বেড়েই চলেছে আত্মহননের ঘটনা, তিনমাসে ২০ মামলা



কুমারখালী প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বেড়েই চলেছে আত্মহত্যার ঘটনা। চলতি বছরে থানায় এ ঘটনায় মামলার (অপমৃত্যু) সংখ্যা ২০ টি। গেল বছরে (২০২০ সাল) এ মামলা ছিল ৬২টি। দশ বছরের শিশু থেকে ৭৫ বছরের বয়স্করাও আত্মহননের পথ বেঁছে নিয়েছেন। সামাজিক সংগঠন, সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকসহ বিভিন্ন সুত্র জানায়, সকল ধর্মেই আত্মহত্যা মহাপাপ। তবে সংসারে অভাব, পারিবারিক কলহ, প্রেমে ব্যর্থ, জঠিল ও কঠিন রোগ, অভিমান, অসচেতনতাসহ নানাবিধ কারনে মানুষ এপথ বেঁছে নেন। তবে পুলিশ বলছে, এ অঞ্চলের মানুষ ভৌগলিক কারণে আবেগ প্রবণ। যেকোন তুচ্ছ ঘটনায় অতি আবেগে তারা আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেন। আত্মহত্যাকারীদের বয়স ১০ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে। থানা সুত্রে জানা গেছে, গেল বছরে থানায় অপমৃত্যুর মামলা ৬২টা ছিল। তবে এবছর আত্মহত্যার প্রবণতা একটু বেশি। মাত্র তিন মাস ২৪ দিনেই এ মামলার সংখ্যা ২০টি। সংসারে অভাব, পারিবারিক কলহ, প্রেমে ব্যর্থ, জটিল ও কঠিন রোগ, বাবা – মা’র প্রতি অভিমানে বিভিন্ন বয়সের মানুষ গলায় ফাঁস বা বিষ জাতীয় দ্রব্যাদি ব্যবহার করে আত্মহত্যা করে। থানায় দায়েরকৃত মামলার বিবরণী সুত্রে জানা যায়, চাপড়া ইউনিয়নের চাপড়া গ্রামের দিনমজুর রাশিদুল ইসলাম। তার মেয়ে রেহেনা (১০) তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। গত শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে মায়ের কাছে ঈদের জামা কেনার বায়না ধরেন। মা জামা দিতে রাজী না হওয়ায় নিজ ঘরে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন রেহেনা। যদুবয়রা ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামের দুলাল বিশ্বাসের ছেলে রানা বিশ্বাস (১৯)। পেশায় একজন গাড়ির হেল্পার ছিলেন। লকডাউন অমান্য করে বাড়ির বাইরে থাকত। রাত জেগে ফেসবুক ও নেট ব্রাউস করত রানা। গত বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) রাতে বাবা বকাঝকা করেন তাকে। অভিমানে ওই রাতেই নিজঘরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন রানা। উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বেড় কালুয়া গ্রামের রেজাউলের মেয়ে রিমা (১৪)। সে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। শিলাইদহ ইউনিয়নের জোড়ারপুরের খোকনের কিশোর ছেলে পিয়াসের সাথে বাল্য বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই কলহ চলে আসছিল। বিয়ের ২২ দিনের মাথায় ২০ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সকালে নিজঘরে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। যদিও স্বজনরা অভিযোগ করেন, আত্মহত্যা নয়, রিমাকে হত্যা করা হয়েছে। তায়েব (৪৫) পান্টি ইউনিয়নের ভালুকা গ্রামের তোফাজ্জেল শেখের ছেলে। তার শরীরে যক্ষা সহ নানান জটিল রোগ ছিল। কোন কাজ করতে পারতেন না। অভিমানে গত ১৪ এপ্রিল (বুধবার) গভীর রাতে বিষপানে আত্মহত্মা করেন। কাঞ্চনী খাতুন (৪০) শিলাইদহ ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের মাঠাপাড়া প্রামাণিকের স্ত্রী। তার স্বামী মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) রাতে খাবার সময় তরকারি নিয়ে বকাঝকা করে। অভিমানে রাতেই পাশের বাড়ির পরিত্যাক্ত ঘরে পড়নের শাড়ী গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। কেন এমন এ আত্মহনন? জানতে চাইলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা এটিএম আবুল মনসুর মজনু বলেন, মানুষের অসচেতনতা, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও পারিবারিক সু-শিক্ষার অভাবে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। উপজেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি আকরাম হোসেন বলেন, অভাব – অনটন, চাওয়া পাওয়া অপূর্ণ থাকা, প্রেমে ব্যর্থ ও সচেতনার অভাবেই মানুষ আত্মহত্যা করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সচেতন নাগরিক এব্যাপারে বলেন, নিয়মিত সচেতনামূলক কর্মসূচি না হওয়ায় মানুষ পথভ্রষ্ট হচ্ছে। তুচ্ছ ঘটনায় অতি বেশি রেগে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিচ্ছে। কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমান বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ আবেগ প্রবণ। তুচ্ছ ঘটনায় অতি আবেগে অল্প বয়স থেকে অতি বৃদ্ধরাও আত্মহত্যা করছে। তিনি আরো বলেন, চলতি বছরে থানায় ২০ টি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *