শুনশুনি শাকের গুনাগুন



কৃষি প্রতিবেদক

বৈজ্ঞানিক নাম: গধৎংরষবধয়ঁধফৎরভড়ষরধ প্রচলিত নাম- শুষনি শাক, আবুল ঘাস, শুনশুনি শাক। শুষনি হলো জলজ ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ। ভারতসহ দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়া, চিন, মধ্য ও দক্ষিণ ইউরোপে শাক ও ভেষজ উদ্ভিদ হিসেবে শুষনি খুব পরিচিত। নরম কাণ্ডের এই লতানো উদ্ভিদটি জলাশয়ের পাড়ে বা ভেজা জায়গায় জন্মায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন সমতল এলাকার গ্রামে পাওয়া যায়। নিচু জমিতে, জলাভূমির কিনারে, ভেজা ও স্যাঁতস্যাতে জায়গায় বেশী জন্মে। বাংলাদেশের সর্বত্রই এ উদ্ভিদটি পাওয়া যায়।এই শাক খেলে খাবারের রুচি বাড়ে এবং পেটের গোলমাল বা বদহজম কমে। জনশ্রুতি রয়েছে যে শুষনি শাক খেলে ঘুম পায়। তাই নিদ্রাহীনতায় যাঁরা ভোগেন তাঁদের নিয়মিত শুষনি শাক খেলে কাজ দেয়। এর রস কাশি ও শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। শুষনির কাশি ও কফ নিরাময়কারী ভূমিকা বিজ্ঞানীদের দ্বারা প্রমাণিত। শাকের রস পরিমিত মাত্রায় গরম করে পান করলে শ্বাসকষ্ট দূর হয়। কাঁচা শাক বেটে জল ও চিনি মিশিয়ে নিয়মিত খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। শরীর জ্বালা করলে এই শাকের রস অথবা শাক বাটা সারা গায়ে মেখে তারপর গোসল করলে জ্বালা দুর হয়। এছাড়া নিয়মিত শুষনি শাক খেলে মাথার যন্ত্রণা, তীব্র মানসিক চাপ, গায়ে ব্যথা, পায়ের পেশির অনিয়ন্ত্রিত সংকোচন, বাত, জিভে ও মুখে ক্ষত, চর্মরোগ ইত্যদি দূর হয়। চোখের রোগ, ডায়াবেটিস ও ডায়েরিয়া নিরাময়ে শুষনি পাতার রস কার্যকর। সন্তান প্রসবের পর মায়েরা শুষনি শাক খেলে দুগ্ধক্ষরণ বাড়ে। সাপের কামড়ে শুষনি পাতার রস দিয়ে চিকিৎসা করার প্রচলিত রীতি রয়েছে। অনেকে শুষনী আর আমরুলি শাককে একই মনে করেন। আমরুল শাক থেকে শুষনি শাক পাতা আকারে বড়। তাছাড়া আমরুল লতানে ছোট গুল্ম উদ্ভিদ হলেও শুষনি সেরকমটি মোটেও নয়। আসলে শুষনি শাকে পাতা ৪ ভাজ, কিন্তু আমরুলি হলো ৩। আরেকটা পার্থক্য হলো শুষনী শাক টক স্বাদযুক্ত নয়, কিন্তু আমরুলি টক। এর বৈজ্ঞানিক নাম গধৎংরষবধ সরহঁঃধ সাবধানতা- এই শাক খেলে স্বাভাবিক সময়ের চাইতে একটু বেশি ঘুম হয়ে থাকে। অনেকের ক্ষেত্রে এই শাকে হওয়া স্পোর এলার্জি তৈরী করতে পারে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *