লাগামহীন মৃত্যু’র মিছিলে যোগ হলো আরো ৭ জন


কুষ্টিয়ায় নতুন আক্রান্ত ৯৫, অধিকাংশ সদরে

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা সংক্রমণের দিক থেকে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেলার তালিকায় প্রথম কুষ্টিয়া। জুন মাসে পুরোটাই কুষ্টিয়ায় করোনা দাপট ছিল। অস্বাভাবিক হারে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ার কারণে কুষ্টিয়ায় আশঙ্কাজনক হারে করোনা সংক্রমণের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু। বিশেষ করে ঈদের পর থেকে এই সংক্রমণের হার বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে আরও ৭ জন মারা গেছেন। ২২৯ নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৪১.০৫ শতাংশ। গতকাল শুক্রবার রাত ১০টায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও কুষ্টিয়া জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেলায় করোনা সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন ২২৫ জন। এ নিয়ে কুষ্টিয়ায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ২৮২ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৬৮৯ জন। আক্রান্তের ক্ষেত্রেও অধিকাংশ রোগী কুষ্টিয়া শহরকেন্দ্রিক।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তাপস কুমার সরকার বলেন, হাসপাতালে বাড়ছে করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর চাপ। চাপ সামলাতে সবাইকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। যারা ভর্তি হচ্ছেন তাদের প্রায় প্রত্যেককেই অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হচ্ছে। কয়েক দিন থেকে হাসপাতালে করোনা রোগী ছাড়া আর অন্য কোনো রোগী ভর্তি নেয়া হচ্ছে না। অন্য রোগীদের পার্শ্ববর্তী ডায়াবেটিস ও আদ্বদীন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বলা হয়েছে।
এদিকে চলমান ৭ দিনের লকডাউনে মানুষকে ঘরে রাখতে মাঠে তৎপর রয়েছেন জেলা প্রশাসন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
গতকাল শুক্রবারে বর্ধিত লকডাউনে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন প্রবেশমুখে, সেনাবাহিনী,র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যদের কড়া পাহারা দিতে দেখা যায়।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের নিয়মিত করোনা আপডেট তথ্যনুযায়ী,গতকাল শুক্রবার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব ও এন্টিজেন টেস্ট মোট ২২৯ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরমধ্যে ৯৫ টি নমুনা পজিটিভ হয়। নতুন শনাক্ত হওয়ার রোগীর মধ্যে সদর উপজেলায় ৭৮ জন, কুমারখালী উপজেলায় ০৩ জন, মিরপুর উপজেলায় ০৫ জন, দৌলতপুরে ০১ জন, ভেড়ামারায় ০২ জন ও খোকসায় ০৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা ওয়ার্ডগুলোতে রোগীতে টইটম্বুর। হাসপাতালের আইসোলেশনে ২৬১ জনসহ রোগী চিকিৎসাধীন।
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিনে হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন ৮-১০ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে বর্তমান সময়ে সর্বোচ্চ শনাক্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড হচ্ছে। এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, জুনে করোনার দাপট বাড়বে, এমন একটা ধারণা পাওয়া গিয়েছিল। তবে এতটা হবে, সেটা কল্পনার বাইরে ছিল। মানুষকে সচেতন করা ছাড়া আর করোনা মোকাবিলার কোনো পথ নেই।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *