রাজনৈতিক নেতাদের আসামী বানানোর অভিযোগ!



=কুমারখালীর কয়াতে তৌকির হত্যা =

কুমারখালী প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে তৌকির নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে মাদকাসক্ত এক তরুন ও তার বোন। গত শনিবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে কয়া ইউনিয়নের মালিথাপাড়া আবাসনে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় তাৎক্ষনিক হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দুজনকে আটক করে ওইদিনই কুমারখালী থানা পুলিশে সোপার্দ করেন স্থানীয়রা। পরেরদিন রোববার নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ১৫। কিন্তু মামলায় ঘটনার সাথে জড়িত নয় এমন ব্যক্তিদের আসামী করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আসামীর স্বজনরা বলছে, হত্যার সাথে জড়িতরা গ্রেফতার হয়েছে। তারা আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন। অথচ মামলায় রাজনৈতিক নেতাদের ফাঁসানো হয়েছে,যা প্রতিহিংসামূলক। মামলার ইজাহার সুত্রে জানা যায়, ১ নং আসামী হামিদুল হক তিনি কয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি।
হামিদুলের স্বজনরা বলেন, হত্যাকান্ডের সাথে প্রত্যেক্ষভাবে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে। অথচ এর বাইরে মূল আসামীদের সাথে প্রতিহিংসামুলকভাবে আরো সাতজনকে আসামী বানানো হয়েছে। নোংরা রাজনীতিতে জড়ানো হয়েছে মামলাটি।
ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী আবাসনের বাসিন্দা সামছুল আলম বলেন, কাঁচা সবজি নিয়ে সেসময় যাচ্ছিলাম। একটু দুর থেকে দেখি মেয়েটি তৌকিরকে ধরে রেখেছে। আর ছেলেটি কোপাচ্ছে। আমি এসময় দৌড়ে এসে ঠেকানোর চেষ্টা করি। পরে অনেক মানুষ এসে তাদের আটক করে। তিনি আরো বলেন, সেদিন ঐ সময় নিহত ব্যক্তি, ওরা দুই ভাই বোন আর আমি ছাড়া কেউ ছিলো না।
আবাসনের সভাপতি বলেন, চেঁচামেচি শুনে দৌড়ে এসে বিল্লুকে বেঁধে ফেলি ও তার বোনকে আটক করে পুলিশে খবর দিই। ঘটনায় ওরা দুজন ছাড়া আর কেউ জড়িত নয়। নিহত যুবক কয়া আবাসনের মালিথাপাড়ার বাবলু মালিথার ছেলে তৌকির (২৫)। পেশায় সে ছিলো মোবাইল মেকার ছিলেন।
নিহতের চাচাতো ভাই শরিফুল ইসলাম জানান, কয়েকদিন পূর্বে উত্তর কয়া আবাসনের আজবাহারের ছেলে বিপ্লব ওরফে বিল্লু (২০) তৌকিরের কাছে মোবাইল মেরামত করতে দেয়। তৌকির মোবাইল মেরামত করে তাকে ফেরত দিলেও বিল্লু মোবাইল ফেরতের বিষয়টি অস্বীকার করে। এই ঘটনা নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকদিন যাবত গন্ডগোল চলছিল। এটাকে কেন্দ্র করে শনিবার মাগরিবের নামাজের পর বিল্লু ও তার বোন যুথি খাতুন তৌকিরের বাড়িতে এসে মোবাইল ফেরত চায় এবং গন্ডগোলের এক পর্যায়ে বিল্লু বটি দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে তৌকিরকে। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। তিনি আরো জানান বিল্লু মাদকাসক্ত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমুলক কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, মোবাইল ফেরত দেয়াকে কেন্দ্র করে তৌকির নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। থানায় মামলা হয়েছে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত নয়, এমন মানুষকে মামলার আসামী করার অভিযোগ উঠেছে এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, মামলার তদন্তে তাদের নাম উঠে এসেছে বলে তারা আসামী হয়েছে। এর বেশি তিনি কথা বলতে রাজি হননি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *