লকডাউনে পানির দামে মিলছে দুধ, তবু মিলছেনা ক্রেতা



কুমারখালী প্রতিনিধি

কঠোর লকডাউনে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে হোটেল গুলো বন্ধ। চলাচলেও রয়েছে বিধিনিষেধ। এতে পানির দামে মিলছে দুধ। তবুও দেখা মিলছেনা ক্রেতার। চলমান লকডাউনে দুগ্ধ ব্যবসায়ী ও খামারিদের পড়েছে মাথায় হাত। তৈরি হচ্ছে না দুগ্ধজাত পদার্থও। উৎপাদন প্রচুর হলেও সরবরাহ না থাকায় নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার লিটার দুধ। সরবরাহের অভাব ও গৃহপালিত পশুদের পর্যাপ্ত খাবার দিতে না পারায় রাস্তায় দুধ ফেলে প্রতিবাদ জানাল দুগ্ধ ব্যবসায়ী ও খামিরা। গতকাল রোববার দুপুরে জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হাসিমপুর বাঁধে এঘটনা ঘটে। জানা গেছে, উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের দয়ারামপুর গ্রামের প্রায় প্রতিটা বাড়িতেই রয়েছে ছোট বড় দুগ্ধখামার। এই গ্রাম থেকেই দুগ্ধ পদার্থের মধ্যে ছানা, দুধের ক্রীম, দই, ঘী, মাখনসহ তরল দুধ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মিষ্টির দোকান গুলোতে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু চলমান লকডাউনের কারণে মিষ্টির দোকান গুলো বন্ধ। এতে চরম বিপাকে পরেছে দুগ্ধখামারী ও ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগাম টাকা দিয়ে খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করতে হয়। লকডাউনে দুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় পুঁজি হারাতে বসেছি। প্রতিদিন চুক্তি অনুযায়ী ঠিকই খামার থেকে দুধ সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কিন্তু সরবারাহের কোন জায়গা না থাকায় প্রতিদিনই দুধ থেকে ক্রীম বের করে অবশিষ্ট দুধ পুকুরে বা নদীতে ফেলতে হচ্ছে। মিষ্টি দোকানীরা বলছেন, দুধ যেহেতু উৎপাদনমুখী পণ্য। তাই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মত যদি মিষ্টির দোকান খুলে দেওয়া হত, তাহলে অন্তত দুগ্ধ ব্যবসায়ী ও খামারিদের লোকসান গুনতে হত না। অপরদিকে খামারিরা বলছেন, প্রতিদিনই দুধ উৎপাদন হচ্ছে। ব্যবসায়ী ছাড়াও অসংখ্য সাধারণ মানুষ দুধ কিনতে আসে। অনেকে সরাসরি মিষ্টির হোটেলও দিত। কিন্তু লকডাউনে হোটেল বন্ধ। আর সাধারণ মানুষও আসতে পারছেনা। ফলে বেচাবিক্রি বন্ধ। খামারিরা আরও বলেন, বিক্রি বন্ধ থাকলেও গাভীকে খাবার দিকে হয়। আর দুধের দাম না থাকলেও খাবারের অনেক দাম। তাই খাবারও চাহিদা মত কেনা হচ্ছেনা। ফলে দুধ ও গাভী নিয়ে চরম কষ্টে আছি। জগন্নাথর ইউনিয়নের দয়রামপুর ঘোষপাড়ার খামারি লমন ঘোষ বলেন, খামারে ১৫০টি গাভী আছে। তন্মধ্যে ৮০ টি দুগ্ধ গাভী। প্রতিদিন প্রায় পাঁচশ লিটার দুধ হয়। কিন্তু লকডাউনে মিষ্টির দোকান বন্ধ। সরবরাহও বন্ধ। প্রতিদিনই নষ্ট হচ্ছে দুধ। তিনি আরো বলেন, দুধ বিক্রি না হওয়ায় গোখাদ্য কেনা হচ্ছে। ফলে গরু ও দুধ নিয়ে আমরা বিপাকে পড়েছি। চর মহেন্দ্রপুর গ্রামের আসাদুল বলেন, ১০ টি গভীর আছে। প্রতিদিনই ৮০ থেকে ৯০ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। লকডাউনে দুধ নিয়ে বিপাকে পড়েছি। দুধ বিক্রি না হাওয়ায় ফেলে দিয়েছি। দয়রামপুর ঘোষপাড়ার আনাই ঘোষ বলেন, নিজের পাঁচটি গাভী আছে। প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫৫ লিটার দুধ হত। কিন্তু খাবার দিতে না পারায় এখন ২০ থেকে ২২ লিটার দুধ হয়। তিনি আরো বলেন, খামারের পাশাপাশি দুধের ব্যবসা করি। হোটেল মালিকদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়েছি। কিন্তু হোটেল বন্ধ থাকায় তারা দুধ নিচ্ছেনা। ফলে নষ্ট হচ্ছে দুধ। বাড়ির গাভীর দুধ বিক্রি না হাওয়া ফেলে দিচ্ছি। কুমারখালী স্টেশন বাজারের প্রসিদ্ধ রমেশ দুধি ভান্ডারের প্রোপাইটর সুদাং ঘোষ বলেন, প্রায় ৩০ জন খামারীর কাছ থেকে দুধ নিয়ে থাকি। হোটেল বন্ধ থাকায় দুধ নিতে পাচ্ছিনা। গোখাদ্য কেনার টাকাও দিতে পারছিনা। দুধ নিয়ে খামারী ও ব্যবসায়ীরা বিপদে আছেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা নুরে-আলম সিদ্দিকী বলেন, উপজেলাতে ২ হাজার ২৪১ টি খামার আছে। মোট গাভীর সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৬২ হাজার। বাৎসরিক উৎপাদন ২৩ লাখ ৪৫ হাজার লিটার দুধ। ইতিমধ্যে ডি,এল,ও স্যারের মাধ্যমে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটিকে জানানো হয়েছে যে, দুগ্ধজাত পদার্থকে নিত্য-প্রয়োজনীয় দ্রব্যের আওতায় এনে দ্রুত মিষ্টির দোকান গুলো যেনো খুলে দেওয়া হয়। মিষ্টির দোকান খোলা থাকলে এমন সমস্যা হবেনা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *