মেধাকে কাজে লাগিয়ে সফল চাষী পিন্টু মিয়া!



ইজাবুল হক

গতবছর করোনার প্রাদুর্ভাবে সঠিকভাবে কলা বাজারে বিক্রি করতে না পারায়, লোকসানের মুখে পড়ে অনেকেই কলা চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও হাল ছাড়েননি কলা চাষী পিন্টু মিয়া। বরং কৃষক পিন্টু মিয়া চাষ না ছেড়ে বাড়িয়ে ছিলেন।

ঝিনাইদহ জেলার হরিনাকুন্ডু উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের খলিশাকুন্ডু গ্রামের কৃষক পিন্টু মিয়া গতবছর এক একর জমিতে ৭৬০ টি কলা গাছ রোপণ করেছিলেন। পিন্টু মিয়া বলেন, গতবছর করোনার মধ্যে কলা পাকতে শুরু করায় গাড়ি চলাচলা বন্ধ থাকার কারনে বাইরে থেকে কলার ব্যাপারি না আসার জন্য কলার তেমন একটা দাম পাইনি। তবে স্থানীয় ভাবে বিক্রি করে আমার চাষ খরচটা কোনমতে ফিরে এসেছিলো।

পিন্টু মিয়া বলেন, এক একর কলা চাষ করতে জমির লিজ সহ খরচ হয় প্রায় এক লক্ষ টাকার মত। যখন দেখলাম অনেকেই লোকসানের মুখে পড়ে কলার চাষ থেকে সরে যাচ্ছে তখন আমি কলার চাষ না ছেড়ে বরং বাড়ানো পরিকল্পনা করি। এবছর আরও এক একর জমি ৩৬ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে চাষ দ্বিগুণ করলাম। সেই সাথে পরিকল্পনা করলাম কলার সাথী ফসল হিসেবে মুখী কচু আর মরিচের চাষ করা যেতে পারে। প্রথমে জমি ভালোভাবে চাষ করে কচুর মুখী রোপণ করি। যখন কচু গাছের ৪-৬ পাতা হয় তখন সারিবদ্ধভাবে সবরি কলার চারা রোপণ করে দেয়। এতে করে আমার প্রধান ফসল কলার কোন ক্ষতি হয়নি। বরং একই সার সেচে আমার বাড়তি ফসল মুখী কচু বিক্রি করে জমির লিজ ও সার সেচে শ্রম খরচ উঠে আসে আর কলা বিক্রি টাকা আমার লাভে দাঁড়ায়। জমি থেকে কচু বিক্রি করার পরে জমি যখন ফাকা হয়ে যায়, তখন কলা গাছের সারির মাঝে মরিচের চারা রোপণ করে দেয়। কলার সাথী ফসল হিসেবে সেই মরিচের গাছ থেকেও ফলন পেতে শুরু করেছি। এবছর আমার দু একর জমিতে ১১৫০ টি সবরি কলার গাছ ছিলো। এর মধ্যে ২০০ টি গাছ ভাইরাসজনিত রোগে নষ্ট হয়ে যায়। এবছর কলার বাজার দরও খুব ভালো পেয়েছি।

কারন হিসেবে বলেন, একদিকে কলার চাষ হয়েছে কম অন্যদিকে চাহিদা থাকায় বাইরে থেকে অনেক কলার ব্যাপারি এসে আমার জমি থেকে কলা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। আমি এবছর গড় ৪শত পঞ্চাশ টাকা হিসেবে ৯৫০ কলার কাধি বিক্রি করেছি ৪ লক্ষ ২৭ হাজার ৫ শত টাকায়। এক প্রশ্নের জবাবে কৃষক পিন্টু মিয়া বলেন, যখন দেখলাম কলা চাষে লোকসানের মুখে পড়ে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তখন নিজে নিজেই পরিকল্পনা করলাম কিভাবে লোকসান কাটিয়ে কলা চাষ টিকিয়ে রাখা যায়। তখনই মাথায় পরিকল্পনা আসলো যে, কলার সাথী ফসল হিসেবে কোন কোন ফসলের চাষ করা যায়। ভেবে দেখলাম কচু একটি লাভজনক চাষ আর ছোটজাতের গাছ হয় এটা কলার কোন ক্ষতি করতে পারবেন না। আবার মরিচ একটু ছাঁয়াযুক্ত স্থানে বেশ ভালো হয়। তাই আমি কলার সাথী ফসল হিসেবে কচু ও মরিচের চাষ বেচে নিয়েছি। এতে আমি বেশ সফলতাও পেতে শুরু করেছি।

খলিশাকুন্ডি গ্রামের তারুন কৃষক মিদুল মিয়া বলেন, পিন্টু চাচার এমন চাষ পদ্ধতি বেশ লাভজনক। কারন হিসেবে বলেন, একই সাথে তিনটা ফসল চাষ করা যাচ্ছে। এতে করে যেকোন একটি ফসলে লোকসান হলেও অন্য ফসলে লাভ করে পুষিয়ে নেওয়া যাবে। তাই আমিও এবছর চাচার থেকে সবরি কলার ৩৬০ টা চারা নিয়ে আমার কচুর জমির মধ্যে রোপণ করেছি।

ভবানীপুর গ্রামের কৃষক মোমিন, ছাত্তার বলেন এটা অবশ্যই একটা লাভজনক চাষ ও অনুসরনীয়। খলিশাকুন্ডি গ্রামের কৃষক তারা মিয়া, চন্টু মিয়া, নাসির মিয়াও এবছর কচু, মরিচের সাথী ফসল হিসেবে কলার চাষ বৃদ্ধি করেছেন। কলার চাহিদা ও বাজার দর ভালো থাকায় ঐ অঞ্চলে কলা চাষের সম্প্রসারন হচ্ছে। কৃষক পিন্টু মিয়া কলার চারা বিক্রি করে আরও একটি বাড়তি আয়ও করছেন বলে জানিয়েছেন। জমির সদ্বব্যবহারে কৃষক পিন্টু মিয়া দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কৃষকদের মাঝে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *