মুজিববর্ষে ৯০১ কোটি টাকার যুবঋণ বিতরণ : অর্থমন্ত্রী



এনএনবি

মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু যুবঋণ কার্যক্রমের আওতায় জামানতবিহীন ৯০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সোমবার সংসদের বৈঠকে প্রশ্নোত্তরে ঢাকা-১৮ আসনের সরকার দলীয় এমপি হাবিব হাসানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
এর আগে সকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিনের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুর¤œ হলে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
একই প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে গ্রহণ করা ‘বঙ্গবন্ধু যুবঋণ’ কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৫৮ হাজার ২৯৭ বেকার যুবককে গত ৮ জুন পর্যন্ত্ম জামানতবিহীন ৯০১ কোটি ৩০ টাকার ঋণ প্রদান করা হয়েছে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুই লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, গ্রামে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বেকার যুবকদের জামানত ছাড়া সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার আলাদা করে পদেক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। তিনি জানান, গ্রামে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বেকার যুবকদের জামানত ছাড়া সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হয়। ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৭ লাখ ৩১ হাজার ৩৯ ঋণগ্রহীতার মাঝে ৮ হাজার ২২১ কোটি ৮৪ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ২৬ লাখ ৩৯ হাজার ৮৭ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে।
আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৪৮৩১ কোটি টাকার মুলধন সংগ্রহ: চট্টগ্রাম-১১ আসনের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, গত ছয় বছরে আইপিও’র (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) মাধ্যমে ৬৮টি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজার থেকে চার হাজার ৮৩১ কোটি টাকার মুলধন সংগ্রহ করেছে। একই প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থ বছর হতে ২০২০-২১ অর্থ বছর (৩ জুন ২০২১) পর্যন্ত পুঁজিবাজারে ৬৮টি কোম্পানিকে আইপিও’র মাধ্যমে চার হাজার ৮৩১ কোটি এবং একটি কোম্পানিকে কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফারের মাধ্যমে সাড়ে ৭ কোটি টাকার মুলধন পুঁজিবাজার হাতে উত্তোলনের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে ৫টি কোম্পানির আইপিও ও চারটি কোম্পানির কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফারের আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
কোভিড-১৯ এর প্রভাবে জিডিপি প্রবৃদ্দি সাময়িক বাধাগ্রস্ত: বগুড়া-৬ আসনের গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত এক দশকের ক্রমাগত উচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্দি অর্জন কোভিড-১৯ এর প্রভাবে সাময়িক বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে রেকর্ড ৮ দশকি ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও ২০১৯-২০ অর্থ বছরে করোনা ভাইরাসের কারণে তা কমে ৫ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়ায়। দেশে কোভিডের প্রাদুর্ভাবের সাথে সাথেই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব, দুরদর্শিতা ও নিরলস কর্মতৎপরতায় বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তেমন বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েনি। বরং বাংলাদেশ কোভিড-১৯ মহামারির অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বে সাফল্যের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *