রমজানে কাঁচাবাজারে আগুন



কুমারখালী প্রতিনিধি

লকডাউন ও পবিত্র মাহে রমজান ঘিরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আগুন লেগেছে কাঁচাবাজারে। মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে বেগুন, পটল, আঁদা, শশা, টমেটো, ঝিঙা, ঢ্যাঁড়শ সহ প্রায় সকল সবজিতে কেজি প্রতি দাম বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। কাঁচাবাজারের এমন লাগামহীন দামে দিশেহারা হয়েছে নিম্ন আয়ের ও শ্রমজীবি মানুষ। এদিকে বাজার স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটারিং করছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার (এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে কুমারখালী পৌর টবাজারে সরেজমিন গিয়ে খুচরা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, পটল আকার ভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ২০ টাকা, শশা ৪০ থেকে ৬০ টাকা, ঝিঙা ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৫০ টাকা, আঁদা ১০০ টাকা কেজি। অথচ রমজানের আগে কেজি প্রতি বেগুন ছিল ৩০ টাকা, পটল ৩০, টমেটো ১০ থেকে ১২ টাকা, শশা ২৫ থেকে ৩০, আঁদা ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, ঝিঙা ৪০ টাকা কেজি। তবে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে আলু, মরিচ, রসুন,বরবটি, গাঁজর, লেবু, শাক, ওস্তা। আলু প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়, মরিচ ২৫ থেকে ৩০ টাকায়, রসুন ৫০ টাকায়, বরবটি ৬০ টাকায়, গাঁজর ২৫ টাকায়, ওস্তা ৭০ টাকায়। এছাড়াও পিঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। নাজনা’র দাম ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। এবিষয়ে খুচরা ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, লকডাউনে যানবাহন বন্ধ থাকায় মাল আসছেনা। ফলে বেশি টাকায় কিনে বেশি টাকায় বিক্রি করছি। তিনি আরো বলেন, বেগুন আজ ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, তবে দ্বিতীয় রোজায় ৭০ টাকা আর প্রথম রোজায় ৮০ টাকায় বিক্রি করেছিলাম। আরেক ব্যবসায়ী মুসা খন্দকার বলেন, লকডাউন ও রমজানে সবজির দাম কেজিতে ১০ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। হেলাল স্টোরের প্রোপাইটর ইয়াসিন বলেন, কাঁচাবাজারে একটু দাম বাড়লে বাজারে আসা ভ্যান চালক লতিফ বলেন, কাঁচাবাজারে আগুন। লকডাউনে আয় নেই, কিন্তু জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে প্রচুর। চা বিক্রেতা হামিদুল বলেন, কাঁচা বাজারে লাগামহীন পণ্যের দাম। ১০০ টাকায় ব্যাগ ভর্তি কাঁচা বাজার হলেও রমজানে আর হচ্ছেনা। নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন কলেজ শিক্ষক বলেন, লকডাউন ও রমজান পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। নিয়মিত বাজার মনিটারিং হওয়া দরকার। এব্যাপারে কুমারখালী টবাজারের সাধারন সম্পাদক রাজু আহমেদ বলেন, লকডাউনে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় আমদানি কম হচ্ছে। আর এর প্রভাব পড়ছে বাজারে। তিনি আরো বলেন, নিয়মিত বাজার মনিটারিং করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান মুঠোফোনে বলেন, নিয়মিত বাজার মনিটারিং করা হচ্ছে। প্রতিবারই রমজানের প্রথম দিকে একটু দাম বেড়ে যায়। এবারও তাই। তবে আশা করছি খুব দ্রুতই ঠিক হয়ে যাবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *