‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চায়’হেফাজত



আলো ডেস্ক

মামুনুল হক যখন রিমান্ডে মুখ খুলতে শুরু করেছেন, তখন তার দল হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিয়ে ভোররাতে আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণাকে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকার’ চেষ্টা হিসেবে দেখছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।
ধর্মের নামে নাশকতা চালানো এ সংগঠনকে ‘আর সুযোগ দেওয়া যাবে না’ মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, “হেফাজতের যারা মাদ্রাসা ও মসজিদকে কলঙ্কিত করেছে, মাদ্রাসা ও মসজিদের পবিত্রতা রক্ষায় তাদের আর ঢুকতে দেওয়া যাবে না।”
সোমবার দুপুরে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বালেন্দাতে ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ চিত্রকর্মের ‘শস্য কর্তন’ উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা নানক।
তিনি বলেন, বিএনপি, জামায়াত আর হেফাজত ‘একেক সময় একেক রূপ’ নেয়। হেফাজত নেতা জুনাইদ বাবুনগরী এবং মামুনুল হকদের ‘নতুন লেবাসেই’ তা প্রকাশ পেয়েছে।
“গতকাল মধ্যরাতে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভোররাতে ঘোষণা করা হয়েছে আহ্বায়ক কমিটি। মামুনুল হক যখন এক এক করে সব কিছু স্বীকার করতে শুরু করেছেন, তখনই কমিটি ভেঙে আবার নতুন কমিটি ঘোষণা করে শাক দিয়ে মাছ ঢেকেছেন।
“তাদেরকে এই শাক দিয়ে মাছ ঢাকার সুযোগ দেয়া হবে না। তাদের প্রতিহত করতে দেশের সকল মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে।”
শুরু থেকেই নানা কারণে বিতর্কিত সংগঠন হেফাজতে ইসলামের নেতারা গত বছরের শেষ দিকে ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতায় নেমে ফের আলোচনায় আসেন। সংগঠনটির নেতা মামুনুল হক ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন।
গতবছর শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পর হেফাজতের নতুন আমির হন জুনাইদ বাবুনগরী। নতুন কমিটিতে যুগ্ম মহাসচিবের পদে আসেন মামুনুল।
গত মাসের শেষ দিকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিরোধিতায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামে ব্যাপক তা-ব চালায় হেফাজতে ইসলাম।
এরপর মামুনুলসহ হেফাজতের ডজন খানেক কেন্দ্রীয় নেতাকে নাশকতা ও সহিংসতার বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, হেফাজত নেতারা নাশকতার বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিলেন, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল ‘রাষ্ট্রক্ষমতা’ দখল করা।
এই পরিস্থিতিতে রোববার মধ্যরাতে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করার ঘোষণা দেন সংগঠনের আমির জুনাইদ বাবুনগরী। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সোমবার ভোররাতে তার মামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর নেতৃত্বে হেফাজতের ৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়, যেখানে জুনাইদ বাবুনগরীও সদস্য হিসেবে আছেন।
হেফাজতকে প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বগুড়ার অনুষ্ঠানে বলেন, “এই প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। এই ধর্ম ব্যবসায়ীদের হাত থেকে আমরা বাংলাদেশকে রক্ষা করব। তারা যে কোনো নামেই আসুক না কেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিঘœ ঘটতে দেওয়া হবে না। আমরা তাদের প্রতিহত করব।
“এই ধর্ম ব্যবসায়ীরা করোনাভাইরাসের চেয়েও ভয়ঙ্কর। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের প্রতিহত করি।”
একাত্তরে যে ‘অশুভ শক্তি’ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছিল, তারাই এখন দেশকে সাম্প্রদায়িকতায় ঠেলছে মন্তব্য করে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, “দেশের উন্নয়নকে তারা বাধাগ্রস্ত করছে, তরুণ সমাজকে বিপথে নিচ্ছে, ধর্মের নামে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাধাগ্রন্ত করছে।
“তারা কখনও বিএনপি, কখনও জামায়াত, কখনও শিবির আবার এখন হেফাজতে ইসলামের নামে ফয়দা লোটার চেষ্টা করছে। ধর্মকে ব্যবহার করে এই হেফাজতিরা বিরাজনীতিকরণের মাধ্যমে রাজনৈতিক ফয়দা লোটার চেষ্টা করছে।”
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, “আজকে হেফাজতে ইসলামের নামে যারা বিরোধিতা করছেন, তারা মূলত জামায়াত-বিএনপির হেফাজতকারী। তারা ইসলামের হেফাজতকারী নয়, তারা ধর্মব্যবসায়ী। আমাদের লড়াই হচ্ছে এই শক্তির বিরুদ্ধে।
“মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের হত্যাকা- এবং ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলার পৃষ্ঠপোষকদের অনুসারীরাই আজকের বাবুনগরী-মামুনুল হক। এই হেফাজতিরা তারেক রহমানের এজেন্ডা বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যস্ত। আসুন এ সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।”
‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ জাতীয় পরিষদের আহ্বায়ক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের সভাপতিত্বে সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শ্যামল, কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ্র চন্দ, সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, সহ- সভাপতি ম. আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক কেএম মনোয়ারুল ইসলাম বিপুল, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক রাগিবুল হাসান রিপুসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *