ফিটিং কেসের হেলপার দফাদার আজীম


=চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শহিদুল ও উদ্যোক্তা শামীমের আমলনামা-৩ =

আরিফ/হৃদয়

কুষ্টিয়র কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শহিদুল ইসলাম,উদ্যোক্তা শামীম হোসেন ও দুর্নীতি ও অনিয়মে অতিষ্ঠ ইউনিয়নের সুবিধাভোগীরা। আর এ সকল ফিটিং কেসের হেলপার দফাদার আজীম। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দেশে শিশু জন্মের ৪৫ দিন পর্যন্ত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে কোনো ফি নেয়া হয় না। ৪৫ দিন বয়সের পর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ২৫ টাকা এবং ৫ বছরের ওপরে সব বয়সীদের ৫০ টাকার বেশি ফি গ্রহণ করা যাবে না। কিন্তু শহিদুল ইসলাম সরকারের এই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেই নতুন নিয়ম করেছেন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে। এছাড়া শামীমের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অনলাইনে সুবিধাভোগীদের নাম, ঠিকানা ভুল লেখে পুনরায় ঠিক করে দেয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ সরকারি বিধি মোতাবেক নতুন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সর্বোচ্চ ফি ৫০ টাকা। কিন্তু সচিব শহিদুল ইসলামের নির্দেশনায় দফাদার আজিমের মাধ্যমে এর স্থলে প্রতিটি জন্মনিবন্ধনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে নিচ্ছেন উদ্দ্যোক্তা শামীম। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কারনে গ্রাহকরা রশিদ চাইলে রশিদ লাগবে না বলে তাল বাহানা করেন এই ৩ ব্যক্তি। এগুলো বাদেও তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে সেবা গ্রহীতাদের সাথে খারাপ আচরণ করার।
সুত্র জানায়, এই ৩ ব্যক্তি কেউ জন্ম নিবন্ধনের জন্য আসলে প্রথমে তাকে সার্ভারের সমস্যা,আপনার নাম অনলাইনে নেই, কাগজপত্র ঝামেলা আছে বলে বিভিন্ন অজুহাতে ফিরিয়ে দেন। পরে ৫০০-৩০০০ টাকায় কেউ যদি চুক্তি করে তাহলে দফাদার আজীম ও শামীম সচিবের পারমিশন নিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নিবন্ধন দেন তিনি। শুধু তাই নয় চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদে এই সচিব শহিদুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই তিনি দুর্নীতি, অনিয়মসহ ইউপি সদস্য ও জনগণের সাথে অসদাচরণ ব্যবহার করে আসছেন। এতে জনগনসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তিনি টাকা ছাড়া কোন কাজ করেন না।
নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায়,পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হাসান রিন্টু প্রত্যেকটি জন্মনিবন্ধনের ফাইল একত্রে করে গ্রাহকদের নিকট মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে কার কাছ থেকে কত টাকা নিয়েছে তা জিজ্ঞাসা করেন। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার উর্দ্ধে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়েছে বওে প্রমাণ মেলে। বিষয়টি নিয়ে চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের তোপের মুখে পড়ে সচিবের পরামর্শে ১৫ হাজার টাকা চেয়ারম্যানের কাছে উদ্যোক্তা শামীম ফেরত দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
শুধু তাই নয় কয়েকমাস আগে মনোয়ার হোসেন লালনকে প্যানেল চেয়ারম্যান থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন সচিব শহিদুল ইসলাম। পরে ঘুষ না দেওয়ার কারনে ৩ কার্য দিবসের মধ্যে দায়িত্বভার দেওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন রকম তালবাহানা করে ১৫ দিন পরে মনোয়ার হোসেন লালনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার দিয়েছিলেন। মনোয়ার হোসেন লালন দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সচিব শহিদুল ইসলাম সাধারন জনগনের কাছে বাড়ির ট্যাক্স ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স এবং ৫ টি ইট ভাটার ট্যাক্স নিজেই স্বাক্ষরিত করে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এমন অভিযোগ করেছেন খোদ সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন লালন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিষদের কয়েকজন সদস্য জানান, উদ্যোক্তা শামীম ও দফাদার আজিম সচিবের নির্দেশে জন্মনিবন্ধন করতে আসা সকল গ্রাহকদের কাছ থেকে সুযোগ বুঝে ২০০ থেকে ২০০০ হাজার পর্যন্ত টাকা নিয়েও কাজ সম্পন্ন করছে না। এ ছাড়াও উদ্দ্যোক্তা শামীম ইউনিয়নের সরকারি কাজে ব্যবহৃত প্রজেক্টর টাকার বিনিময়ে পাবলিকের কাছে ভাড়া দিচ্ছেন। আর সরকারি কোন কাজে প্রজেক্টর প্রয়োজন হলে উদ্দ্যোক্তা শামীম প্রজেক্টর নষ্ট বলে চালিয়ে দিচ্ছেন। তাছাড়া উদ্দ্যোক্তা শামীম সচিবের যোগ সাজসে অফিস সময় বাদে নিজের বাসায় ভিআইপি গ্রাহকদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তার নিজের বাসায় জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুনিবন্ধন সহ যাবতীয় কাজ বেআইনীভাবে করে দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন লালন অভিযোগ করে বলেন,আমি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এলজি এসপি -৩ এর কাজ আসে প্রায় সাড়ে ২৩ লক্ষ টাকার এবং বিগত বছরের পারফরম্যান্স মানি হিসেবে ৭ লক্ষ টাকা অনুদান আসে। এতে মোট প্রায় ৩১ লক্ষ টাকা আমার হাতে কাজ আসে। সেখানেও সচিব এই কাজ আমার হাতে এস্টিমেট করার জন্য ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। আমি ঘুষ দিতে অস্বিকার কঅরি। পরে আমি সেই প্রকল্পের ২১ লক্ষ টাকার কাজ সম্পন্ন করি। এই কাজের বিল পাশের জন্য সচিব আবারো আমার কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করে। ঘুষ না দেওয়ায় সচিব আমার ২ লক্ষ টাকা আটকিয়ে রেখেছে।
নগর সাঁওতা এলাকার সোহেল খন্দকার নামে এক ব্যাক্তি অভিযোগ করে বলেন, সাড়ে তিনমাস আগে আমি আমার জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করার জন্য কাগজপত্র দিয়েছি। সরকারি ফি ৫০ টাকা থাকলেও আমার কাছ থেকে এখান থেকে ১৫০ টাকা নেয়া হয়েছে। এরপর আমি ১ মাস আগে চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদে আমার জন্ম নিবন্ধন নিতে আসলে সচিব শহিদুল ইসলাম বিভিন্ন অজুহাতে সার্ভার প্রবলেম, আমার কাগজপত্র ঠিক নয়, আমার নাম অনলাইনে নাই, বলে আমাকে কয়েকবার করে ঘুরাতে থাকে।পরবর্তীতে আমি সমন্ত কাগজপত্র ঠিক করে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত কপি এবং সচিবকে সমন্ত কাগজপত্র দেখানোর পরে সচিব কাগজপত্র স্বাক্ষর করে দিলে আমি কাগজপত্র জমা দিয়ে যায়। আমি আবারও আমার জন্মনিবন্ধন নেয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে আসলে এখানকার উদ্দ্যোক্তা শামীম আমাকে পুনরায় সচিব এবং চেয়ারম্যানের কাছে যেতে বলে । শামীম বলেন আমার নাম নাকি অনলাইনে নেই । এখানে আমার প্রশ্ন যদি আমার নাম অনলাইনে নাই থাকবে তাহলে চেয়ারম্যান এবং সচিব কেন আমার কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে দিলেন। এ বিষয়ে উদ্যোক্তা শামীম বলেন, এই ধরনের ভুল হলে ভুক্তভোগীদের আমার কাছে পাঠিয়ে দেন আমি পুনরায় ঠিক করে দেবো। দফাদার আজিম বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ থাকলে আপনারা সংবাদ প্রকাশ করতে পারেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *