গণপূর্তের জায়গায় ভবন নির্মানের পাঁয়তারা করছে সড়ক ও জনপথ


কুষ্টিয়া আদালতে মামলা করার পরেও

নিজস্ব প্রতিবেদক

আদালতে মামলা চলার পরও অবৈধভাবে গণপুর্তের জায়গায় ভবন নির্মানের পাঁয়তারা শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ কুষ্টিয়া অফিসের কর্মকর্তারা। ইতিমধ্যে ভবন নির্মানের জন্য তারা দরপত্র আহবান করেছে। ৪ কোটি ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মানের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এদিকে যে স্থানে ভবন নির্মানের জন্য জায়গা নির্ধারন করা হয়েছে সেখানে বড় একটি বাগান রয়েছে। গাছ কেটে সেখানে ভবন নির্মানের জন্য লাল পতাকা সাটানো হয়েছে। তবে ভবন নির্মানের জন্য শহরের চৌড়হাসে তাদের আলাদা জায়গা রয়েছে। সেখানে প্রস্তাবিত সড়ক ভবনের সাইনবোর্ড দেওয়া আছে। গণপুর্ত অফিসের একটি সুত্র জানিয়েছে, কুষ্টিয়া শহরের পৌর এলাকায় সাদ্দাম বাজার মোড়ে গনপুর্তের কার্যালয়। অফিসটি পড়েছে কোর্টপাড়া এলাকার মধ্যে। যা কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। ক্যাম্পের পুরো জায়গার মালিক গনপুর্ত অধিদপ্তর। তবে প্রায় ২০ বছর আগে এ ভবনটি যোগাযোগ ও ভবন (সিএন্ডবি’র) ছিলো। তখন সড়ক ও জনপথ এবং গণপূর্ত এক সাথে ছিলো। পরে আলাদা হয়ে যায়। কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়া ছাড়াও চৌড়হাসে জায়গা রয়েছে। তবে এ জায়গা দুটি সংস্থার পাওয়ার কথা থাকলেও শুধুমাত্র সড়ক ও জনপথের নামে রেকর্ড হয়ে যায়। এতে তারা মালিক না হয়েও পরে মালিকানা দাবি করে। এ বিষয়ে গণপূর্ত অফিস থেকে রেকর্ড সংশোধনের মামলা করা হয়েছে। আর পুরো ক্যাম্পাসের সবই দখলে গনপূর্তের। চৌড়হাসে সড়ক ও জনপথের জায়গায় তাদের উপ-বিভাগীয় অফিস রয়েছে। সেখানে ভবন নির্মানের জন্য জায়গা নির্ধারনও করা হয় কয়েক বছর আগে। তারপরও সেখানে ভবন নির্মান না করে শহরের সাদ্দাম বাজার মোড়ে গণপুর্তের ক্যাম্পের মধ্যে ভবন নির্মানের জন্য দরপত্র দেয়া হয়েছে। এতে করে গণপুর্ত থেকে কুষ্টিয়ার সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি চলমান রয়েছে। মামলা চলমান থাকার পর সড়ক ও জনপথ গাছ কেটে গায়ের জোরে ভবন নির্মানের জন্য চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন,‘ সড়ক ও জনপথ যেখানে অফিস করছে সে অফিসটি আমাদের ছিলো। আমরা আমাদের ভনন তাদের জন্য ছেড়ে দিই। তারপরও আমাদের জায়গায় তারা ভবন নির্মানের জন্য দরত্র আহবান করেছে। আদালতে এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ভবন করার বিষয়টি ঠিক হবে বলে আমি করি না।’ এদিকে যেখানে ভবন নির্মান করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সেখানে একটি বাগান রয়েছে। বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। বাগানটির বয়সও প্রায় ৫০ বছর। ইতিমধ্যে গাছ কাটার জন্য লাল পতাকা টাঙ্গানো হয়েছে। চৌড়হাসে জায়গা থাকার পর বাগান উজাড় করে দিয়ে ভবন নির্মানের জন্য তারা উঠে^ পড়ে লেগেছে। এতে করে পরিবেশবাদীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এদিকে গাছ কাটার জন্য বন বিভাগের অনুমতির প্রয়োজন হলেও কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ থেকে এখনো কোন আবেদন করা হয়নি। তারা নিজেরায় গাছ মার্কিং করে কাটার পায়তারা করছে। যে আইনের সরসারি লঙ্ঘন। বিভাগীয় কর্মকর্তা ছালেহ মোঃ শোয়াইব খান বলেন, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ থেকে গাছ কাটার বিষয়ে কোন চিঠি আমার দপ্তরে আসেনি। ২০১১ সালের বন আইন অনুযায়ী যে কোন দপ্তরে গাছ কাটতে হলে বন বিভাগের অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি নিয়ে গাছ কাটা না গলে সেটা আইনসিদ্ধ হবে না বলে আমি মনে করি। বন বিভাগের একটি সুত্র জানিয়েছে, সড়ক ও জনপথ বারবার বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই কুষ্টিয়াতে গাছ কেটে নিচ্ছে। তারা রাজশাহী অফিসের দোহায় দিয়ে এসব অপকর্ম করে আসছে। এখানে একটি সিন্ডিকেট রয়েছে বলে জানা গেছে। যারা যোগসাজসে বারবার এসব গাছ কেটে নিচ্ছে বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া। এবারো প্রায় শতাধিক গাছ কাটার আয়োজন করেছে তারা। অনুমতি নেয়নি বন বিভাগের। সড়ক ও জনপথ রাজশাহী অফিসের গাছ লাগানো ও কাটার কোন ক্ষমতা নেই বলে ওই সুত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিরুল ইসলাম বলেন, পুরো ক্যাম্পাসের জায়গা আমাদের। সড়ক ও জনপথের নামে রেকর্ড। আমরা খাজনা পরিশোধ করে আসছি। ভবন করার জন্য কুষ্টিয়া পৌরসভা থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সরকার অর্থ বরাদ্দ করেছে। যে মামলার কথা গণপূর্ত বলছে এ মামলায় তারা কয়েকবার হেরেছে। পরে তারা আরেকটি মামলা করেছে। অন্যদিকে কুষ্টিয়ার পরিবেশবাদীরা তাদের চরম উৎকণ্ঠা ও উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেছেন। কুষ্টিয়ার পরিবেশ বিশ্লেষক গৌতম কুমার রায় বলেন, কুষ্টিয়াতেও ভবন নির্মানের জন্য আবার গাছ কাটার পাঁয়তারা চলছে। যা দুঃখজনক। এ থেকে সকলকে বেরিয়ে আসতে হবে। এতে গাঁছ বাঁচবে।’


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *