মিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যানের করোনা সুরক্ষা-সামগ্রী বিতরণ



নিজস্ব প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন করোনা ভাইরাসের সংক্রমন প্রতিরোধে উপজেলার বিভিন্ন সরকারী দপ্তর এবং ইউনিয়নে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেছেন। গতকাল সকালে উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়।এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মিরপুর থানা, উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা পর্যায়ে সকল সরকারী দপ্তরে ২শ করে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রদান করেন।
এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ২৪ তারিখে তিনি এক রেডিও সাক্ষাৎকারে করোনার প্রথম ঢেউ কিভাবে মোকাবেলা করে সফল হয়েছিলেন তার বিবরণ দেন। এবারে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হবার পর এই মহামারী নিয়ন্ত্রনে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা সবচেয়ে সফলতার পরিচয় দিয়েছে তা জানান। উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল জানান, আমার উপজেলায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালীন সময়ে মাত্র ১৩ জন রোগী পজিটিভ হয়েছে, তারমধ্যে ৭ জনই আবার ঢাকা থেকে আসা মানুষ এবং আল্লাহর অশেষ রহমতে ও আমাদের উপজেলা পরিষদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একজন রোগীও মারা যায়নি। তার এই সফলতার বিষয়ে গনমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, একজন জনপ্রতিনিধি কে সবসময় মনে রাখতে হবে তিনি জনগণের ভোটে জনগণের সেবক নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র। তার মানসিকতা থাকতে হবে জনমানুষের সেবা করা। যেটা আমি নিজে আন্তরিক ভাবে করায় আমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ উপজেলার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, থানা-পুলিশ, বিজিবি এবং আমার উপজেলার সব কয়টি ইউনিয়নের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যেমন নিরলস ভাবে কাজ করেছে ঠিক তেমনি আমার দল আওয়ামীলীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা আমাকে সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করায় এই সফলতা এসেছে। পর পর দুইবার নির্বাচিত জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন বলেন, আমি মনে করি আমাদেরও কিছু ভুলত্র“টি থাকতে পারে। তবে, আমার সবচেয়ে বড় সফলতা এই যে আমি নিজে করোনার প্রথম ঢেউ চলাকালীন ব্যক্তিগত ভাবে একটি গাড়ি ও স্বেচ্ছাসেবক টিমের মাধ্যমে বেশ কয়টি মোটরসাইকেল দিয়ে যখন যেখান থেকে খবর এসেছে যে ঐ এলাকায় একজন মানুষের মধ্যে করোনার লক্ষণ দেখা দিয়েছে তখনই সেখানে গিয়ে চিকিৎসাকর্মীরা তার নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে ল্যাব এ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে কোন মানুষকেই ভোগন্তির শিকার হতে হয়নি এবং আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্যদেরও অক্রান্ত হবার সুযোগ ছিলো না। সেই সাথে ঐ ব্যক্তি সহ সেই বাড়ির সবাইকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে কারোর মধ্যে কোন আন্তরিকতার অভাব তখন আমি লক্ষ্য করিনি। কারণ, যারা গরিব অসহায় মানুষ তাদের কে তাৎক্ষনিক খাদ্য সহযোগিতা সহ প্রয়োজনীয় অর্থ আমি ব্যক্তিগত ভাবে যেমন দিয়েছি, ঠিক তেমনি আমার নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দেওয়া খাদ্য সহযোগিতা সহ উপহারের টাকা মিরপুর উপজেলায় শত ভাগ সঠিক ভাবে জনগণের কাছে পৌছে দিয়েছি আমি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যক্তিগত ভাবেই একটি সহযোগিতার মনোভাব আমি এবার লক্ষ্য করছি। তাই আমার বিশ্বাস আমি ও আমার উপজেলা পরিষদের এবং থানা পুলিশের সবাই আবারো সফল হবো মহামারী করোন দমন করতে। সবশেষে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন বলেন, জনগণই আমাদেরকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। নির্বাচিত হবার পর আমরা যদি কেউ নিজেকে শাষক মনে করি তাহলে জনগণ সহযোগিতাতো দুরের কথা নিশ্চয় আমাদের ক্ষমা করবেন না। আর জনগণের সহযোগিতা ছাড়া কোন জনকল্যানমুখি কাজে সফলতা অর্জন করা যায়না এই কথাটি মনে রাখলেই সকল জনপ্রতিনিধিই সফল হবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *