শুরু থেকেই নিম্ন মানের কাজের অভিযোগ সত্যি হলো !


=কুষ্টিয়া ওজোপাডিকোর প্রবেশ গেট=

বিশেষ প্রতিবেদক

কুষ্টিয়ায় গত চার মাস আগে থেকে শুরু হওয়া ওজোপাডিকো প্রবেশ গেটের উপরের লোহার ডেকোরেশন (১০ফিট লম্বা) ভেঙে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে হতাহতের কোন ঘটনা না ঘটলেও কাজের শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল কাজের মান নিয়ে। এদিকে এ ঘটনার দায় নিতে রাজি নন সংশ্লিষ্টরা। তারা একে অপরের কাঁধে দায় চাপানোর চেষ্টা করেন। জানা গেছে, কুষ্টিয়াসহ খুলনা বিভাগের চার জেলায় ওজোপাডিকোর মূল গেট নির্মাণের কাজ চলছে। কুষ্টিয়া ওজোপাডিকোর মূল গেটের কাজ শুরু হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসের শেষ সপ্তাহে। ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পলাশ এন্টারপ্রাইজ । গেটের সিংহভাগ কাজ ইতিমধ্যে শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের জুন মাসে তাদের কাজ বুঝে দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। ঠিকাদার সোহাগ জানান, প্রবেশ গেটের কাজ চলমান রয়েছে। এখনো কাজটি হস্তান্তর করা হয়নি। কিন্তু ওজোপাডিকো কুষ্টিয়ার কর্মকর্তাদের কারণেই প্রবেশ পথটি উন্মুক্ত করে দেয়্ াহয়েছিল। কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি বলেন, সে এই কাজটি খুলনার এক ঠিকাদারের থেকে কিনে করছেন। এ সময় সেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ঠিকাদারের নাম শুনলে চাপ নিতে পারবেন না বলে ফোন কেটে দেন। ওজোপাডিকোর প্রবেশ গেটের থাকা আনসার সদস্য জানান, হঠাৎই কোন রকম বাতাস বা ভূমিকম্প ছাড়াই উপরের লোহার ডেকোরেশন ভেঙে নিচে পরে যায়। অল্পের জন্য একজন বৃদ্ধলোক ও আমি বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী জানানম কাজের মান ভালো না হওয়ায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা বলেন, লোহার রডের তৈরি লম্বা ডেকোরেশন লাগানোর জন্য যে রয়েল বোল্ট ব্যবহার করা হয়েছে সেটি এতো ভারী একটি বস্তুর সাথে কোনোভাবে যায় না। গেটটি নির্মাণের শুরু থেকেই নিম্নমানের কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। বার বার কাজের মান নিয়ে অভিযোগ তুললেও তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। ওজোপাডিকো কুষ্টিয়ার আঞ্চলিক হিসাব ব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, এই কাজটি খুলনা থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তাই তেমন কোনো তথ্য জানা নেই বলে তিনি এসি ম্যাডামের সাথে যোগাযোগ করার জন্য বলেন। ওজোপাডিকো কুষ্টিয়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী(এসি) জাহান-ই-শবনম এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার জন্য বলেন। প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও ঝিনাইদহ ওজোপাডিকোর প্রকৌশলী মিজান বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে তার কথা হয়েছে। তাদের প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছে। শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে কাজটির বাজেট, সময়কাল এবং সমাপ্তির তারিখ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাগজ না দেখে এগুলো বলা সম্ভব হবে না। তিনি সাংবাদিকদের তার ঝিনাইদহে কার্যালয় যাওয়ার জন্য বলেন। সেখানে গেলে তিনি সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাবেন বলে জানান।


Leave a Reply

Your email address will not be published.