মেসির সাহায্যে ৫০ হাজার ভ্যাকসিন পাচ্ছেন লাতিন ফুটবলাররা



আলো ডেস্ক

করোনাকালে অসহায়দের সাহায্যার্থে মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করেছেন। নিজ দেশ আর্জেন্টিনায় স্বাস্থ্য খাতেও দান করেছেন, দিয়েছেন চিকিৎসা সরঞ্জাম। সম্প্রতি পেলের এক ক্লাবের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড ভাঙার বুটজোড়াও নিলামে তুলেছেন, যা থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যয় হবে শিশু স্বাস্থ্য খাতে। এবার আরও এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন লিওনেল মেসি। করোনা মহামারিতে দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম। প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ করোনার ভ্যাকসিন। মহাদেশের ফুটবলাররাও আছেন ঝুঁকিতে। তাদের কথা চিন্তা করেই এবার ৫০ হাজার করোনার টিকার ব্যবস্থা করে দিলেন মেসি। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল কোপা আমেরিকা পরবর্তী আসর শুরু হওয়ার আগেই সব ফুটবলারকে করোনার টিকা দিতে চায়। এ কারণে সম্প্রতি চীনা ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি সিনোভেকের সঙ্গে তাদের একটি চুক্তিও হয়েছে। সিনোভেকের পরিচালকরা টিকার বিনিময়ে মেসির স্বাক্ষরিত বার্সেলোনার তিনটি জার্সি চেয়েছেন। জানা গেছে, ছয়বারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফরোয়ার্ডের বড় ভক্ত চীনা কোম্পানিটির পরিচালকরা। মেসি খুশিমনেই তাদের আবদার মিটিয়েছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’। আর পুরো বিষয়টির পরিকল্পনায় ছিলেন উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট লুইস লাকাল্লে পৌর। আগামী জুন ও জুলাইয়ে আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়ায় বসার কথা কোপা আমেরিকার পরবর্তী আসর। এর আগেই মহাদেশের প্রথম বিভাগের লিগগুলোর সব পুরুষ ও নারী ফুটবলারদের সিনোভেকের টিকা দেবে কনমেবল। কনমেবলের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা গঞ্জালো বেয়োসো টুইটারে মেসির স্বাক্ষরিত জার্সির ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘সিনোভেকের শীর্ষ কর্মকর্তারা লিওনেল মেসির ভক্ত, যিনি তাদের জন্য আমাদের কাছে তিনটি জার্সি পাঠিয়েছে ধন্য করেছেন। আমরা কোপা আমেরিকা শুরুর আগেই সব ফুটবলারকে করোনার টিকা দিতে চাই। ’ এদিকে পরিকল্পনা বড় ধাক্কা খেয়েছে ব্রাজিল সরকারের তরফ থেকে। ব্রাজিলের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বেসরকারিভাবে আমদানি করা টিকা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যুক্ত করতে হবে। তাদের আরও দাবি, চীনা টিকা এখনও ব্রাজিলে প্রয়োগের পূর্ণ অনুমতি পায়নি। তবে অনুমতি পেলেও আগে সাধারণ মানুষের কাজে লাগাতে হবে।
অবশ্য চীনা টিকা নিয়ে অনেক দেশেই বিতর্ক আছে। দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রায় ৫৩টি দেশে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। মূলত দাম তুলনামূলক কম এবং সংরক্ষণ সহজ হওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই টিকার প্রচলন বেশি। কিন্তু অনেক গবেষণায় দাবি করা হয়, চীনা টিকার এক ডোজ মাত্র তিন শতাংশ এবং দুই ডোজ মাত্র অর্ধেক ক্ষেত্রে কার্যকর।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *