হিসনা নদী দখলমুক্ত করার নির্দেশ



দৌলতপুর প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে হিসনা নদী দখল করে কল্যাপুরী দরবার শরীফ নির্মান করার ঘটনায় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হিসনা নদী দখলমুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হিসনা নদী দখলমুক্ত করার এ নির্দেশ দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার, ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াছির আরাফাত, দৌলতপুর থানার ওসি নাসির উদ্দিন, দৌলতপুর উপজেলা প্রকৌশলী ইফতেখার উদ্দিন জোয়ার্দ্দার, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোনালী খাতুন, হোগলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা কাওছার আলী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং ভুক্তভোগী এলাকবাসী। এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের কল্যানপুর এলাকায় কল্যাপুরী দরবার শরীফের জায়গা সম্প্রসারণের জন্য স্থানীয় লোকজনের জমি জোরপূর্বক দখল ও হিসনা নদী ভরাট করে তা দখল করে নিয়েছে দরবার শরীফের লোকজন। এতে ভূক্তভোগীরা নিষেধ করলে দরবার শরীফের লোকজন তাদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। প্রাণনাশের ভয়ে ভূক্তভোগীরা নিরুপায় হয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে অভিযোগ দেন। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ পেয়ে এবং হিসনা নদী দখল করার অভিযোগে গতকাল ঘটনাস্থল সরোজমিনে পরিদর্শনে যান প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিগণ। পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের জমি দখল ও হিসনা নদী দখল করার সত্যতা পান। এসময় দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন ও দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ জরুরী ভিত্তিতে হিসনা নদী দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেন কল্যাপুরী দরবার শরীফের লোকজনদের। প্রশাসনের কর্মকতাদের নির্দেশ পেয়ে দরবার শরীফের লোকজন হিসনা নদী দ্রুততার সহিত দখলমুক্ত করবেন বলে জানান। কল্যাপুরী দরবার শরীফের লোকজনের হিসনা নদী দখল করার বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে হিসনা নদী দখলমুক্ত করার জন্য কল্যাপুরী দরবার শরীফের পীর সহ সংশ্লিষ্টদের নিদের্শ দেওয়া হয়েছে। তারা এ নির্দেশ মেনে হিসনা নদী দখলমুক্ত করার কথা জানিয়েছে। তবে এ নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরপর দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন, ভাইস চেয়ারম্যান সোনালী খাতুন আলেয়া ও দৌলতপুর উপজেলা প্রকৌশলী ইফতেখার উদ্দিন জোয়ার্দ্দার সহ উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা উপজেলার বৈরাগীরচর-ফিলিপনগর সড়ক নির্মান কাজ পরিদর্শন করেন। কাজের গুনগতমান দেখে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *