৪০টা দেশীয় খেঁজুর গাছ থেকে বছরে আয় অর্ধলক্ষ



ইজাবুল হক

শতভাগ নিরাপদ আয়ের নিশ্চয়তার নাম খেঁজুর গাছ! চুয়াডাঙ্গার সরোঞ্জন একালার বাগুন্দি, ধূতুরহাট, কুতুবপুর মামুতজুমা, শুম্ভুনগর, দত্তাইল গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা তাদের জমির পাশ দিয়ে বয়ে চলা সরকারি সড়কের দু’ধারে সারি সারি স্থানীয় খেঁজুর গাছ রোপণ করে পরিবারের নিরাপদ ফল, রস ও গুড়ের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়ের খুব ভাল পরিকল্পনা কাজে লাগিয়ে বাস্তবায়ন করে চলেছেন। স্থানীয় খেঁজুর গাছের রস, গুড় ও ফল শতভাগ নিরাপদ, অধিকতর পুষ্টি, ঔষধি গুণসম্পন্ন ও স্বাদে অতুলনীয় হওয়ায় প্রায় আমাদের সকলের কাছে খাদ্য তালিকায় অতি জনপ্রিয় স্থানেই নামটা বসিয়ে নিয়েছে। রস জ্বালিয়ে গুড় তৈরি করে মাটির পাত্রে সারা বছর সংরক্ষণ করে খাওয়া যায়। গুড়ি দিয়ে পাটালিও তৈরি করে থাকেন। যার বাজার রয়েছে বিশাল। খেঁজুর গাছ আমাদের দেশের জলবায়ু ও আবহাওয়ার সাথে শতভাগ নিজেকে খাপখায়ে কোন রুপ পরিচর্যা ছাড়াই বেড়ে উঠে ফল দিয়ে চলে। সেই হিসেবে ধরে নেওয়া হয় খেঁজুর আমাদের স্থানীয় ফল। আবহাওয়া ও জলবায়ুর সাথে মিল থাকায় খেঁজুর গাছের তেমন একটা ক্ষতিকর রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমন হয়না বললেই চলে। রস গুড় পাওয়ার জন্য বাড়তি কোন অর্থও লগ্নি করতে হয়না। ধূতুরহাট গ্রামের কৃষক মোস্তফা কামালের সাথে কথা বলে জানা যায়, সে এবছর তার ৪০ টি খেঁজুর গাছ থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকার গুড় তৈরি করে বিক্রি করেছেন। যা তার ১০০ ভাগ লাভজনক ও অনান্য ফসলের সাথী ফসল হিসেবে এটা বাড়তি ও নিরাপদ আয় ছিলো। আরও বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে আলাপকালে জানা যায়, খেঁজুর গাছের রস সংগ্রহ করতে তাদের কোন পরিচর্যা ও বাড়তি টাকা খঁরচ করতে হয়নি। তবে চাহিদা থাকলেও কুষ্টিয়া অঞ্চলে এখন পর্যন্ত খেঁজুর গাছের কোন বাণিজ্যিক বাগানের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে রাস্তার পাশে বাড়ীর আঙিনায় অল্প স্বল্প গাছের দেখা মেলে। এদিকে এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় জাত উন্নয়ন ও সম্প্রসারনের জন্য সরকারিভাবে কোন পরিকল্পনা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ কৃষকদের।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *