প্রণোদনা প্যাকেজে অর্থনীতি ‘ঘুরে দাঁড়াচ্ছে’-সংসদে প্রতিবেদন


নিউজ ডেক্স

করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবেলা ও অর্থনৈতিক উত্তরণে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন এবং ভাইরাস প্রতিরোধে টিকা কার্যক্রম গ্রহণের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ‘ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত’ দিচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বাজেট ২০২০-২০২১: জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও আয়-ব্যয়ের গতিধারা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ’ নামের এই প্রতিবেদন রোববার জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পক্ষে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক সংসদে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।প্রতিবেদনে বলা হয়, সামগ্রিকভাবে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে।“বিশেষ করে, মাথাপিছু জাতীয় আয় বাড়ছে, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার সন্তোষজনক রিজার্ভ, চলতি হিসাবের লেনদেনে উদ্বৃত্ত অবস্থা, মুদ্রা বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা ও মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী প্রবণতা নির্দেশ করে যে, আমরা অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠে সমৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসতে সক্ষম হব।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে এনবিআরের কর রাজস্ব আদায় হয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেশি।
“করোনাভাইরাসের প্রভাব সত্ত্বেও রাজস্ব খাতে নানারকম সংস্কারমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন চলমান থাকায় রাজস্ব আদায়ের হার আশাব্যঞ্জক।”

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থবছরের প্রথমার্ধে মোট সরকারি ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৪১ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা। অর্থাত্, গত অর্থবছরের প্রথমার্ধের তুলনায় সরকারি ব্যয় ১০ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমেছে।মহামারীর প্রভাব দীর্ঘতর হওয়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে সরকারি ব্যয় প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি। তবে সামনের দিনগুলোতে এই ব্যয় বাড়ানোর জোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মোট বরাদ্দের ২৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ২৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ ছিল। কোভিড-১৯ এর প্রভাবে বাস্তবায়ন অগ্রগতি কিছুটা পিছিয়ে আছে।

এই সময়ে প্রবাসী আয় এসেছে ১৬ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার, অর্থাত্ গত অর্থবছরের প্রথমার্ধের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ।সরকারের দুই শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ায় ও রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ করাসহ বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যক্রম নেওয়ার কারণে প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত আছে। আগামী দিনগুলোতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির এ ধারা বজায় রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

অর্থমন্ত্রীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উর্ধ্বগামী প্রবণতা চলমান রয়েছে। রিজার্ভ রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বরে ৪৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।

অর্থবছরের প্রথমার্ধ শেষে রপ্তানি আয় ১৯ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মাত্র ০ দশমিক ৩৬ শতাংশ কম।বিগত অর্থবছরের একই সময়ে এক্ষেত্রে সংকোচনের হার ছিল ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। বর্তমান অর্থবছরে রপ্তানির কিছুটা ঊর্ধ্বগতি করোনার প্রভাব কাটিয়ে রপ্তানি ঘুরে দাঁড়ানোর ঈঙ্গিত বহন করে।”

প্রতিবেদনে জানানো হয়, আমদানি ব্যয় আগের অর্থবছরের প্রথমার্ধের তুলনায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ কমে তা ২৫ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। মূলত করোনাভাইরাসের প্রভাবে শিল্প খাতের কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি কম হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *