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা কর্তৃপক্ষের সুনজর কামনা করি। যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও যদুবয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ শরিফুল আলম বলেন, ব্রিজ না থাকায় শিক্ষার্থীদের বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিশেষ করে মেয়েদের খুব কষ্ট হয়। তিনি আরো বলেন, এখানে প্রায় ৭৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি ত্রাণের ব্রিজ নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষার কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকী কাজ গুলো খুব দ্রুতই বান্তবায়ন হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *